সিলেটে যেভাবে মানুষ পা চা র করতেন ‘রেনু’
০৮ সেপ্টে ২০২৬, ০৭:৪৩ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক :
নাম রেনু বেগম (২৮)। তিনি সিলেট মহানগরীর শাহপরাণ (রহ.) থানাধীন মীরেরচক এলাকার রুবেল মিয়ার স্ত্রী। দেখতে গ্রামের সহজ-সরল সাধারণ মহিলাদের মতো হলেও তার কার্যকলাপ ছিল ভিন্ন। রেনু বেগম ও তার স্বামীর রুবেল মিয়ার ছিল বড় একটি সিন্ডিকেট। আর এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে তারা দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বিভিন্ন কৌশলে লোকজন নিয়ে এসে বিদেশে পাচার করতো। সম্প্রতি মহানগর পুলিশের একটি অভিযানে একজন নারী ও চার জন পুরুষ এবং তিন জন শিশুসহ ৮জনকে বিদেশে পাচারকালে রেনুকে গ্রেফতার করা হয়।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৫টার দিকে সিলেট মহানগর পুলিশের শাহপরাণ (রহ.) থানার একদল চৌকশ পুলিশ সদস্যরা তাকে গ্রেফতারের পর রেনুকে জিজ্ঞাসাবাদে এই তথ্য সামনে আসে।
গ্রেফতারের পর পুলিশের কাছে মানবপাচারের সকল বর্ণনা দিয়ে রেনু জানান, শুরুতে রেনু বেগম ও তার স্বামী এবং তাদের সিন্ডিকেটের সহযোগীরা মিলে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বিভিন্ন কৌশলে লোকজনকে সংগ্রহ করতেন। পরে সিলেট মহানগরীর শাহপরাণ (রহ.) থানাধীন মীরেরচক এলাকায় তাদের বাড়িতে রাখেতেন। পরবর্তীতে সময়-সুযোগ বুঝে সুবিধামতো করে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে অবৈধভাবে তাদের বিদেশে পাচার করা হতো। রুবেল ও রেনু দম্পতির অবৈধ পাচারচক্রের এই কাজ চলছিল দীর্ঘদিন থেকে। কামিয়েছেন বেশ ভালো অঙ্কের টাকাও। সম্প্রতি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাদের এই আস্তানায় মহানগরীর শাহপরাণ (রহ.) থানাধীন মীরেরচক এলাকায় হানা দেয় পুলিশ। তখন তাদের আস্তানা থেকে বিদেশে পাচারকরার জন্য নিয়ে আসা একজন নারী ও চার জন পুরুষ এবং তিন জন শিশুসহ ৮জনকে উদ্ধার করে পুলিশ। এই সময় মানবপাচার সিন্ডিকেটের হোতা রেনু বেগমকে গ্রেফতার করা হয়। এসময় তার স্বামী রুবেল মিয়াসহ সিন্ডিকেটের অন্যান্য সদস্যরা পালিয়ে যান।
এই ঘটনার পরে মহানগরীর শাহপরাণ (রহ.) থানায় ‘মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬ এর ৭/৮/১০ ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলা নং-০৬, তারিখ-০৩/০৯/২০২৬ খ্রিঃ।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মো. মনজুরুল আলম বলেন, ‘গ্রেফতারকৃত আসামিকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। পলাতক আসামিদের গ্রেফতার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য আসামীদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান ও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
এই সংবাদটি পড়া হয়েছে : 1K বার