সিলেটে আজ নতুন প্রার্থী ও নবীন ভোটারদের উৎসবের দিন

Daily Ajker Sylhet

দৈনিক আজকের সিলেট

১২ ফেব্রু ২০২৬, ১২:৪০ পূর্বাহ্ণ


সিলেটে আজ নতুন প্রার্থী ও নবীন ভোটারদের উৎসবের দিন

স্টাফ রিপোর্টার:

সিলেটে আজ বৃহস্পতিবার নতুন প্রার্থী আর নবীন ভোটারদের উৎসবে মেতে ওঠার দিন। জেলার ৬টি সংসদীয় আসনে মুল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকা ১৩ প্রার্থীর মধ্যে প্রথমবারের মতো সংসদ নির্বাচন করছেন ৯ জন। বাকি ৪ জনের একবার করে আগে প্রার্থী হওয়ার অভিজ্ঞতা থাকলেও বিজয়ী হয়ে সংসদে যাওয়ার সুভাগ্য হয়নি কারও। নতুন প্রার্থীদের এই ভোটে জয়-পরাজয়ের নিয়ামক হয়ে ওঠেছেন নবীন ভোটাররা। জেলার দেড়লাখ নতুন ভোটার বিভিন্ন আসনের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। জেলার ৬টি সংসদীয় আসনে এবার ভোটযুদ্ধে অবর্তীণ হয়েছেন ৩৩ প্রার্থী। এর মধ্যে ২ জন স্বতন্ত্র ও বাকি প্রার্থীরা বিভিন্ন দলের। স্থানীয় ভোটারদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, ৬টি আসনের মধ্যে সিলেট-৫ আসনে দুই জোটের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী মামুনুর রশিদ (চাকসু মামুন)। আর বাকি ৫টি আসনে মুল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন বিএনপি ও জামায়াতের নেতৃত্বাধীন প্রার্থীরা।সিলেট-১ আসনে ৮ জন প্রার্থীর মধ্যে মুল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন বিএনপির খন্দকার আবদুল মুক্তাদির ও জামায়াতে ইসলামের মাওলানা হাবিবুর রহমান। দুই প্রার্থীই এর আগে একবার করে জাতীয় সংসদ নির্বাচন করেছিলেন। খন্দকার আবদুল মুক্তাদির সিলেট-১ ও মাওলানা হাবিবুর রহমান সিলেট-৬ আসন থেকে নির্বাচন করলেও বিজয়ী হতে পারেননি। এ আসনে ৬ লাখ ৬৮ হাজার ৫১৬ জন ভোটারের মধ্যে প্রথমবারের মতো ভোট দিবেন ৪০ হাজার ১৫০ জন। নতুন এই ভোটারদের ভোটপ্রদানের হার বেশি ও ফলাফলে বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।সিলেট-২ আসনে ৫ জন প্রার্থীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন বিএনপির তাহসিনা রুশদীর লুনা ও জামায়াত জোটের শরীক খেলাফত মজলিসের মুহা. মুনতাসির আলী। এর মধ্যে ২০১৮ সালের নির্বাচনে মুনতাসির আলী নির্বাচন করলেও ভাল ফলাফল করতে পারেননি। আর একই নির্বাচনে লুনা মনোনয়ন জমা দিলেও তা বাতিল হয়ে যায়। আসনটিতে ৩ লাখ ৬৪ হাজার ৯৩ জন ভোটারের মধ্যে নতুন ভোটার রয়েছেন ২০ হাজার ৭ জন। স্বামী ইলিয়াস আলীর জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে আসনটিতে বড় ব্যবধানে এগিয়ে আছেন বিএনপির লুনা।

সিলেট-৩ আসনে ৬ জন প্রার্থীর মধ্যে লড়াই হবে বিএনপির মো. আবদুল মালিক ও জামায়াত জোটের শরীক বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মুসলেহ উদ্দিন রাজুর মধ্যে। ধানের শীষ ও রিকশা প্রতীকের দুই প্রার্থীই এবার প্রথমবারের মতো সংসদ নির্বাচন করছেন। জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি নতুন ভোটার রয়েছেন এ আসনে। আসনটিতে ৪ লাখ ৯ হাজার ৮৪৫ ভোটারের মধ্যে নতুন ভোটার ৪৩ হাজার ৩৬২ জন।

সিলেট-৪ আসনে মুল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকা বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীদের নির্বাচনের পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকলেও জাতীয় সংসদে একেবারেই নতুন। বিএনপি প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী এর আগে একবার সিলেট সিটি করপোরেশনের কমিশনার ও দুইবার মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হন। আর জামায়াতের জয়নাল আবেদীন দু’বার উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। স্থানীয় সরকারের সাবেক এই দুই প্রতিদ্বন্দ্বী এবার প্রার্থী হয়েছেন জাতীয় সংসদে। আসনটিতে ৫ লাখ ৮ হাজার ১১৬ জন ভোটারের মধ্যে এবার প্রথমবারের মতো ভোট দিবেন ২৭ হাজার ৫৩১ জন।

সিলেট-৫ আসনে এবার ভোটে নেই দুই জোটের নেতৃত্বাধীন দলের প্রতীক ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লা। দুই দলই আসনটি ছেড়ে দিয়েছে জোটের শরীক দলকে। বিএনপি জোট থেকে প্রার্থী হয়েছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক। আর জামায়াত জোটের প্রার্থী খেলাফত মজলিসের মুফতি আবুল হাসান। দুই জোটের প্রার্থীর সাথে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী মামুনুর রশিদ (চাকসু মামুন)।

এ তিন প্রার্থীর মধ্যে ২০১৮ সালের নির্বাচনে ওই আসনে বিএনপি জোট থেকে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করে পরাজিত হয়েছিলেন মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক। আর বাকি দুই প্রার্থী এবার প্রথমবারের মতো নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আসনটিতে ৪ লাখ ২০ হাজার ৮৩৫ জন ভোটারের মধ্যে নতুন ভোটার ৭ হাজার ৬৫৭ জন।

সিলেট-৬ আসনে হাড্ডহাড্ডি লড়াই হবে বিএনপির এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী ও জামায়াতের মো. সেলিম উদ্দিনের। দু’জনেরই সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অভিজ্ঞতা এই প্রথম। এ আসনে ১৬ হাজার ৭০০ নতুন ভোটারসহ মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৯৯ হাজার ৬০১ জন।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে : 1K বার