জকিগঞ্জে ইউপি চেয়ারম্যানকে পুলিশে সোপর্দ, ‘সমন্বয়ক’কে মারধর
১৫ জানু ২০২৬, ০৫:১৪ অপরাহ্ণ

জকিগঞ্জ সাংবদদাতা:
সিলেটের জকিগঞ্জে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভা থেকে মানিকপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুস শহীদকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করার অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনার জেরে কয়েক ঘণ্টা ইউএনও কার্যালয়ে অবস্থান নিয়েছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক ও ছাত্রদল নেতা জাফর আহমদ। তিনি জানান, ইউএনও এবং পুলিশের সামনেই তাকে মারধর করা হয়েছে।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় জকিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। সার্বিক পরিস্থিতিতে ইউএনও কার্যালয়ে রাত পর্যন্ত প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতাদের একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইউএনও মাসুদুর রহমান জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে একটি জরুরি সভা আহ্বান করেন। সভাস্থলে ছাত্র সমন্বয়ক ও ছাত্রদল নেতা জাফর আহমদের নেতৃত্বে কয়েকজন যুবক সেখানে উপস্থিত হন। তারা মানিকপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুস শহীদকে আওয়ামী লীগের নেতা আখ্যা দিয়ে প্রকাশ্যে হেনস্তা করেন। একপর্যায়ে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
ঘটনার খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে মানিকপুর ইউনিয়নের সাধারণ জনগণ মিছিলসহ উপজেলা পরিষদ চত্বরে জড়ো হন। এ সময় জাফর আহমদের সঙ্গে তাদের বাকবিতণ্ডা হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে পড়লে জাফর উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। সাধারণ মানুষও কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন।
উদ্ভুত পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাৎক্ষণিকভাবে প্রকল্প কর্মকর্তার কার্যালয়ে ইউএনও ও পুলিশ কর্মকর্তাসহ কয়েকজন জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠক চলাকালীন সময়ের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ২০২৪ সালের ৪ আগস্টের ঘটনায় দায়েরকৃত একটি মামলার বাদী জাফর আহমদ দাবি করেন ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুস শহীদ আওয়ামী লীগের নেতা।
তবে তার এ দাবির বিরোধিতা করে উপজেলা যুব জামায়াতের সভাপতি আবিদুর রহমান বলেন, আব্দুস শহীদ কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। তিনি আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাও নন এবং তার বিরুদ্ধে কোনো মামলাও নেই। ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে তাকে আওয়ামী লীগ ট্যাগ দিয়ে মব সৃষ্টি করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হলে তা অমঙ্গলজনক- বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে রাত সাড়ে ১০টার দিকে পুলিশের একটি দল প্রকল্প কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ছাত্রদল নেতা জাফর আহমদকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেয় বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় উপজেলাজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠেছে।
বৃহস্পতিবার আলাপকালে জকিগঞ্জ থানার ওসি (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) আব্দুর রাজ্জাক জানান, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুস শহীদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই। তাকে ৫১ ধারায় আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
এদিকে বুধবারের রাতের ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরে ছাত্র সমন্বয়ক ও ছাত্রদল নেতা জাফর আহমদ সিলেটভিউকে বলেন, শহীদ আমার দায়ের করা মামলার আসামী। তাছাড়া পুলিশের ডেভিলদের তালিকায়ও তার নাম ছিল। আমি একজন গ্যাজেটেড জুলাই যোদ্ধাও। সেখানে পুলিশ এবং ইউএনওর সামনেই তারা আমাকে মারধোর করেন। আমি এখন সিলেট শহরে চিকিৎসাধীন।
এদিকে ৫১ ধারায় শহীদকে বৃহস্পতিবার আদালতে সোপর্দ করা হলে তাকে জামিন দেওয়া হয়েছে বলেও আদালত সূত্রে জানা গেছে।
এই সংবাদটি পড়া হয়েছে : 997 বার