সিলেটের শফিকুর রহমানের ঋণ নেই, ৩২ মামলা থেকে অব্যাহতি
০২ জানু ২০২৬, ০২:২২ অপরাহ্ণ

স্টাফ রিপোর্টার:
সিলেটের বাসিন্দা জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে তিনি ঢাকা-১৫ আসন (মিরপুরের একাংশ ও কাফরুল) থেকে নির্বাচন করছেন। তার বয়স ৬৭ বছর। তিনি হলফনামায় বলেছেন, তার শিক্ষাগত যোগ্যতা এমবিবিএস পাস। বর্তমান পেশা চিকিৎসক। তার স্ত্রী আমেনা বেগম গৃহিণী, যিনি অষ্টম জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত আসনের সদস্য ছিলেন।জামায়াতের আমির ৩৪টি মামলার তথ্য হলফনামায় উল্লেখ করেছেন। এগুলোর মধ্যে বর্তমানে দুটি ফৌজদারি মামলা হাইকোর্টে স্থগিত রয়েছে। এ ছাড়া ২০০৮, ২০১০, ২০১১, ২০১২, ২০১৩, ২০১৭ ও ২০২২ সালে দায়ের করা ৩২টি মামলার তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এসব মামলার মধ্যে ৩০টি হয়েছে ঢাকায়, ২টি সিলেটে।৩২টি মামলা থেকেই শফিকুর রহমান অব্যাহতি পেয়েছেন কিংবা মামলা খালাস বা প্রত্যাহার করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০২৫ সালে ১০ মামলায় অব্যাহতি, ৮টি প্রত্যাহার ও ১টিতে খালাস পেয়েছেন শফিকুর রহমান। ২০২৪ সালে ৬ মামলায় অব্যাহতি ও ৫টিতে খালাস পেয়েছেন তিনি। এ ছাড়া ২০১৭ সালে সিলেটে একটি মামলায় খালাস এবং ২০২১ সালে আরেকটি মামলায় অব্যাহতি পান জামায়াতের আমির। তার বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি মামলা করা হয়েছিল ২০১২ সালে, ২০টি।
জামায়াতের আমির শফিকুর রহমানের প্রায় দেড় কোটি টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। তার নামে কোনো ঋণ নেই। ২০২৫-২৬ করবর্ষে তিনি ৩০ হাজার টাকা আয়কর দিয়েছেন। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে শফিবুর রহমানের নগদ রয়েছে প্রায় ৬০ লাখ ৭৬ হাজার টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা আছে প্রায় ৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা। তার বন্ড, ঋণপত্র, স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত ও তালিকাভুক্ত নয়, এমন কোম্পানির শেয়ার রয়েছে প্রায় ২৭ লাখ ১৭ হাজার টাকার।
শফিকুর রহমান একটি গাড়ির কথা উল্লেখ করেছেন, যার মূল্য দেখানো হয়েছে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা। তার কাছে ১০ ভরি স্বর্ণালংকার রয়েছে, যার অধিগ্রহণকালীন মূল্য ১ লাখ টাকা। তার ২ লাখ টাকার (অধিগ্রহণকালে মূল্য) ইলেকট্রনিক সামগ্রী রয়েছে। আরও রয়েছে ২ লাখ ৪০ হাজার টাকার আসবাব। সব মিলিয়ে তাঁর অস্থাবর সম্পদের মূল্য প্রায় ১ কোটি ২ লাখ ৭৪ হাজার টাকা।
স্থাবর সম্পদের মধ্যে শফিকুর রহমানের কৃষিজমি রয়েছে ২১৭ শতক, যার অর্জনকালীন মূল্য ১৭ লাখ ৭১ হাজার টাকা। অকৃষি ১৩ শতক জমির অর্জনকালীন মূল্য প্রায় ২ লাখ ৫৫ হাজার টাকা। ১১ দশমিক ৭৭ শতকের ডুপ্লেক্স বাড়ি রয়েছে জামায়াতের আমিরের; অধিগ্রহণকালে যার মূল্য ছিল ২৭ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে জামায়াতের আমিরের স্থাবর সম্পদের মূল্য ৪৭ লাখ ২৫ হাজার ৮৩৪ টাকা।
শফিকুর রহমানের স্ত্রীর কোনো আয় নেই, কোনো সম্পদ নেই। তবে তিন সন্তানের আয়ের তথ্য তুলে ধরেছেন জামায়াতের আমির। এতে দেখা যায়, তার এক মেয়ের ৫ লাখ টাকার, আরেক মেয়ের ১৭ লাখ ৭৫ হাজার টাকার এবং ছেলে রাফাত সাদিক সাইফুল্লাহর ৩০ হাজার টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ রয়েছে।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ২০১৩ সালে জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল হয়। ফলে ২০১৮ সালে একাদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৫ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে অংশ নিয়েছিলেন শফিকুর রহমান। সেখানে তিনি পরাজিত হন। যদিও ওই নির্বাচন ‘রাতের ভোট’ নামে পরিচিত।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর প্রতীকসহ জামায়াতের নিবন্ধন পুনর্বহাল করা হয়। আগামী নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থীরা দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট করবেন।
এই সংবাদটি পড়া হয়েছে : 1K বার