সিলেট বিভাগের ৪ জেলা: ১৯ আসন বিএনপির অস্বস্তি ‘বিভেদ’, জামায়াতের দুর্বলতা ‘জোট’

Daily Ajker Sylhet

দৈনিক আজকের সিলেট

৩০ জানু ২০২৬, ০২:৫৪ অপরাহ্ণ


সিলেট বিভাগের ৪ জেলা: ১৯ আসন বিএনপির অস্বস্তি ‘বিভেদ’, জামায়াতের দুর্বলতা ‘জোট’

স্টাফ রিপোর্টার:

সিলেট শহরের জেলখানা মোড় এলাকার একটি কাপড়ের দোকানের মালিক সেলিনা আক্তার। ভোটের হালচাল কী জানতে চাইলে নগরের ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের এই ভোটার বলেন, ধানের শীষ বা দাঁড়িপাল্লা যেই জিতুক, তাঁদের কর্ম করেই খেতে হবে। কেউ খাওয়াবে না। তবে নাগরিক দায়িত্ব হিসেবে তিনি ভোট দিতে যাবেন। কারণ, গত তিন নির্বাচনে ভোট দেওয়ার পরিবেশ ছিল না। এবার আশা, ভোট শান্তিপূর্ণ হবে।

সিলেট শহর, এর আশপাশের উপজেলাগুলো ঘুরে অসংখ্য ভোটারের সঙ্গে কথা বলি। প্রায় সবাই ভোট দিতে যাবেন বলে জানিয়েছেন। দু-একজন বলেছেন, ভোট দেবেন কি না এখনো সিদ্ধান্ত নেননি। সিলেট জেলায় নির্বাচনী আসন ৬টি। এ বিভাগের ৪ জেলায় আসনসংখ্যা ১৯। সিলেট শহরে বিভাগের প্রায় সব জেলার মানুষের বসবাস ও যাতায়াত রয়েছে।

সিলেটের লিডিং ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্রী সুবর্ণা দেবের বাড়ি মৌলভীবাজার সদর উপজেলার বাউরবাগ গ্রামে। ভোটের আগে তিনি বাড়ি যাবেন। তিনি বলেন, ‘এবারই প্রথম ভোট দেব। ভালো একটা অনুভূতি হচ্ছে।’

স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথা বলে একটা বিষয় পরিষ্কার যে এই বিভাগের বেশির ভাগ আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপির ধানের শীষ আর জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লার মধ্যে। তবে এ বিভাগে বিএনপির অনেক গুরুত্বপূর্ণ নেতা মনোনয়ন পাননি। কেউ কেউ কাঙ্ক্ষিত আসনে মনোনয়ন না পেয়ে অন্য আসনে পেয়েছেন।

এতে দলের ভেতরে দ্বন্দ্ব-মনোমালিন্য রয়ে গেছে। জোটের শরিকদের আসন ছেড়ে দেওয়ার কারণে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে দলের চিন্তা বাড়িয়েছেন কেউ কেউ।

স্থানীয় রাজনীতিক, বিএনপির সমর্থক ও ভোটারদের মতে, তারেক রহমানের সিলেট সফরের সময় বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব আপাতত কিছুটা মিটেছে। তবে ভেতরে ভেতরে যে দূরত্ব রয়ে গেছে, তা না ঘুচাতে পারলে ভোটে প্রভাব পড়তে পারে।

অন্যদিকে সিলেট বিভাগে জামায়াতে ইসলামী অতীতে খুব বেশি ভালো করেনি। ২০০১ সালের নির্বাচনে চারদলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে সিলেট-৫ আসনে ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী সংসদ সদস্য হয়েছিলেন। সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জে বলার মতো অর্জন নেই দলটির। হাসিনার সরকারের পতনের পর জামায়াত শক্তি অর্জন করেছে বলে স্থানীয়রা বলছেন। তবে সিলেট বিভাগে ১৯টির মধ্যে ১০টি আসনই জোটের শরিকদের ছেড়ে দিয়েছে জামায়াত। একটি আসন উন্মুক্ত। অর্থাৎ ৮টি আসনে জামায়াতের দলীয় প্রার্থী রয়েছে। দলটির নেতারা মনে করছেন, জোটের শরিকদের ছেড়ে দেওয়া কিছু আসনে নিজেরা ভোট করলে জামায়াতের প্রার্থীদের জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। এখন জোটের প্রার্থীদের দিয়ে সেই ফলাফল পাওয়া কঠিন হবে।

বিএনপিতে ভেতরে-ভেতরে বিভেদ

সিলেট-৩ (দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ) আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন যুক্তরাজ্য বিএনপির সদ্য সাবেক সভাপতি এম এ মালিক। তিনি দীর্ঘ ১৯ বছর যুক্তরাজ্যে ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তিনি দেশে আসেন। এখানে বিএনপির শক্তিশালী মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী। এ ছাড়া বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক এম এ সালাম, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আবদুল আহাদ খান জামালসহ আরও কয়েকজন মনোনয়ন চেয়েছিলেন।

স্থানীয় বিএনপির একটি সূত্র জানিয়েছে, এম এ মালিক চূড়ান্ত মনোনয়ন পাওয়ার পর কাইয়ুম, সালাম, আহাদসহ অপর মনোনয়নপ্রত্যাশীরা তাঁর পক্ষে মাঠে নেমেছেন। তবে প্রবাসে থাকার কারণে অনেকটা ‘বিচ্ছিন্ন থাকা’ মালিককে অন্য মনোনয়নপ্রত্যাশীর সমর্থকেরা কতটা মন থেকে মেনে নিতে পারছেন সেই আলোচনা আছে। প্রকাশ্যে কেউ কিছু না বললেও ভেতরে-ভেতরে দলের একটা অংশ ক্ষুব্ধ বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

অবশ্য জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ‘বড় দলে একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী থাকাই স্বাভাবিক। চূড়ান্ত মনোনয়নের পর প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করতে সবাই ঐক্যবদ্ধ। জেলায় বিএনপি ও বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করতে আমরা সবাই মাঠে আছি।’

স্থানীয় বিএনপির একটি সূত্র জানিয়েছে, এম এ মালিক চূড়ান্ত মনোনয়ন পাওয়ার পর কাইয়ুম, সালাম, আহাদসহ অপর মনোনয়নপ্রত্যাশীরা তাঁর পক্ষে মাঠে নেমেছেন। তবে প্রবাসে থাকার কারণে অনেকটা ‘বিচ্ছিন্ন থাকা’ মালিককে অন্য মনোনয়নপ্রত্যাশীর সমর্থকেরা কতটা মন থেকে মেনে নিতে পারছেন সেই আলোচনা আছে। প্রকাশ্যে কেউ কিছু না বললেও ভেতরে-ভেতরে দলের একটা অংশ ক্ষুব্ধ বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে : 989 বার