স্টাফ রিপোর্টার:
এগিয়ে আসছে ২০ জানুয়ারি। হাতে আর মাত্র কয়েকটা দিন। এরপরই সিলেটে পরিষ্কার হবে জোট রাজনীতির বলি জামায়াত নাকি নবগঠিত রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি- এনসিপি? আপাতত কেউ মুখ খুলতে রাজি না হলেও আশাবাদী কিন্তু দু’পক্ষই।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেটের ৬টি আসনের মধ্যে জোট রাজনীতির প্রথম বলি হয়েছেন সিলেট জেলা বিএনপির প্রথম সহসভাপতি মামুনুর রশীদ- চাকসু মামুন। বিএনপির আসন সমঝোতার রাজনীতিতে সিলেট-৫ (জকিগঞ্জ-কানাইঘাট) আসনটি ছেড়ে দেওয়া হয়েছে জমিয়তের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুককে। এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী চাকসু মামুন দলের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে নির্বাচনে লড়াই করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। তার এমন অনঢ় মনোভাবের শাস্তি হিসাবে দল থেকে তাকে বহিস্কার করা হয়েছে। কিন্তু তবুও তিনি নির্বাচনী মাঠে আছেন। সেই হিসাবে সিলেটের ৬টি আসনের মধ্যে জোট বা আসন সমঝোতার রাজনীতির প্রথম বলি বলা যায় মামুনই।
এদিকে এ সময়ে এসে জোট রাজনীতির খেলা জমে উঠেছে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটে। জোটের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল জামায়াত আর নবগঠিত এনসিপির দুই প্রার্থী নিয়ে এই জোট চরম বিপাকে আছে বলেই অবস্থাদৃষ্টি মনে হচ্ছে।
এনসিপি এবার সিলেটের তিনটি আসনে দলীয় প্রার্থী দিয়েছিল। আসনগুলো হচ্ছে, সিলেট-১ (নগর-সদর), সিলেট-৩ (দক্ষিণ সুরমা-ফেঞ্চুগঞ্জ-বালাগঞ্জ) ও সিলেট-৪ (গোয়াইনঘাট-কোম্পানীগঞ্জ ও জৈন্তাপুর) আসন। এরমধ্যে বাছাই পর্বে সিলেট-১ আসনের এনসিপি প্রার্থী এহতেশামুল হকের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। এখন তিনি আপিল প্রক্রিয়ায় লড়ার কথা ঘোষণা করেছেন। সেটা কতদূর বা তার প্রার্থীতা নিয়ে সিদ্ধান্ত কী হবে- সেটা জানা যাবে ১১ জানুয়ারি। অনেকেই বলছেন, এহতেশাম টিকে গেলে হয়ত এ আসনটি জামায়াত ছেড়ে দিতে পারে এনসিপিকে। কারণ, এ আসনে কোনোদিনই তাদের ভোট খুব বেশী ছিলনা, নেই এবারও। এ আসন ছাড়ার বিনিময়ে তারা হয়ত সিলেট-৩ ও সিলেট-৪ আসন চাইতে পারে। কারণ এ দুই আসনে জামায়াতের দুই প্রার্থী বেশ শক্তিশালী, অন্তত প্রার্থী হিসাবে তাদের নিজস্ব কিছু ভোটতো আছেই, সেই সঙ্গে দলের শক্তি আর সাধারণ ভোটার মিলে তাদের শক্তি অন্তত এনসিপির চেয়ে বেশী। সেটা কতদূর কি হবে না হবে সে নিয়েই জামায়াত এবং এনসিপির প্রার্থী, ভোটার বা নেতাকর্মীরা যে উদ্বেগ উৎকন্ঠায় আছেন, সেটা বলাই-বাহুল্য।সিলেট-৩ (দক্ষিণ সুরমা-ফেঞ্চুগঞ্জ-বালাগঞ্জ) আসনে জামায়াতের প্রার্থী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান লোকমান আহমদ। কোনো সন্দেহ নেই এই আসনে বিএনপির প্রার্থী, দলটির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা এমএ মালিকের জন্য তিনি হতে পারেন বিরাট চ্যালেঞ্জ। দলীয় ভোটের বাইরেও তার যে একটা ভোট ব্যাংক আছে সেই হিসাব মোটামুটি সবারই জানা।এদিকে এ আসনে এনসিপির মনোনয়ন নিয়ে প্রার্থী হয়েছেন নুরুল হুদা জুনেদ। নতুন দলের এই প্রার্থীর চেয়ে লোকমান আহমদ সবদিক থেকেই এগিয়ে বলে মনে করছেন সচেতন ভোটার এবং রাজনীতি সম্পর্কে সম্যক ধারণা যারা রাখেন তাদের প্রায় সবার। এমনটিও বলাবলি হচ্ছে, সিলেটের ৬টি আসনের মধ্যে যে ক’টি আসনে জামায়াতের জয়ের সম্ভাবনা আছে, সিলেট-৩ তার একটি। সেই হিসাবে জোট রাজনীতির বলি হতে যাচ্ছেন রাজনীতিতে নবাগদত দল এনসিপির প্রার্থী নুরুল হুদা জুনেদ- এমনটিই মনে করছেন সচেতন ভোটাররা। যদিও এনসিপির বিভিন্ন সূত্রের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তারা আশাবাদী- জামায়াত এ আসনটি তাদের ছেড়ে দিতে পারে।
আবার সিলেট-৪ (গোয়াইনঘাট-জৈন্তাপুর ও কোম্পানীগঞ্জ) আসনেরও একই অবস্থা। এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী জয়নাল আবেদীন। আর তাদের জোটসঙ্গী এনসিপির প্রার্থী প্রকৌশলী রাশেল উল আলম। তবে জয়নাল আবেদীনের জনপ্রিয়তা যেকোনো হিসাবেই রাশেল উল আলমের চেয়ে বেশী। তাছাড়াও তিনি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান। এখানে বিএনপির প্রার্থী দলটির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্ঠা ও সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধরী। প্রার্থী হিসাবে তিনি যে শক্ত- এটা বলাইবাহুল্য। তার জনপ্রিয়তার ধারেকাছেও নেই এনসিপি প্রার্থী রাশেল উল আলম। অন্তত মাঠ থেকে যে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, তাতে সেই বিষয়টিই স্পষ্ট। মানে এখানেও জামায়াতের এনসিপিকে ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই।
যদিও রাশেল উল আলম জানিয়েছেন, এখনো জোটের সিদ্ধান্ত আসেনি এবং তিনি এ আসনে জোটের প্রার্থী হিসাবেই নির্বাচনে লড়ার ব্যাপারে আশাবাদী। তবে তিনি এটিও জানিয়েছেন যে, জোটের নেতারা যে সিদ্ধান্ত জানাবেন, সেটিই বাস্তবায়ন হবে এবং যাকে মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে বলা হবে তিনি সেই সিদ্ধান্ত মেনে নিবেন।
সারমর্ম হচ্ছে, সিলেট জেলায় নির্বাচনের আগেই আউট এনসিপি!
তবে রাজনীতিতে শেষ কথা বলতে কিছু নেই। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানার জন্য অপেক্ষা করতে হবে ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত। সেদিন মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। তার আগ পর্যন্ত প্রার্থীদের টেনশন ও দৌড়ঝাঁপ চলবেই।
সম্পাদক ও প্রকাশক: আব্দুল খালিক
আইন-উপদেষ্টা: ব্যারিস্টার ফয়সাল দস্তগীর, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।
উপ-সম্পাদকঃ ফুজেল আহমদ
প্রকাশক কর্তৃক উত্তরা অফসেট প্রিন্টার্স কলেজ রোড, বিয়ানীবাজার, সিলেট থেকে মুদ্রিত ও শরীফা বিবি হাউজ, মেওয়া থেকে প্রকাশিত।
বানিজ্যিক কার্যালয় : উত্তর বাজার মেইন রোড বিয়ানীবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: dailyajkersylhet24@gmail.com মোবাইল: ০১৮১৯-৫৬৪৮৮১, ০১৭৩৮১১৬৫১২।
শাফিয়া শরীফা মিডিয়া বাড়ীর একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান দৈনিক আজকের সিলেট, রেজি নং: সিল/১৫৩