নির্বাচনে ২০৮ আসনে জয়লাভ করতে পারে বিএনপি জোট, জামায়াত জোট ৪৬টিতে

Daily Ajker Sylhet

দৈনিক আজকের সিলেট

০৯ ফেব্রু ২০২৬, ১০:২২ অপরাহ্ণ


নির্বাচনে ২০৮ আসনে জয়লাভ করতে পারে বিএনপি জোট, জামায়াত জোট ৪৬টিতে

স্টাফ রিপোর্টার:

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন জনমত জরিপ প্রকাশ করেছে গবেষণা সংস্থা এমিনেন্স অ্যাসোসিয়েটস ফর সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট (ইএএসডি)। সাড়ে ৪১ হাজার মানুষের মতামতের ভিত্তিতে করা এই জরিপে বলা হয়েছে, নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট প্রায় ২০৮টি আসনে জয়লাভ করতে পারে। জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোটের সম্ভাব্য আসন সংখ্যা ৪৬টি। এ ছাড়া জাতীয় পার্টি ৩টি, অন্যান্য দল ৪টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ১৭টি আসনে জয়ী হতে পারেন।সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনের থ্রিডি সেমিনার হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই জরিপের ফলাফল প্রকাশ করা হয়। ইএএসডির দাবি, এবারের নির্বাচন ঘিরে পরিচালিত জরিপগুলোর মধ্যে এটি সবচেয়ে বড় নমুনাভিত্তিক জরিপ।

জরিপের ফলাফল উপস্থাপন করেন ইএএসডির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম হায়দার তালুকদার। তিনি জানান, দেশের সব ৩০০ সংসদীয় আসনে প্রাইমারি স্যাম্পলিং ইউনিট (পিএসইউ) পদ্ধতিতে এই জরিপ পরিচালিত হয়েছে। ১৮ থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত ১৫০ জন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত তথ্যসংগ্রাহক মাঠপর্যায়ে কাজ করেন। মোট ৪১ হাজার ৫০০ জন উত্তরদাতার তথ্য ‘কোবো টুলবক্স’ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়।

সারা দেশে ২ হাজার ৭৬৬টি পিএসইউ নির্বাচন করা হয়। প্রতিটি পিএসইউ থেকে ১৫টি পরিবার এবং প্রতিটি পরিবার থেকে একজন যোগ্য উত্তরদাতার সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। গ্রামীণ এলাকায় ইউনিয়ন এবং শহরাঞ্চলে ওয়ার্ডকে ক্লাস্টার হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যাতে শহর ও গ্রামের সমান প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হয়।

মোট উত্তরদাতাদের মধ্যে পুরুষ ২৬ হাজার ৫৬০ জন (৬৪ শতাংশ) এবং নারী ১৪ হাজার ৯২২ জন (৩৬ শতাংশ)। ১৮–৩০ বছর বয়সী তরুণদের অংশগ্রহণ ছিল ৩৭ দশমিক ২ শতাংশ।

পেশাগত দিক থেকে সর্বোচ্চ ২১ দশমিক ৯ শতাংশ উত্তরদাতা ছিলেন ব্যবসায়ী। কৃষি ও গ্রামীণ শ্রমজীবী খাত থেকে অংশগ্রহণ ছিল ১৩ দশমিক ২ শতাংশ, গৃহস্থালি ও অনানুষ্ঠানিক খাত থেকে ১৯ দশমিক ১ শতাংশ এবং শিক্ষার্থী ছিলেন ১৪ দশমিক ৫ শতাংশ।

জরিপ অনুযায়ী, রাজনৈতিক পছন্দের ক্ষেত্রে ৬৬ দশমিক ৩ শতাংশ ভোটার বিএনপিকে ভোট দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে জামায়াতে ইসলামী (১১ দশমিক ৯ শতাংশ)। জাতীয় পার্টি পেয়েছে ৪ শতাংশ, স্বতন্ত্র প্রার্থী ২ দশমিক ৬ শতাংশ এবং এনসিপি পেয়েছে ১ দশমিক ৭ শতাংশ সমর্থন।

নারী ভোটারদের মধ্যে বিএনপির জনপ্রিয়তা বেশি—৭১ দশমিক ১ শতাংশ নারী ভোটার বিএনপিকে সমর্থন করছেন। অঞ্চলভিত্তিক হিসাবে চট্টগ্রাম (৭৬ দশমিক ৮ শতাংশ) ও সিলেটে (৭৫ দশমিক ৬ শতাংশ) বিএনপি জোটের শক্ত অবস্থান দেখা গেছে। অন্যদিকে বরিশাল (১৭ দশমিক ৮ শতাংশ) ও খুলনায় (১৮ দশমিক ৬ শতাংশ) জামায়াত জোটের তুলনামূলক শক্ত অবস্থান উঠে এসেছে।

জরিপে উঠে এসেছে, আগে আওয়ামী লীগে ভোট দেওয়া ভোটারদের একটি বড় অংশ এবার পরিবর্তনের পক্ষে। শামীম হায়দার তালুকদার জানান, আওয়ামী লীগের সাবেক ভোটারদের মধ্যে ৮০ শতাংশ এবার বিএনপিকে ভোট দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। ১৫ শতাংশ জামায়াতে ইসলামীকে এবং বাকি ৫ শতাংশ অন্যান্য দলকে সমর্থন জানিয়েছেন।

জরিপে অংশ নেওয়া ৬৬ দশমিক ৪ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, নির্বাচনের পর বিএনপি জোট সরকার গঠন করতে পারবে। একই সঙ্গে ২২টি আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হওয়ার সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে।

পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সমর্থন করেছেন ৬৮ শতাংশ উত্তরদাতা। জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের পক্ষে মত দিয়েছেন ১৪ শতাংশ এবং এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের পক্ষে মত দিয়েছেন ২ শতাংশ। এ বিষয়ে মত দিতে অনিচ্ছুক ছিলেন ১৬ শতাংশ।

জরিপ প্রকাশ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইএএসডির উপদেষ্টা কাজী সাইফউদ্দীন বেননূর। প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এ এস এম আমানুল্লাহ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শামসুল আলম সেলিম ও নাহরীন আই খান, ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুরের সহযোগী অধ্যাপক তৌফিক জোয়ার্দার এবং নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সাবেক সদস্য মীর নাদিয়া নিভিন।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে : 993 বার