সিলেটে খোঁজ মিলছে না বিমানবন্দর কর্মকর্তার
১৪ জুলা ২০২৬, ১১:৩১ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:
সামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (সিএএবি) সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সহকারী নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. আরিফুল্লাহ জেলিন (২৬) নিখোঁজের ৭দিন পার হলেও এখনো তার কোনো সন্ধান মেলেনি।
জানা গেছে, গত ৮ জুলাই সন্ধ্যার পর বিমানবন্দরের আবাসিক এলাকার কোয়ার্টার থেকে বের হওয়ার পর থেকেই নিখোঁজ রয়েছেন আরিফুল্লাহ জেলিন। এরপর থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে এবং তিনি কর্মস্থলেও আর যোগ দেননি।
এ ঘটনায় ৯ জুলাই তার সহকর্মী ধনঞ্জয় কুণ্ডু সিলেট বিমানবন্দর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডির তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বিমানবন্দর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অর্জুন চৌধুরী।
পুলিশ জানিয়েছে, ছুটি শেষে বাড়ি থেকে ফিরে কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার কথা থাকলেও তিনি আর অফিসে আসেননি। প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকার আশপাশে তার সর্বশেষ অবস্থান শনাক্ত করা গেছে। এরপর থেকে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বন্ধ রয়েছে।
আরিফুল্লাহ জেলিনের বাড়ি ঠাকুরগাঁও জেলায়। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, তিনি বাড়িতেও ফেরেননি। তার সন্ধান পেলে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানিয়েছেন স্বজনরা।
সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক হাফিজ আহমদ বলেন, ‘এখন পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। তিনি নিখোঁজ হয়েছেন, নাকি অন্য কোনো কারণে কোথাও চলে গেছেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’
ঠাকুরগাঁও জেলার বাসিন্দা জেলিনের মা ফরিদা ইয়াসমিন জানান, গত ৭ এপ্রিল জেলিন ঢাকায় নতুন চাকরিতে যোগ দেন এবং পরবর্তীতে তাকে সিলেটে স্থানান্তর করা হয়। সিলেটে যোগ দেওয়ার পর কাজের অতিরিক্ত পরিশ্রমের কথা ছেলে প্রায়ই তাকে ফোনে জানাত। পরে ছেলের আবদারে মা গত ১৩ এপ্রিল সিলেট আসেন এবং ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে ১৫ এপ্রিল গ্রামের বাড়ি ফিরে যান। ছুটি কাটিয়ে গত ৭ জুলাই জেলিন পুনরায় সিলেটে তার কর্মস্থলে ফেরেন। পরদিন ৮ জুলাই সকালে মা ফোন করলে তার রুমমেটরা জানান জেলিন ঘুমে আছে। পরে বেলা ১১টার দিকে আবার ফোন দিলে জানানো হয় যে, সে বেডে নেই, হয়তো ছাদে গেছে। এরপর থেকে ছাদে বা আশপাশে খুঁজেও তার আর কোনো সন্ধান মেলেনি।
ফরিদা ইয়াসমিন আরও জানান, ছেলে নিখোঁজের পর থেকে তার সন্ধান দেওয়ার নামে ফোন করে ইতোমধ্যে একটি প্রতারক চক্র ২০ হাজার টাকা নিয়ে গেছে। এরপর আরেকটি নম্বর থেকে আবার ৩০ হাজার টাকা দাবি করা হলে ছেলের সঙ্গে কথা না বলানোর কারণে তিনি আর টাকা দেননি।
এর পরপরই সিরাজগঞ্জ থানার এসআই পরিচয় দিয়ে অপর একজন ফোন করে জেলিনের রক্তের গ্রুপসহ বিভিন্ন তথ্য জানতে চান এবং দ্রুত ৫ হাজার টাকা পাঠাতে বলেন। পরবর্তীতে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সেই ফোনটিও ছিল প্রতারক চক্রের এবং খবরটি সম্পূর্ণ ভুয়া।
এই সংবাদটি পড়া হয়েছে : 1K বার