সিলেটে নজিরবিহীন নি রা প ত্তা র ভোট উৎসব
১২ ফেব্রু ২০২৬, ১০:৪৭ পূর্বাহ্ণ

স্টাফ রিপোর্টার:
সিলেটে নজিরবিহীন নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে শুরু হয়েছে বহুল প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যে কোনো ধরনের সহিংসতা, বিশৃঙ্খলা বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে ইতোমধ্যে ঢেলে সাজানো হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। একই সাথে প্রযুক্তিগত নিরাপত্তার দিক থেকেও এবারের নির্বাচন শীর্ষে। ভোটের নিরাপত্তায় এবার মাঠে থাকছেন সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব, পুলিশ ও আনসার সদস্যের টিম। নির্বাচনি অপরাধ সশরীরে আমলে নিয়ে তা সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে বিচারের জন্য মাঠে থাকছে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।এবারের ভোটে প্রতিটি ভোটকেন্দ্র তিনটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করে নিরাপত্তা পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে সাধারণ, গুরুত্বপূর্ণ ও অতিগুরুত্বপূর্ণ। গুরুত্বপূর্ণ ও অতিগুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি স্ট্রাইকিং ফোর্স ও মোবাইল টিম মোতায়েন রয়েছে। সেই সাথে বডি-ওর্ন ক্যামেরা, সিসিটিভি ক্যামেরা ও ড্রোন উড়বে ভোটকেন্দ্রে। সিলেট জেলার ৬টি আসনে এবার ৩৩ প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণ করবেন ২৯ লাখ ১৬ হাজার ৫৭৯ ভোটার।
নগরীর অধিকাংশ ভোটকেন্দ্র খোলার আগেই বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৬টা থেকে কেন্দ্রের সামনে ভোট দেয়ার জন্য অধীর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করতে দেখা যায় ভোটারদের।
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে সিলেট জেলার ৬টি আসনে মোট ভোটার ২৯ লাখ ১৬ হাজার ৫৭৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৪ লাখ ৯৮ হাজার ৯৫৩ এবং নারী ভোটার ১৪ লাখ ১৭ হাজার ৬১০ জন। এ ছাড়া তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১৬ জন। নির্বাচনি আসনের হিসাব অনুযায়ী সিলেট-১ আসনে মোট ভোটার ৬ লাখ ৮০ হাজার ৯৪৩ জন, সিলেট-২ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৬৮ হাজার ৯০০ জন, সিলেট-৩ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ১৫ হাজার ৯৬৬ জন, সিলেট-৪ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ১২ হাজার ৯৩৩, সিলেট-৫ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ২৮ হাজার ৭৪৬ জন এবং সিলেট-৬ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ৯ হাজার ৯১ জন।
সিলেটের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা সারওয়ার আলম বলেন, কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ভোটারের দীর্ঘ লাইন। উৎসবের ভোটে কেউ কোন ধরণের বিশৃঙ্খলা কিংবা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাতে চাইলে তার বিরুদ্ধে নেয়া হবে কঠোর আইনী ব্যবস্থা। আমাদের এখানে সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব, পুলিশ ও আনসারসহ বিপুল সংখ্যক ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। অতীতের কোনো নির্বাচনে এত সংখ্যক ফোর্স নির্বাচনে মোতায়েন করা হয়নি। এবার সর্বোচ্চ সংখ্যক ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। একইসাথে ড্রোন ক্যামেরার সহযোগীতায় কেন্দ্রগুলোকে উপর থেকে মনিটরিং করা হবে।
জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, নির্বাচনের জন্য সিলেট জেলায় ১১০০টি কেন্দ্র রয়েছে। এই ১১শত কেন্দ্রের প্রত্যেকটি সিসি ক্যামেরার আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। এমনকি এই জেলার প্রত্যেকটি উপজেলার প্রধান প্রধান বাজারগুলোকেও সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। এবার প্রায় ১৯ হাজারেরও উপরে পোলিং এজেন্ট ও অফিসার দায়িত্বে রয়েছেন। ভোটকেন্দ্র মনিটিরিং করার জন্য এবার ড্রোন ক্যামেরা রাখা হয়েছে। যাতে কেন্দ্রগুলোকে উপর থেকে মনিটরিং করা যায়।
সিলেটের ছয়টি আসনে ৪৭ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রয়েছেন। একই সাথে ৬টি আসনের জন্য ইলেকট্রনিক মনিটরিং টিম ও জুডিশিয়াল অফিসারদের সমন্বয়ে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটরাও মাঠে তৎপর থাকবেন। এছাড়া নির্বাচনের দায়িত্বে রয়েছে স্ট্রাইকিং ফোর্স ও রিজার্ভ ফোর্স। প্রতিটি কেন্দ্রে আনসার ১২ জন এবং জেলার সদরগুলোতে ৪ জন করে পুলিশ আছে। কেন্দ্রগুলোতে মোবাইল টিম, স্ট্রাইকিং ফোর্স, সেনাবাহিনী, বিজিবির পাশাপাশি বডি ওন ক্যামেরা ও সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে।
সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী বলেন, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং কোনো ধরনের আশঙ্কা নেই। প্রতিটি কেন্দ্রে ১২ জন আনসার মোতায়েন থাকবে। গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে ৪ জন এবং সাধারণ কেন্দ্রগুলোতে ৩ জন করে পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। নির্বাচনকালি নিরাপত্তা জোরদারে ৬৬ টি মোবাইল টিম, ১২টি স্ট্রাইকিং টিম ও ২টি স্ট্যান্ডবাই টিম কাজ করবে।
পাশাপাশি জিনিয়া অ্যাপের মাধ্যমে প্রতিটি কেন্দ্র থেকে তাৎক্ষণিকভাবে তথ্য পাওয়া যাবে। কোনো সমস্যা দেখা দিলে অ্যাপের মাধ্যমে নিকটবর্তী মোবাইল টিম স্বয়ংক্রিয়ভাবে সক্রিয় হয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে যাবে। ছয়টি থানার আওতায় ১০টি ড্রোন সার্বক্ষণিক নজরদারিতে থাকবে। কোথাও অবৈধ জমায়েত বা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অবস্থানের চেষ্টা হলে আগেই তা শনাক্ত করা সম্ভব হবে।র্যাব-৯ এর অধিনায়ক উইং কমান্ডার তাজমিনুর রহমান চৌধুরী বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে ঢেলে সাজানো হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সংখ্যালঘু ও চা শ্রমিক অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে ভোটারদের নিরাপত্তা ও আস্থা নিশ্চিত করতে টহল ও নজরদারি করা হচ্ছে। সেই সাথে সিলেটে ৫৫০ জন র্যাব সদস্য ভোটের মাঠে কাজ করে যাচ্ছেন। আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের পাশাপাশি স্পর্শকাতর এলাকায় মোতায়েন থাকবে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট।
এই সংবাদটি পড়া হয়েছে : 1K বার