সিলেটে নগদ টাকা বেশি ‘বেকার’ মালিকের, কম ফয়সলের!

Daily Ajker Sylhet

দৈনিক আজকের সিলেট

০২ জানু ২০২৬, ০২:২৬ অপরাহ্ণ


সিলেটে নগদ টাকা বেশি ‘বেকার’ মালিকের, কম ফয়সলের!

স্টাফ রিপোর্টার:

সিলেটে বিএনপি প্রার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশী নগদ টাকা এমএ মালিকের, আর কম ফয়সল চৌধুরীর।

 

প্রার্থীদের হলফনামা অনুযায়ী এমন চিত্রই দেখা যাচ্ছে।

 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের দিন পর্যন্ত সিলেট-৩ (দক্ষিণ সুরমা-ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এমএ মালিকের কাছে নগদ বাংলাদেশী টাকা ও বৈদেশিক মুদ্রা মিলিয়ে মোট নগদ অর্থের পরিমাণ ছিল ৯০ লাখ ৯৮ হাজার ৩৮ টাকা।এরমধ্যে বাংলাদেশী ২ লাখ টাকার সাথে ছিল ৭১ হাজার ৭শ’ ৭৩ দশমিক ৫০ মার্কিন ডলার ও ৬ হাজার ৭১০ বৃটিশ পাউন্ড। বর্তমান বাজার দর অনুযায়ী ১২২ দশমিক ৩৮ টাকা মার্কিন ডলার ও ১৬৪ দশমিক ৫৯ টাকা বৃটিশ পাইন্ড ধরলে ফিগারটা এমনই দাঁড়ায়।

মালিক তার হলফনামায় বর্তমান পেশা হিসাবে উল্লেখ করেছেন ‘কিছুই না’। আর আগের পেশা হিসাবে উল্লেখ করেছেন ‘প্রবাসী শ্রমিক’।

 

নিজের কাছে নগদ প্রায় কোটি টাকা থাকলেও বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা এমএ মালিকের স্ত্রীর কাছে নগদ টাকা আছে মাত্র ১ লাখ!

মালিকের পর বেশি নগদ টাকা আছে সিলেট-১ (সদর-নগর) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও বিএনপি চেয়ারপার্সনের আরেক উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বা তার স্ত্রীর কাছে কোনো বৈদেশিক মুদ্রা না থাকলেও তার কাছে নগদ টাকা আছে ৬৪ লাখ ২৮ হাজার ১৪৭ টাকা। তার পেশা ব্যবসা। তবে তার স্ত্রীর কাছে নগদ টাকা আছে ১ কোটি ২০ লাখ ৩৬ হাজার ৬৮১।

 

নগদ টাকার দিক দিয়ে এর পরের অবস্থানেই আছেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের আরেক উপদেষ্টা ও সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র এবং সিলেট-৪ (গোয়াইনঘাট-কোম্পানীগঞ্জ ও জৈন্তাপুর) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীর। তার কাছে বৈদেশিক মুদ্রা মিলিয়ে নগদ অর্থের পরিমাণ ৩২ লাখ ১৪ হাজার ৭৭৪ টাকা। এরমধ্যে আছে ৫ হাজার ৯১৮ ডলার ও হাজার ৮৩১ পাউন্ড।

 

তবে আরিফের কাছে এই পরিমাণ টাকা থাকলে কি হবে, মিসেস আরিফ, শামা হকের কাছে কিন্তু টাকা ও বৈদেশিক মুদ্রা মিলিয়ে নগদ অর্থ আছে ১৭ কোটি ৯৬ লাখ ৪৩ হাজার ৮৪৯ টাকার সমপরিমাণ। এরমধ্যে আছে ১৪ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮১ মার্কিন ডলার।

 

সিলেট-৬ (গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার) আসনে বিএনপি মনোনীত দুই প্রার্থীর মধ্যে একজন আইনজীবী, অপরজন ব্যবসায়ী। তবে নগদ টাকা বেশি আছে আইনজীবী এমরান আহমদ চৌধুরী হাতে- ১৬ লাখ ৪ হাজার ৫৩টাকা। আর তার স্ত্রীর দুই একাউন্টের একটিতে আছে ২১ হাজার ১৯৩ টাকা ও অপর একটি একাউন্টে আছে মাত্র ৪৮৩ টাকা। তিনি বা তার স্ত্রীর কাছে কোনো বৈদেশিক মুদ্রা নেই।

আর ব্যবসায়ী ফয়সল আহমদ চৌধুরীর কাছে নগদ টাকা আছে মাত্র ৬৭ হাজার ১৮৪ টাকা। তবে তার স্ত্রীর কাছে আছে নগদ ১১ লাখ ২৫ হাজার ৫০৪ টাকা। ফয়সল চৌধুরী বা স্ত্রীর কাছেও কোনো বৈদেশিক মুদ্রা নেই।

 

সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী দলটির চেয়ারপার্সনের আরেক উপদেষ্টা এবং নিখোঁজ বিএনপি নেতা ও সাবেক সাংসদ এম ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদির লুনা। অবসরপ্রাপ্ত সাবেক এ চাকরিজীবীর কাছে নগদ মাত্র ৪ লাখ ২০ হাজার ৪৬৪ টাকা আছে। তবে তিনি তার ছেলের কাছ থেকে ঋণ হিসাবে নিয়েছেন আরও সাড়ে ১৩ লাখ টাকা।

 

এদিকে সিলেট-৫ কানাইঘাট জকিগঞ্জ আসনে বিএনপি কোনো প্রার্থী ঘোষণা করেনি। তবে এ আসন থেকে নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে দল থেকে বহিস্কার হয়েছেন সাবেক বিএনপি নেতা মামুনুর রশীদ, যিনি চাকসু মামুন নামেই বেশি পরিচিত। পেশায় ব্যবসায়ী মামুনের কাছে নগদ ৫৮ লাখ ৪৩ হাজার ৫৮১ টাকা থাকলেও তার স্ত্রীর কাছে কোনো টাকা নেই এবং দু’জনের কারও কাছেই কোনো বৈদেশিক মুদ্রাও নেই।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে : 1K বার