নাটক কম করেন প্রিয়: প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে নাহিদ ইসলাম
১৯ জুলা ২০২৬, ১২:২৭ অপরাহ্ণ

স্টাফ রিপোর্টার:
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উদ্দেশ করে বলেছেন, গণঅভ্যুত্থানের সময় আমাদের একটি স্লোগান ছিল, ‘নাটক কম করো প্রিয়’। প্রধানমন্ত্রীকে বলছি, নাটক কম করেন প্রিয়।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ আপনাকে ক্ষমতা দিয়েছে, এর অর্থ এই নয় যে জনগণের সঙ্গে ইচ্ছামতো ছলনা-প্রতারণা করা যাবে।
শনিবার (১৮ জুলাই) বিকেলে বরিশালের হেমায়েত উদ্দিন কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্য জোটের বিভাগীয় সমাবেশে বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী অনেক ভালো ভালো কথা বলেন। কিন্তু বাস্তবে গণভোটের রায়ের আলোকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রীর মুখে মধু, অন্তরে ছলনা। কারণ যেই গণভোট ও জুলাই সনদের পক্ষে তিনি ‘হ্যাঁ’ এর প্রচারণা করেছেন, নির্বাচনের পর ৭০ শতাংশ মানুষ সংস্কারের পক্ষে রায় দেওয়ার পরও তিনি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করছেন না। অথচ মুখে বলছেন, জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা হবে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা এখনো হরতাল-অবরোধের মতো কঠোর কোনো কর্মসূচি দিইনি। তবে যেকোনো সময় এ ধরনের কর্মসূচি দেওয়ার প্রস্তুতি আমাদের রয়েছে। আমরা এই মুহূর্তে এমন কর্মসূচির পক্ষে ছিলাম না। কিন্তু সরকার এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ক্রমশ সেই পরিস্থিতির দিকে দেশকে ঠেলে নিয়ে যাচ্ছেন।
তিনি বলেন, বরিশালের পর দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় কর্মসূচি চলবে। সর্বশেষ ঢাকায় মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে সরকার যদি গণভোটের রায়ের আলোকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করে, তাহলে গণআন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থানের পথে যেতে বাধ্য হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
তিনি বলেন, সংবিধান সংস্কারের নামে কোনো প্রহসন মেনে নেওয়া হবে না। প্রয়োজন হলে নতুন সংবিধান প্রণয়ন এবং নতুন গণপরিষদ নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
বরিশালের কর্মসংস্থান প্রসঙ্গ তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন, বিএনপি তাদের নির্বাচনি ইশতেহারে ১৮ মাসে এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু পাঁচ মাসে সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন হয়নি। বরং ছাত্রদল, যুবদল ও কৃষকদলের চাঁদাবাজি বেড়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। সাধারণ মানুষের জন্য কোনো কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়নি বলেও দাবি করেন।
তিনি বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়ন, সীমান্ত ব্যবস্থার সংস্কার, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি নির্মূল, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব এবং গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের মতো আবারও জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নের দাবিতে এ বিভাগীয় সমাবেশের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
এই সংবাদটি পড়া হয়েছে : 995 বার