“দুর্নীতি বিষয়ক মন্ত্রনালয় গঠন করা সময়ের দাবী”
১৭ মে ২০২৬, ০১:৫১ অপরাহ্ণ

এডভোকেট মোঃ আমান উদ্দিন:
ঘুষ, দুর্নীতি নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার। প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিরা মুখোশ পরে লুকিয়ে এসব বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন। বাধ্য হয়ে সাধারণ জনগণকে প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিদের ব্যবসায়ে অংশগ্রহন করিতে হয় । যদি সক্রিয় সহযোগীতা করতে সাধারণ জনগণ ব্যর্থ হন, তাহলে নানাবিধ আইনি পদক্ষেপ নিতে দেখা যাচ্ছে কর্তৃপক্ষকে। ভেবেছিলাম ২০২৪ এর গন অভ্যুথানের পর হয়ত এসব দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের খবর দারী কমবে। জনাব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আমার মনের কথাটি তুলে ধরেছেন। পূর্বে যেখানে ঘুষ দিতে হত ১ (এক) লক্ষ টাকা, বর্তমানে দিতে হচ্ছে ৫ (পাচঁ) লক্ষ টাকা ।
সিলেট কর আইনজীবি সমিতির এক সদস্য হিসাবে প্রায় ১৫ থেকে ১৬ বছর অনিয়মের (প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিদের) চিত্র দেখেছি। চিত্র দেখে অবশেষে বাধ্য হয়ে ট্যাক্স অফিসে ট্যাক্স সংক্রান্ত কাজে যাইনি। ট্যাক্স অফিসের বাস্তব চিত্র হল সাধারণ জনগণকে অডিট কথাটি ব্যবহার করে চিটি প্রদান করা হল। চিটির প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগের পর কৌশলি কথাবার্তা শুরু হল। শুনে সাধারণ জনগণ রাজি হয়ে গেলো। সরকারী কোষাগারে জমা দিতে হবে ১% এবং অবশিষ্ট ৯৯% টাকা সংশ্লিষ্ট কর্তা ব্যক্তিদের গোপনে প্রদান করতে হইবে। নতুবা আইন খড়গ নেমে আসবে ঐ ব্যক্তির উপর। এভাবে সতর্ক করে দেন দাতাকে।
জাতীয় পরিচয় পত্রঃ
জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধন সাধরণ জনগণের মরনফাদ। যখন এ মরনফাদটির কার্যক্রম ১/১১ এর সরকার গ্রহন করে তখন কে জানে এ ব্যধিতে আক্রান্ত হযে কত লোক অকালে ঝরে যাবে। শিক্ষিত, অল্পশিক্ষিত বা অশিক্ষিত জনগণকে প্রশাসনের কর্থা ব্যক্তিদের সর্তকতা অবলম্বন না করে বিভিন্ন তথ্য দিয়েছেন। অনেক ক্ষেত্রে প্রশাসনের সেই ব্যক্তি সাধারণ জনগণের অজান্তে বিভিন্ন তথ্য লিপিবদ্ধ করেছেন। পারিবারিক তথ্য মোতবেক সঠিক ভাবে এনআইডি কার্ড সংশোধন করিতে চাইলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে খুশি আর রাজি করা ছাড়া কোন অবস্থাতেই সংশোধন করা সম্ভব নহে। বাধ্য হয়ে সাধারণ জনগণ সরাসরি বা এজেন্টের মাধ্যমে কর্তা ব্যক্তিকে ম্যানেজ করে নিতে হবে। তাও আবার কোনো ভাংতি টাকা নহে। লক্ষ লক্ষ টাকা দিলে দালিলিক প্রমান ছাড়াই সংশোধন হয়ে যাবে। অথবা স্ব প্রনোদিত হয়ে সেই কর্তা ব্যক্তি নিজেই প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র তৈরী করে সরকারী আইন মেনে সাধারণন জনগণের কাজটি সম্পাদন করে দিয়ে ঐ লোকটিকে শাসিয়ে বলবে বাহিরে যেন কাউকে কিছু না বলেন। সাধারণ জনগণ কর্তা ব্যক্তিদের উপর অজাচিত কোন অভিযোগ দিলে উর্ধ্বতন কর্মকর্তা চাইবেন উপযুক্ত প্রমানাদি দেওয়ার জন্য। ঘুষের কি প্রমান রাখার সুযোগ আছে ?
যেমন: নির্বাচন কর্মকর্তা বা তাহার নিযুক্তিয এজেন্ট প্রথমেই জিঘাসা করিবেন, পাসপোর্ট, জন্ম সনদ, চেয়ারম্যান প্রত্যয়ন পত্র, হলফনামা, একাডেমিক সাটিফিকেট ইত্যাদি সহ অনলাইনে আবেদন করুন। আবেদন করার পর মেসেজ আসবে। পরবর্তীতে ঐ কর্তাব্যাক্তির সহযোগীতা চাইতে গেলে বলবেন মৃত্যু সনদ দেন তো। উত্তরে ঐ লোকটি বলবে আমি তো মরিনাই। কর্তাব্যক্তি বলবেন অফিসের নিয়ম মোতাবেক ঘুষ————-মৃত্যুর আগে সংশোধন হবে না।
সিলেট জেলার নির্বাচন কর্মকর্তা মঞ্জুরুল ইসলাম। দারুন ক্ষমতাধর ব্যক্তি। তাহার সাথে আমার ঘনিষ্ট নিকত্মায়ীয়কে নিয়ে রেমিটেন্স যুদ্ধা ভাইদের সহযোগীতা করতে তাহার কার্যালয়ে একাধিক বার যাই। আমার যাওয়াটা কিন্তু অপরাধ ছিল। ঐ রেমিটেন্স যুদ্ধাদের একা দেখা করে মঞ্জুরুল ইসলামকে ম্যানেজ করে আসলে আমার জানামত সাথে সাথেই কাজ হয়ে যাবে। যেমন কথা, তেমন কাজ। ঘুষের লেনদেনের সাথে সাথে ঐ রেমিট্যান্স যুদ্ধার কাজটি হয়ে গেল। খুশি হয়ে ঐ রেমিট্যান্স যুদ্ধা আমাকে বললেন, আপনার মত লোককে অফিস আদালতে না নেওয়াটাই ভাল। আমি লজ্জিত হয়ে বললাম, তোমার হয়ত কোটি টাকা আছে, অন্যের তো আর এসব টাকা পয়সা নেই। সেই লোকটি কি করিবে ? মঞ্জুরুল ইসলামকে সর্বশেষে ফোন দিয়ে বললাম ভাই আমার এক নিকটত্মীয়ের মাতার নামে আংশিক ভূল আছে। ঐ আত্মীয়ের সকল ভাই বোন ও মাতার এনআইডি কার্ড সংযুক্ত আছে। তাহার পাসপোর্টে মাতার নাম মাছুম আরা বেগম লিখিত আছে। শুধু ঐ রেমিটেন্স যুদ্দার এনআইডি কার্ডে মাছুম আরা লেখা। শুধু বেগমটি সংযুক্ত হবে। জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ঐ রেমিট্যান্স যুদ্ধার কাগজপত্র যাচাই বাছাইয়ের জন্য তদন্তে পাটালেন। অথচ রেমিট্যান্স যুদ্ধার মাতা সহ সকলের এনআইডি কার্ড আবেদনের সাথে সংযুক্ত আছে। শত শত ভুক্তভোগী রেমিটেন্স যুদ্ধারা পাসপোর্ট রিনিউ করতে হলে এনআইডি কার্ডে কিছু কিছু ভুল লক্ষনীয়। রেমিট্যান্স যুদ্ধাদের পূর্বের ৪/৫ টি পাসপোর্ট দেখানোর পরেও সংশোধন হচ্ছে না। এনআইডি কার্ড সংশোধনের ক্ষেত্রে আবার ক্যাটাগরি আছে। ক,খ,গ ক্যাটাগরি। অনেকে রসিকতা করে বলে থাকেন, ছোট চোর, মাঝারি চোর, বড় চোর। হলফ করে বলতে পারবো না চোর ছাড়া ও কিছু ভালো মানুষের উপস্থিতি নেই। নিশ্চয়ই ভাল মানুষ আছেন বলেই দুনিয়াটা টিকে আছে। যাহারা ঘুষ, দুর্নীতি, করতে চান, অবাধে, তাহাদের কাজ সহজ করার জন্য দুর্নীতি মন্ত্রনালয় খোলা সময়ের দাবী। সাধারন জনগণ সহজেই চিনে ফেললেন এ মন্ত্রনালয়ে গুরাগুরি না করে লেনদেনের মাধ্যমে সহজে সমাধান পাওয়া যায়। এ মন্ত্রনালয়ে নীতি বাক্য শুনিয়ে লাভ নাই। কথিত র্যামিটেন্স যোদ্ধা এফ ৪ ক্যাটাগরি ভিত্তিক আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার উদ্দেশ্য নিজে ও পরিবারের সদস্যদের পাসপোর্ট বানাতে হলে এনআইডি কার্ডের কিছু কিছু সংশোধনীয় জন্য দালালকে একাধিকবার টাকা দিয়েছেন এবং নিজেও চেষ্টা করেছেন। কর্তা ব্যক্তির চাহিদার আলোকে ওই টাকা ছিল অপ্রতুল। একাধিকবার টাকা দিয়ে ফেরৎ আনিলেও সর্বশেষ ফেরৎ আনার পর ঐ দিন রাত ৮ ঘটিকার সময় লোকটি চিরদিনের জন্য পরপারে চলে যান। হয়ত আমি একটি গঠনার স্বাক্ষী হলেও এমন অহরহ ঘটনা সমাজে বিরাজমান। সরকার চাইলে একাধিক অকর্মা ঘুষখোর দুর্নীতিবাজদের ব্যাতিরেখে যে ব্যক্তি নিজ দায়িত্বে হলফনামার মাধ্যমে যাবতীয় দায়িত্ব গ্রহণ করিলে তাহাকে কি সাধারন ক্ষমা ঘোষণা করে সংশোধন করা যায় না ?
উল্লেখ করা প্রয়োজন, হলফনামা সম্পাদনের জন্য জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দ্বারা হলফনামা সম্পাদন করিতে হয়। কিন্তু কর্তৃপক্ষ একটিবার কি ভেবে দেখেছেন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দ্বারা হলফনামা সম্পাদন অত্যন্ত দূর্লভ। কারন একদিন জমা দিতে হয় অন্যদিন নিয়ে আসতে হয়। অথচ দায় দায়িত্ব সম্পূর্ণ রূপে হলফকারীরর উপর বর্তায়। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসনের যে কোন ব্যক্তির সামনে হলফনামাটি সম্পাদনের ব্যবস্থা করিলে সেই দুর্দশা থেকে রেমিটেন্স যুদ্ধা বা সাধারন জনগণকে কি রক্ষার ব্যবস্থা করা যায় না ?
বিস্তারিত চোখ রাখুন ধারাবাহিক ভাবেই চলবে পর্ব ০১,
লেখক, সভাপতি-সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন), বিয়ানীবাজার, সিলেট। মোবাঃ ০১৮১৯-১৭৬২১৭
এই সংবাদটি পড়া হয়েছে : 1K বার