৪০ দিনের যুদ্ধে কার কতটা ক্ষতি হলো

Daily Ajker Sylhet

দৈনিক আজকের সিলেট

১১ এপ্রি ২০২৬, ১১:২৪ পূর্বাহ্ণ


৪০ দিনের যুদ্ধে কার কতটা ক্ষতি হলো

নিউজ ডেস্ক:
৪০ দিনের ভয়াবহ যুদ্ধের আপাতত সমাপ্তি হয়েছে। কিন্তু যুদ্ধবিরতির মধ্যেই ইসরাইল এবং লেবাননের মধ্যে পালটাপালটি হামলা চলছে। এই যুদ্ধে কে জিতেছে এবং কে হেরেছে তা সঠিকভাবে জানা না গেলেও এর ক্ষতির পরিমাণটা যে ভয়াবহ তা প্রকাশ পাচ্ছে। এই ক্ষতি আরো বাড়বে কিনা তা জানা যাবে আজ থেকে পাকিস্তানে শুরু হওয়া সমঝোতা বৈঠক থেকে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইলের হামলা শুরু হয়। এরপর থেকে পালটাপালটি হামলা শুরু হয়। কেউ কাউকে ছাড় দেয়নি। অবশেষে গত ৮ এপ্রিল দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইল। যুদ্ধবিরতির ডধত্ উধসধমব.ফড়পঘোষণার পরই ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি সামনে আসতে শুরু করেছে। যদিও এর আগেও ক্ষয়ক্ষতির কিছু হিসাব পাওয়া যায়।

ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানে তিন হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। ইরানের ফরেনসিক মেডিসিন সংস্থার প্রধান আব্বাস মাসজেদি আরানির উদ্ধৃতি দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে দেশটির গণমাধ্যম। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) জানায়, যুদ্ধে গত ৭ এপ্রিল পর্যন্ত অন্তত ২৫৪ জন শিশুসহ ১ হাজার ৭০১ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে। যুদ্ধে প্রাণ গেছে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ শীর্ষ বিজ্ঞানী ও সামরিক কর্মকর্তাদের।

ইরানের বেসামরিক ও গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্টের বরাত দিয়ে আল-আরাবিয়া জানিয়েছে, ইরানের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১৪০ থেকে ১৪৫ বিলিয়ন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৮ লাখ কোটি টাকার সমান। ইরানের রেডক্রস সোসাইটির প্রধান পিরহোসেন কোলিভান্ড জানিয়েছেন, যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ১ লাখ ২৫ হাজার ৬৩০টি বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১ লাখ আবাসিক বাড়ি।

ইসরাইল ও মার্কিন হামলায় ২৩ হাজার ৫০০টি বাণিজ্যিক কেন্দ্র এবং ৩৩৯টি হাসপাতাল, ফার্মেসি ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র হামলার শিকার হয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৩২টি বিশ্ববিদ্যালয় ও ৮৫৭টি স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন ও ইসরাইলি হামলায় ইরানের চারটি প্রধান ব্যালিস্টিক মিসাইল উত্পাদন কেন্দ্র ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেই সঙ্গে ২৯টি মিসাইল উেক্ষপণ কেন্দ্র এবং ৫টি জ্বালানি সংরক্ষণাগারেও হামলা হয়েছে। অনেক ইরানি কর্মসংস্থান হারিয়েছেন এবং দেশটির বিদ্যুেকন্দ্র, বিমানবন্দর ও ব্রিজের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো অকেজো হয়ে পড়েছে।

আমেরিকার কতোটা ক্ষতি হলো
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এবং নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র সাতটি চালকসহ যুদ্ধবিমান এবং ২০টির বেশি এয়ারক্র্যাফট হারিয়েছে। নিজেদের ভুলেও কোটি কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। গত ২ মার্চ কুয়েতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ভুলবশত ছোড়া ক্ষেপনাস্ত্রের আঘাতে ৩টি ম্যাকডোনেল ডগলাস এফ-১৫ ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়। প্রতিটি এফ-১৫ ই যুদ্ধবিমানের দাম প্রায় ৯৭ মিলিয়ন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় প্রায় ১১ কোটি টাকা)। অর্থাত্ তিনটি যুদ্ধবিমানেই গেছে তিন হাজার ৩শ কোটি টাকার বেশি।

গত ২৭ মার্চ সৌদি আরবে ইরানি হামলায় ধ্বংস হয় অত্যন্ত ব্যয়বহুল একটি ই-৩ সেন্ট্রি আওয়াকস বিমান। এর দাম অন্তত ৩০০ মিলিয়ন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় তিন হাজার ৬শ’ কোটি টাকার বেশি)। এরপর গত এপ্রিল আরো একটি এফ-১৫ ই এবং দুটি এ-১০ থান্ডারবোল্ট ধ্বংস হয় ইরানের আঘাতে। গত ১৯ মার্চ ইরানের ক্ষেপনাস্ত্রের আঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়। এই বিমান তৈরি ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচ ৪৫ হাজার কোটি ডলারের বেশি। এছাড়া গত ৫ এপ্রিল ইরানে পাইলটকে উদ্ধার করতে গিয়ে দুটি লকহিড সি-১৩০ হারকিউলিস বিমান হারায় যুক্তরাষ্ট্র। প্রতিটি বিমানের মূল্য ১০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি (বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৩ কোটি টাকার বেশি)। যুক্তরাষ্ট্র দুটি বিমানের কথা স্বীকার করলেও মিলিটারি ওয়েবসাইট জানিয়েছে, ওইদিন যুক্তরাষ্ট্রের ১০ টি এবং ইসরাইলের একটি বিমান ধ্বংস হয়।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ বলছে, ১৯ মার্চের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ১২টি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন ধ্বংস হয়েছে। এর মধ্যে ৯টিকে সরাসরি গুলি করে নামিয়েছে ইরান। একটি ড্রোনের দাম প্রায় ৩০ মিলিয়ন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় চারশ’ কোটি টাকা)। বৃহস্পতিবার হরমুজ প্রণালীতে নজরদারি করার সময় যুক্তরাষ্ট্রের এমকিউ-৪সি ট্রাইটন ড্রোন হারিয়ে গেছে। এর দাম প্রায় ২০০ মিলিয়ন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় দুই হাজার চারশ’ কোটি টাকার বেশি)। সব মিলিয়ে যুদ্ধবিমানসহ অন্যান্য বিমান এবং ড্রোন দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা। সামরিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছে, এই বিপুল ক্ষতির ধাক্কা সামলাতেই শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প প্রশাসন যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে। এছাড়া ১৪ জন মার্কিন সেনা নিহত ও অনেকে আহত হয়েছে। এদিকে গত ২১ মার্চ এক প্রতিবেদনে বিবিসি জানিয়েছিল, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রে সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের হামলায় ক্ষতির পরিমাণ ৮০০ মিলিয়ন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা)। গত ৩১ মার্চ আল জাজিরা জাতিসংঘের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে জানিয়েছিল, ইরানের একমাসের হামলায় আরব দেশগুলোর ক্ষতির পরিমাণ ১৯৪ বিলিয়ন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৪ লাখ কোটি টাকা)। মধ্যপ্রাচ্যেও অনেকের প্রাণ গেছে। ইসরাইলের অর্থমন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ৪০ দিনের যুদ্ধে তাদের ক্ষতি হয়েছে ১৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় সোয়া দুই লাখ কোটি টাকার বেশি)।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে : 991 বার