মিষ্টির আসনে আজ মনোনয়ন চূড়ান্ত, আলোচনায় চার নেত্রী

Daily Ajker Sylhet

দৈনিক আজকের সিলেট

১৯ অক্টো ২০২৬, ১২:০১ অপরাহ্ণ


মিষ্টির আসনে আজ মনোনয়ন চূড়ান্ত, আলোচনায় চার নেত্রী

স্টাফ রিপোর্টার:
জাতীয় সংসদে বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসন-২৩ এর মনোনয়ন পাওয়ার জন্য ফরম জমা দিয়েছেন মোট ৬৮ জন। এদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন অন্তত এক ডজন নেত্রী। তবে জোর আলোচনায় আছে ৪ জন। যারা কেউ আগে সংসদ সদস্য ছিলেন, কেউবা বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্যের মেয়ে।

বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, ৬৮ জন মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আছেন তিনজন। তাঁরা হলেন যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সভাপতি মরহুম কমর উদ্দিনের মেয়ে সাবিনা খান।

বাবার মৃত্যুর পর বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। সিলেট-৬ আসনের বিএনপি সাবেক মরহুম সৈয়দ মকবুল হোসেনের মেয়ে সৈয়দ আবিদা হোসেন। তিনি বাবার উত্তরসূরি হিসেবে দল ইতিবাচকভাবে দেখছে। ঢাকা মহানগর বিএনপি নেতা সৈয়দ আবু বকর সিদ্দিক সাজুর স্ত্রী সৈয়দ সাবরিনা সিদ্দিকী।

সাজু গত নির্বাচনে দলের মনোনয়ন না পেলেও স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচন করে হেরেছেন। তবে মিরপুরের দারুস সালাম ও গাবতলী এলাকায় তাঁর শক্ত অবস্থান ও জনপ্রিয়তা রয়েছে। এ জন্যও তার স্ত্রীকে এগিয়ে রাখছেন কোনো কোনো নেতা।
অন্যদিকে মানবাধিকারবিষয়ক সম্পাদক সৈয়দা আসিফা আশরাফী পাপিয়া। তিনি আগেও সংরক্ষিত নারী আসনে এমপি ছিলেন।

পাপিয়ার স্বামী বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হারুনুর রশিদ। তাকে সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু জামায়াতের প্রার্থীর কাছে হেরে গেছেন। ফলে এই দুজনই এখন সংসদের বাইরে।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার বা রাড্ডা মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। ওই ঘটনার পর অভিযোগ ওঠে সংরক্ষিত নারী আসন-২৩-এর সংসদ সদস্য (মিরপুরের) ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির বিরুদ্ধে। পরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় ১ অক্টোবর তিনি পদত্যাগ করেন। ওই দিনই আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়।

জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের নির্বাচন আইন-২০০৪-এর ২৭ ধারা অনুযায়ী, সংসদ ভেঙে দেওয়া ছাড়া সংরক্ষিত কোনো নারী আসন শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে উপনির্বাচন করতে হবে। সে হিসাবে আগামী ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন হওয়ার কথা। নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে তফসিল ঘোষণা করেছে। ওই আসনের উপনির্বাচন হবে আগামী ১২ নভেম্বর। মনোনয়নপত্র জমার শেষ দিন আগামী ২৬ অক্টোবর, বাছাই ২৭ অক্টোবর এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন আগামী ১ নভেম্বর। বিএনপির পক্ষ থেকে যদি একজনকে মনোনয়ন দেওয়া হয় তাহলে কোনো ভোটের প্রয়োজন হবে না। কিন্তু যদি একাধিক প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হয় তাহলে সারা দেশে ভোটে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের ভোটারদের ভোটে নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করে বিএনপি। ওই ওই সংসদ সদস্যদের অনুপাতে সংসদে নারীদের জন্য সংরক্ষিত ৫০ আসনের মধ্যে বিএনপি পেয়েছে ৩৬টি আসন। বিএনপির গত ৩০ এপ্রিল ৩৬ জন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার গেজেট প্রকাশিত হয়। তারা শপথ নেন ৩ মে।

ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির পদত্যাগের পর বিএনপির জন্য বরাদ্দ হওয়া আসনটিতে শুধু এই দলটিই প্রার্থী মনোনয়ন দিতে পারবে। অন্য কোনো দল মনোনয়ন দিতে পারবে না। একই সঙ্গে বিএনপি যাকে মনোনয়ন দেবে তিনিই সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হবেন। যদি একাধিক প্রার্থী না থাকে। তবে নির্দিষ্টসংখ্যক আসনের বেশি প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়ার ঘটনা দেশে নেই।

গত শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিএনপির আগ্রহীরা প্রার্থীরা নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে মনোনয়ন ফরম ক্রয় করেন। যা পূরণ করে পরের দিন শনিবার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জমা দেন। প্রতিটি ফরমের দাম ৫ হাজার হাজার টাকা, আর প্রতিটি ফরম জমা দেওয়ার সঙ্গে আরো ৫০ হাজার টাকা জমা দিতে হয়। অর্থাৎ মনোনয়ন জমা দেওয়া প্রত্যেক সদস্যকে ৫৫ হাজার টাকা দিতে হয়েছে। এতে বিএনপির আয় হয়েছে ৩৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা। আর ফরম জমা না দেওয়া দুজনসহ দলটির আয় হয়েছে ৩৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

আজ বিএনপির পার্লামেন্টারি বোর্ডের সভা

বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আজ সংরক্ষিত ওই আসনের বিএনপির আগ্রহীদের মনোনয়ন দিতে দলের পার্লামেন্টারি বোর্ডের সভা বসবে আজ। যা রাজধানীর গুলশানের দলের চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হবে। সভায় সভাপতিত্ব করবেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই উপস্থিত থাকবেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। তারাই পার্লামেন্টারি বোর্ডের সদস্য। বোর্ড আগ্রহী প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নেবেন।

বিএনপির নেতারা বলছেন, একটি আসনের জন্য এত সংখ্যক নারী নেত্রী মনোনয়ন চাওয়ায় বাছাই করতে কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে। দল ক্ষমতায় থাকায় সংসদ সদস্য হতে আগ্রহীদের সংখ্যাও অনেক বেশি। তবে যারা ত্যাগী, বিগত সময়ে আন্দোলন সংগ্রামে ভূমিকা রেখেছেন, স্বচ্ছ ইমেজের, তাদেরকেই মনোনয়ন দেওয়া হবে। ওই একটি আসনের জন্য দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের অফিস ও বাসায় গিয়ে নিজের অবদান সম্পর্কে বলছেন। একই সঙ্গে তিনি কেন যোগ্য তাও তুলে ধরছেন। তবে জ্যেষ্ঠ নেতাদের মতামত ও দলের চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্তেই মনোনয়ন দেওয়া হবে।

বিএনপির একজন নেতা বলেন, মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত হবে দলের পার্লামেন্টারি বোর্ডের সভায়। এটা আমাদের দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী করা হয়। এর আগে সংসদ নির্বাচন ও সংরক্ষিত নারী আসনে এভাবেই মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না।

তবে মনোনয়ন ফরম নেওয়া অন্য নেত্রীদের মধ্যে থেকেও মনোনয়ন পেতে পারেন। মনোনয়ন ফরম জমা দেওয়া অন্য নেত্রীদের মধ্যে রয়েছেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শাহানা আক্তার সানু, আয়শা সিদ্দিকা মনি, সাবেরা আলাউদ্দিন হেনা, সিমকী ইমাম খান, মহিলা দলের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক শাহিনুর নার্গিস, স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক শাহিনুর বেগম, মহিলা দলের কেন্দ্রীয় মানব উন্নয়নবিষয়ক সম্পাদক খন্দকার ফারহানা আতিকা, ঢাকা মহানগর উত্তর মহিলা দলের সভাপতি রুনা লায়লাসহ আরো বেশ কয়েকজন।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে : 1K বার