সাগর পথে গ্রিসে যাওয়ার সময় নিহতদের মধ্যে ৪ জন দিরাইয়ের

Daily Ajker Sylhet

দৈনিক আজকের সিলেট

২৮ মার্চ ২০২৬, ১১:৩৯ অপরাহ্ণ


সাগর পথে গ্রিসে যাওয়ার সময় নিহতদের মধ্যে ৪ জন দিরাইয়ের

স্টাফ রিপোর্টার:

উত্তর আফ্রিকা থেকে সাগরপথে ইউরোপে যাওয়ার পথে গ্রিসের উপকূলে বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি মারা গেছেণ বলে খবর পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে ৪ জন সুৃনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) গ্রিসের কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সীমান্ত ও উপকূলীয় রক্ষা বাহিনী ফ্রন্টেক্সের একটি জাহাজ গ্রিসের বৃহত্তম এবং ভূমধ্যসাগরের পঞ্চম বৃহত্তম দ্বীপ ক্রিটের কাছ থেকে ২৬ জনকে উদ্ধার করে।

কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে একজন নারী ও এক শিশুও রয়েছে।

উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে স্থানীয়রা জানিয়েছেন, একটি রাবারের নৌকায় অন্তত ২২ জন অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে। জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে ১৮ জনই বাংলাদেশি।

নিহত হওয়া বাংলাদেশিদের মধ্যে চারজনের পরিচয় জানা গেছে। তারা সকলেই সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার বাসিন্দা। নিহতরা হলেন উপজেলার তারাপাশা গ্রামের আবু সাঈদ সরদারের ছেলে নুরুজ্জামান সরদার ময়না (৩০), আব্দুল গণির ছেলে সাজিদুর রহমান (২৮), ইসলাম উদ্দিনের ছেলে শাহান মিয়া (২৫) এবং রনারচর গ্রামের আব্দুল মালেকের ছেলে মুজিবুর রহমান (৩৮)।

নুরুজ্জামান সরদার ময়নার মামা উমেদ আলী জানান, ওই নৌকায় থাকা একজন আমাকে ফোন করে ময়নার মৃত্যুর খবর জানিয়েছেন। ময়না ছাড়াও দিরাইয়ের আরও তিনজনসহ বেশ কয়েকজন বাংলেদেশি মারা গেছেন বলে ফোনে জানানো হয়েছে।

তিনি বলেন, দিরাই উপজেলার তারাপাশা গ্রামের মুজিবুর রহমান নামে একব্যক্তির সঙ্গে জনপ্রতি প্রায় ১২ লাখ টাকায় চুক্তি করে ময়নাসহগ নিহত অপর তিনজন লিবিয়া হয়ে গ্রিসে যাওয়ার উদ্যোগ নেন। চুক্তি অনুযায়ী বড় ও নিরাপদ নৌকায় করে যাত্রার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তাদের ছোট ও ঝুঁকিপূর্ণ নৌকায় তুলে দেওয়া হয়।

দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সনজীব সরকার রাত ১১ টায় সিলেটটুডেকে বলেন, গ্রীস যাওয়ার পথে সাগরে দিরাই উপজেলার চার জন মারা গেছেন। এরমধ্যে তিন জন কুলঞ্জি ইউনিয়নের ও একজন রাজানগর ইউনিয়নের। আমি স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়ে চারজনের মারা যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছি।

তিনি বলেন, ওই চারজনের সাথে কুলঞ্জি ইউনিয়নের আরও দুজন ছিলেন। তাদের মাধ্যমেই চারজন মারা যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

কোস্টগার্ডের ভাষ্য অনুযায়ী, নৌকাটি ২১ মার্চ পূর্ব লিবিয়ার তোবরুক বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করেছিল এবং গ্রিসের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। ছয় দিন ধরে খাবার ও পানীয় ছাড়াই সমুদ্রে ভাসতে থাকায় যাত্রীরা দিকভ্রান্ত হয়ে পড়েন। প্রতিকূল আবহাওয়া, খাদ্য ও পানির সংকট—সব মিলিয়ে চরম ক্লান্তিতে ২২ জনের মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় দুই সন্দেহভাজন দক্ষিণ সুদানের দুই পাচারকারীকে গ্রাপ্তার করেছে গ্রিক কর্তৃপক্ষ। তাদের বয়স যথাক্রমে ১৯ ও ২২ বছর। তাদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে দেশে প্রবেশ ও অবহেলাজনিত হত্যার অভিযোগে তদন্ত চলছে।

দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, নৌকাটি ক্রিটের দক্ষিণাঞ্চলের ইয়েরাপেত্রা শহর থেকে প্রায় ৫৩ নটিক্যাল মাইল দূরে অবস্থান করছিল।

স্থানীয়রা দ্রুত নিহত বাংলাদেশিদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে এ ঘটনায় জড়িত মানবপাচার চক্রকে চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, গত ২১ মার্চ লিবিয়ার তুবরুক উপকূল থেকে প্রায় ৫০ জন যাত্রী নিয়ে একটি ছোট নৌকা গ্রিসের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। যাত্রাপথে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। টানা ছয় দিন খাবার ও পানির অভাবে নৌকায় থাকা যাত্রীরা মানবেতর জীবনযাপন করেন। এ সময় অসুস্থতা ও অনাহারে কয়েকজনের মৃত্যু হলে মানবপাচারকারীরা তাদের মরদেহ সাগরে ফেলে দেয় বলে জানা গেছে।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে : 984 বার