কানাইঘাটে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষ, আহত অর্ধশতাধিক
৩১ অক্টো ২০২৬, ০৬:০১ অপরাহ্ণ

কানাইঘাট প্রতিনিধি:
সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার বড়চতুল ইউনিয়নের কুড়ারপার গ্রামে এজমালী সম্পত্তি, মসজিদের হিসাব-নিকাশ ও নামাজ আদায়ে বাধা দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত অন্তত ২০ জনকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) জুমার নামাজের পর কুড়ারপার গ্রামের লামা মহল্লা মসজিদসংলগ্ন সড়কে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র, লাঠিসোঁটা ও ইটপাটকেল নিয়ে একে অপরের ওপর হামলা চালান। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে দফায় দফায় সংঘর্ষ চলে। খবর পেয়ে কানাইঘাট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে কানাইঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও জৈন্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে গুরুতর আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কুড়ারপার গ্রামের এজমালী সম্পত্তি এবং কুড়ারপার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের হিসাব-নিকাশ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এ ছাড়া গ্রামের লামা মহল্লা মসজিদে কয়েকটি পরিবারের সদস্যদের নামাজ আদায়ে বাধা দেওয়ার অভিযোগ নিয়েও দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছিল।
এ নিয়ে গ্রামের বর্তমান ইউপি সদস্য আব্দুল মুতলিব ও জামাল উদ্দিনের পক্ষের সঙ্গে একই গ্রামের আব্দুর রকিব বতাই, এনাম ও এবাদের পক্ষের বিরোধ চলছিল। এর আগে কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের হিসাব-নিকাশ নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছিল। ওই বিরোধের জেরে গ্রামবাসী দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েন বলে স্থানীয়রা জানান। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে মামলা-মোকদ্দমাও চলছে।
শুক্রবার আব্দুর রকিব বতাই, এনাম ও এবাদের পক্ষের লোকজন লামা মহল্লা মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করতে গেলে অপর পক্ষের লোকজন তাঁদের বাধা দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নামাজের পর দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
কানাইঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, গ্রামের দুই পক্ষের মধ্যে পূর্ববিরোধের জেরে সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কুড়ারপার ও আশপাশের এলাকায় পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। আহত ব্যক্তিরা চিকিৎসা নিচ্ছেন। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই সংবাদটি পড়া হয়েছে : 980 বার