ভারতে আটক ৫ ট্রলারসহ ১২৮ বাংলাদেশিকে ফিরিয়ে আনলো কোস্ট গার্ড
২৯ জানু ২০২৬, ০২:৫২ অপরাহ্ণ

স্টাফ রিপোর্টার:
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান পারস্পরিক প্রত্যাবাসন ব্যবস্থার আওতায় ভারতে দীর্ঘকাল আটকে থাকা ১২৮ জন বাংলাদেশি মৎস্যজীবীকে স্বদেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বঙ্গোপসাগরে দুই দেশের আন্তর্জাতিক সমুদ্র সীমানা রেখায় এক বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাদের গ্রহণ করে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড।
প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এ সময় মৎস্যজীবীদের পাশাপাশি বাংলাদেশের মালিকানাধীন পাঁচটি ফিশিং বোট বা মাছ ধরার ট্রলারও হস্তান্তর করেছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। এই পদক্ষেপটি দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যকার মানবিক সম্পর্ক ও কূটনৈতিক সহযোগিতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
একই দিনে সৌজন্য ও আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বাংলাদেশে বিভিন্ন সময়ে অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে আটক থাকা ২৩ জন ভারতীয় মৎস্যজীবীকেও ভারতে ফেরত পাঠানো হয়েছে। হস্তান্তরের সময় ভারতের মালিকানাধীন দুইটি ফিশিং বোটও ভারতীয় কোস্ট গার্ডের কাছে বুঝিয়ে দেয় বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড।
বঙ্গোপসাগরের মধ্যবর্তী সীমানায় দুই দেশের কোস্ট গার্ডের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে এই মৎস্যজীবী ও ট্রলার বিনিময়ের কার্যক্রমটি সম্পন্ন হয়। এর ফলে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর দুই দেশের জেলেরাই আবার তাদের নিজ নিজ পরিবারে ফেরার সুযোগ পাচ্ছেন।
বিশাল এই প্রত্যাবাসন কার্যক্রমটি সফলভাবে সম্পন্ন করতে বাংলাদেশের একাধিক মন্ত্রণালয় ও সংস্থা দীর্ঘ সমন্বিত প্রচেষ্টা চালিয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সক্রিয় ভূমিকা পালন করে।
এ ছাড়া নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), বাংলাদেশ পুলিশ এবং স্থানীয় প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দপ্তরগুলো আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা নিরসনে একযোগে কাজ করেছে। মূলত সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে অসাবধানতাবশত সীমানা অতিক্রম করার কারণে এই মৎস্যজীবীরা একে অপরের দেশে আটক হয়েছিলেন।
উভয় দেশের সীমান্ত ও কোস্ট গার্ড বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এ ধরনের বিনিময় কর্মসূচি দুই দেশের সীমান্ত রক্ষায় নিয়োজিত বাহিনীর মধ্যে সৌহার্দ্য ও আস্থা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। ফিরে আসা বাংলাদেশি মৎস্যজীবীদের প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
আন্তর্জাতিক সমুদ্র সীমানায় মাঝেমধ্যেই বৈরী আবহাওয়ার কারণে মৎস্যজীবীরা দিকভ্রান্ত হয়ে অন্য দেশের জলসীমায় প্রবেশ করেন, যা রোধে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্বারোপ করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এই সংবাদটি পড়া হয়েছে : 987 বার