শেখ হাসিনার ১০, টিউলিপের ৪, ববির ৭ বছরের কারাদণ্ড
০২ ফেব্রু ২০২৬, ০৩:৫১ অপরাহ্ণ

স্টাফ রিপোর্টার:
ক্ষমতার অপব্যবহার করে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে সরকারি প্লট বরাদ্দ নেওয়ার দুই মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৫ বছর করে ১০ বছর, তার ভাগনি শেখ রেহানার মেয়ে ও বিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিকের ৪ বছর, এক মামলায় ভাগনে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি ও তার বোন আজমিনা সিদ্দিক রূপন্তীর ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
আজ সোমবার দুপুরে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪-এর বিচারক রবিউল আলমের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।
এই মামলায় সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিনসহ ১৪ জনকে পাঁচ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একজনকে এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
রায়ে আসামিদের সবাইকে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে ববি ও রূপন্তীর নামে পূর্বাচলের দুই প্লটের বরাদ্দ বাতিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পাঁচ বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত অন্য ১২ জন হলেন—গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম সরকার, মন্ত্রণালয়ের সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব পূরবী গোলদার, অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন-২) মো. অলিউল্লাহ, সাবেক অতিরিক্ত সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন, দুদকের সাবেক চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান মিঞা, সাবেক সদস্য (উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ) তন্ময় দাস, সাবেক সদস্য (পরিকল্পনা) মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, সাবেক সদস্য (উন্নয়ন) মেজর (অব.) সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী, সাবেক পরিচালক (এস্টেট ও ভূমি) মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম, সাবেক পরিচালক (এস্টেট ও ভূমি-২) কামরুল ইসলাম, সহকারী পরিচালক (এস্টেট ও ভূমি) মাজহারুল ইসলাম এবং সাবেক উপপরিচালক (এস্টেট ও ভূমি) নায়েব আলী শরীফ। সাবেক সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) মোহাম্মদ খুরশীদ আলমকে এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
রায়ে যা বলা হয়েছে
আদালত রায়ে বলেছেন, শেখ রেহানার মেয়ে আজমিনা সিদ্দিকের রাজধানীতে আবাসন সুবিধা থাকা সত্ত্বেও তিনি মিথ্যা হলফনামা দাখিল করে রাজউকের প্লট বরাদ্দ নিয়েছেন। আর এই প্লট বরাদ্দে প্রভাব খাটিয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্লট বরাদ্দ প্রক্রিয়ার সকল আইন বিধিবিধান লঙ্ঘন করে ক্ষমতার অপব্যবহার করে শেখ হাসিনা তাঁর বোনের মেয়েকে প্লট বরাদ্দ দিতে রাজউককে প্রভাবিত করেছেন। তিনি ফৌজদারি অসদাচরণ করেছেন বলে সাক্ষ্যপ্রমাণে প্রমাণিত হয়েছে, অর্থাৎ ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে। শেখ রেহানা প্লট বরাদ্দ নিয়ে একই ধারায় ও দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় অপরাধ করেছেন। টিউলিপ সিদ্দিক বিদেশে থেকে ফোন করে তাঁর বোনের নামে প্লট বরাদ্দ নিতে প্রভাব খাটিয়েছেন বলে সাক্ষ্যপ্রমাণে প্রমাণিত হয়েছে। বোনের প্লট বরাদ্দে সহযোগিতার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাঁকে দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় সাজা দিয়েছেন আদালত। অন্য আসামিরা সরকারি কর্মচারী হয়ে সরকারি কর্মচারী আইন এবং বরাদ্দ-সংক্রান্ত আইন ও বিধিবিধান লঙ্ঘন করেছেন। তাঁরা সকলেই ফৌজদারি অসদাচরণ করেছেন বলে প্রমাণ হয়েছে। এঁদের সবাইকেও দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ও দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় সাজা দেওয়া হয়েছে।
শেখ হাসিনার বোন শেখ রেহানার মেয়ে আজমিনা সিদ্দিকের নামে ১০ কাঠা প্লট বরাদ্দ দেওয়ার অভিযোগে এ মামলা করা হয়। এতে শেখ হাসিনার পাশাপাশি তার বোন শেখ রেহানার আরেক মেয়ে যুক্তরাজ্যে লেবার পার্টির সাবেক মন্ত্রী ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক, আজমিনা সিদ্দিকসহ আসামি মোট ১৮ জন। এ মামলায় ১৭ আসামি পলাতক। মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে রাজউকের সাবেক সদস্য (ভূমি) মোহাম্মদ খুরশীদ আলম কারাগারে রয়েছেন।
মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়, সরকারের সর্বোচ্চ পদে থাকাকালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের ওপর অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহার করেন। বরাদ্দ পাওয়ার যোগ্য না হওয়া সত্ত্বেও অসৎ উদ্দেশ্যে পূর্বাচল আবাসন প্রকল্পের ২৭ নম্বর সেক্টরের ২০৩ নম্বর সড়কের ১টি প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে আজমিনা সিদ্দিকের নামে।
ইতোমধ্যে এ সংক্রান্ত চারটি মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। রায়ে শেখ হাসিনাকে ২৬ বছর এবং অন্য আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এই সংবাদটি পড়া হয়েছে : 1K বার