জকিগঞ্জের নিখোঁজ রাজনের মরদেহ যেভাবে পাওয়া গেল

Daily Ajker Sylhet

দৈনিক আজকের সিলেট

১৩ জুলা ২০২৬, ১১:৩৯ পূর্বাহ্ণ


জকিগঞ্জের নিখোঁজ রাজনের মরদেহ যেভাবে পাওয়া গেল

জকিগঞ্জ সংবাদদাতা:
সিলেটের জকিগঞ্জের মাহবুব সারওয়ার রাজন (২৫)-এর মরদেহ হবিগঞ্জ থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি জকিগঞ্জ পৌর এলাকার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের গন্ধদত্ত গ্রামের আবুল কালাম (কালু মিয়া) এর ছেলে।

রোববার (১২ জুলাই) রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে রাজনের ছবি দেখে শনাক্ত করে তার পরিবার। পরে শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে পুলিশ হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার মিরপুর ইউনিয়নের দাশপাড়া এলাকার রেল লাইনের পাশ থেকে রাজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সরকারি একটি চাকরির পরীক্ষায় অংশ নিতে রাজন ঢাকায় গিয়েছিলেন। শুক্রবার পরীক্ষা শেষে তিনি উপবন এক্সপ্রেস ট্রেনে সিলেটের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন বলে পরিবারকে জানান। এরপর থেকে তার সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। পরিবারের সদস্যরা একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও ফোনটি বন্ধ পান।

নিহতের বড় ভাই মাহবুব হাসান মুন্না জানান, রাজনের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার পর পরিবার উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতাও নেওয়া হয়। রোববার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে তারা জানতে পারেন যে, হবিগঞ্জের বহুবল উপজেলার মিরপুর ইউনিয়নের দাশপাড়া এলাকায় একটি ঝুপড়ি ঘর থেকে স্থানীয়রা দুপুরের দিকে একটি মরদেহ উদ্ধার করেছেন। পরে মরদেহটি রাজনের বলে শনাক্ত করা হয়।

নিহতের চাচা কামরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, রাজনের মৃত্যু কীভাবে হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিতভাবে কিছু জানা যায়নি। পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গেছেন মরদেহ গ্রহণের জন্য। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

তিনি আরও জানান, রাজনের সঙ্গে দীর্ঘ সময় যোগাযোগ করতে না পেরে রোববার দিনের বেলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা চাওয়া হয়। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, রাজনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের সর্বশেষ অবস্থান রাত ২টা ৩০ মিনিটে হবিগঞ্জের বহুবল এলাকায় শনাক্ত করা হয়েছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে ধারণা করা হচ্ছে, ওই সময়ের মধ্যে তার সঙ্গে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে।

পারিবারিক সূত্রে আরও জানা গেছে, মাহবুব সারওয়ার রাজন প্রায় আট মাস আগে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তার আকস্মিক ও রহস্যজনক মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

এ বিষয়ে জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, নিহতের পরিবারের মাধ্যমে ঘটনাটি জেনেছি। প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করা হবে।

এদিকে, এ ঘটনায় শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার তদন্তভার গ্রহণ করেছেন শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই (নি.) মো. রাশেদ পারভেজ ছায়িম।

তিনি জানান, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনসহ অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনার মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করা হবে। ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে : 992 বার