অভিযোগ নয়, তৃপ্তি ও ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বদলে দিতে পারে মানুষের জীবন
০১ জুলা ২০২৬, ১১:২৪ পূর্বাহ্ণ

ধর্ম ডেস্ক:
মানুষের সাধারণ প্রবৃত্তি হলো নিজের না পাওয়াগুলো নিয়ে আক্ষেপ করা, অথচ যা আছে তার জন্য স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশে কার্পণ্য করা। আমরা অনেক সময় নিজের বর্তমান জীবন নিয়ে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করি, যা হয়তো অন্য কোনো মানুষের কাছে একটি আজন্ম লালিত স্বপ্ন। ইসলামি দর্শনে জীবন নিয়ে সন্তুষ্টি (কানায়াত) ও কৃতজ্ঞতা (শোকর) কেবল নৈতিক গুণ নয়, বরং আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের এক শক্তিশালী মাধ্যম। কৃতজ্ঞ হৃদয়ের জন্য আল্লাহ তার রহমত ও কল্যাণের পথ আরও প্রশস্ত করে দেন।
আজ যে বিষয়গুলো নিয়ে আপনার অভিযোগ, একটু ভিন্নভাবে ভাবলে তার সমাধান মিলতে পারে:
সম্পদ কম বলে কি আপনি বিষণ্ণ? তবে একবার চরম দারিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে দেখুন।
অতিরিক্ত কাজের চাপে কি আপনি ক্লান্ত? তবে একবার কর্মহীন মানুষের হাহাকার বোঝার চেষ্টা করুন।
সন্তানের অবাধ্যতায় কি আপনি বিরক্ত? তবে একবার নিঃসন্তান দম্পতির শূন্যতা অনুভব করুন।
বাবা-মায়ের শাসনে কি আপনি অতিষ্ঠ? তবে একবার এতিম বা অভিভাবকহীন মানুষের একাকিত্ব কল্পনা করুন।
মনে রাখা প্রয়োজন, আপনার অভিযোগের এই জীবনটাই হয়তো অন্য অনেকের জন্য এক পরম প্রাপ্তি।
কুরআনের নির্দেশনা
কৃতজ্ঞতা ও অকৃতজ্ঞতার পরিণাম সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা সুস্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন। সুরা ইবরাহিমের ৭ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে:
وَإِذْ تَأَذَّنَ رَبُّكُمْ لَئِنْ شَكَرْتُمْ لَأَزِيدَنَّكُمْ ۖ وَلَئِنْ كَفَرْتُمْ إِنَّ عَذَابِي لَشَدِيدٌ
‘আর যখন তোমাদের রব ঘোষণা করলেন— যদি তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর, তবে আমি অবশ্যই তোমাদের আরও বৃদ্ধি করে দেব। আর যদি অকৃতজ্ঞ হও, তবে নিশ্চয়ই আমার শাস্তি অত্যন্ত কঠিন।’
আল্লাহ তাআলা সুরা আল-বাকারার ১৫২ নম্বর আয়াতে আরও ইরশাদ করেন:
فَاذْكُرُونِي أَذْكُرْكُمْ وَاشْكُرُوا لِي وَلَا تَكْفُرُونِ
‘তোমরা আমাকে স্মরণ করো, আমিও তোমাদের স্মরণ করব। আমার প্রতি কৃতজ্ঞ হও এবং অকৃতজ্ঞ হয়ো না।’
হাদিসের শিক্ষা
পার্থিব বিষয়ে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি কেমন হওয়া উচিত, সে সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) এক অনন্য নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন:
انْظُرُوا إِلَى مَنْ هُوَ أَسْفَلَ مِنْكُمْ، وَلَا تَنْظُرُوا إِلَى مَنْ هُوَ فَوْقَكُمْ، فَهُوَ أَجْدَرُ أَلَّا تَزْدَرُوا نِعْمَةَ اللَّهِ عَلَيْكُمْ
‘তোমরা তোমাদের চেয়ে নিম্ন অবস্থার মানুষের দিকে তাকাও; তোমাদের চেয়ে উচ্চ অবস্থার মানুষের দিকে তাকিও না। এতে আল্লাহ তোমাদের যে নেয়ামত দিয়েছেন, তাকে তুচ্ছ মনে করার সম্ভাবনা কম থাকবে।’ (সহিহ বুখারি ৬৪৯০, সহিহ মুসলিম ২৯৬৩)
কৃতজ্ঞতা প্রকাশের আরেকটি দিক হলো মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা। এ প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন:
مَنْ لَا يَشْكُرِ النَّاسَ لَا يَشْكُرِ اللَّهَ
‘যে মানুষকে কৃতজ্ঞতা জানায় না, সে আল্লাহর প্রতিও প্রকৃত কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না।’ (সুনানে তিরমিজি ১৯৫৪)
প্রকৃতপক্ষে সুখ ও প্রশান্তি বিপুল সম্পদ বা উচ্চ পদমর্যাদার ওপর নির্ভরশীল নয়; বরং তা অর্জিত হয় আল্লাহর দেওয়া নেয়ামতের ওপর সন্তুষ্ট থাকার মাধ্যমে। তাই অভিযোগ পরিহার করে প্রতিদিনের প্রাপ্তিগুলোর কথা স্মরণ করে আল্লাহর শোকরিয়া আদায়ের অভ্যাস করা জরুরি। কৃতজ্ঞ হৃদয়েই কেবল প্রশান্তি ও বরকত লাভ সম্ভব। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সর্বাবস্থায় কৃতজ্ঞ বান্দা হিসেবে কবুল করুন। আমিন।
এই সংবাদটি পড়া হয়েছে : 991 বার