রিকশাচালক নিহতের ঘটনায় রাতভর উত্তেজনা, থানা ও শপিং মলে হামলা-অগ্নিসংযোগ
১৬ মার্চ ২০২৬, ১১:৫৯ পূর্বাহ্ণ

স্টাফ রিপোর্টার:
রাজধানীর উত্তরায় এক রিকশাচালকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রাতভর নজিরবিহীন তাণ্ডব চালিয়েছে ব্যাটারিচালিত রিকশাচালকরা।
রোববার (১৫ মার্চ) রাতে শুরু হওয়া এই সহিংসতা ও দফায় দফায় সংঘর্ষে উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরসহ আশপাশের এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বর্তমানে এলাকায় বিপুল সংখ্যক দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
বিক্ষুব্ধ রিকশাচালকদের দাবি, রোববার রাতে উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরের ‘উত্তরা স্কয়ার’ শপিং মলের সামনে এক রিকশাচালককে পিটিয়ে হত্যা করেন ভবনের নিরাপত্তা প্রহরীরা।
অভিযোগ উঠেছে, নিহতের পর মরদেহটি আড়াল করার চেষ্টা করা হলে সাধারণ চালকরা বিষয়টি টের পেয়ে যান। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে কয়েকশ চালক একত্রিত হয়ে উত্তরা স্কয়ারে চড়াও হন।
একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা উত্তরা স্কয়ার শপিং মলে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। বিক্ষোভের রেশ ধরে চালকরা উত্তরা পশ্চিম থানায় গিয়েও হামলা চালায় এবং ভবনের সামনে রাখা যানবাহনে অগ্নিসংযোগ করে। পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ছোটাছুটি শুরু করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করলে এলাকাটি রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
রাতের উত্তেজনার রেশ সোমবার (১৬ মার্চ) সকালেও কাটেনি। রিকশাচালকরা উত্তরার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে করে উত্তরা হয়ে বিমানবন্দর ও টঙ্গীমুখী সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। রিকশাচালকদের দাবি, সহকর্মীকে হত্যার সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার করতে হবে।
পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে। অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। নিহতের প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে এবং তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে পুলিশের ওপর হামলা ও সরকারি সম্পদ নষ্ট করার বিষয়েও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
এই সংবাদটি পড়া হয়েছে : 1K বার