স্টাফ রিপোর্টার:
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজার-৪ (কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল) নির্বাচনী এলাকা ক্রমেই সরগরম হয়ে উঠছে। রাজনৈতিক বিশেষকদের মতে এ আসনের ভোটের লড়াই এখন পর্যন্ত বিএনপিই সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে, তবে শেষমেষ এখানে বিএনপির মধ্যে দ্বিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নিজ দলের স্বতন্ত্র প্রার্থীর রূপ নিতে পারে।
চা বাগান অধ্যুষিত এ আসনে বরাবরই আওয়ামী লীগের আধিপত্য ছিল। এবার তারা না থাকায় বাগানের চা শ্রমিকদের ভোট ব্যাংক সুনির্দিষ্ট কোনো দলের নামে নির্ধারিত নয়। জয়ের জন্য এ আসনে চা শ্রমিকদের দিকে সব প্রার্থীর নজর।
সরেজমিন দেখা যায়, উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন, বাজার এবং চা-বাগানগুলোতে প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা এখন তুঙ্গে। নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই নির্ঘুম প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা। সকাল হতে গভীর রাত্রি পর্যন্ত চায়ের দোকান থেকে শুরু করে ব্যবসা প্রতিষ্টান, অফিসপাড়া, রাস্তাঘাট, বিভিন্ন হাট বাজার সর্বত্র চলছে প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা। এছাড়া গাড়িতে করে মাইকে বিভিন্ন ধরনের গান-বাজনা করে প্রচারণা করছে। প্রচার-প্রচারণায় উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকা এখন সরগরম। গাছে গাছে ব্যানার ফেষ্টুনে ছেয়ে গেছে শহর থেকে গ্রামের পাড়া মহল্লায়। কনকনে শীত উপেক্ষা করেই প্রার্থীরা নির্ঘুম প্রচারণায় ছুটছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। মাইকের আওয়াজে মুখরিত জনপদ। ভোটারদের মন জয়ে প্রার্থীরা দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। হাট-বাজারের চা-স্টলগুলোতে এখন আড্ডার প্রধান বিষয় আগামী নির্বাচনে কে হচ্ছেন এই আসনের কান্ডারি।স্থানীয়রা বলেন, এ আসনে ভোটযুদ্ধ জমজমাট থাকলেও বিএনপির দলীয় প্রার্থীকে বাড়তি চাপ সামাল দিতে হচ্ছে। এ জন্য বিএনপির দলীয় প্রার্থীর মূল চ্যালেঞ্জ একই দলের এক নেতার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় দুই শক্তিশালী বিএনপি নেতাকর্মীদের মাঝে এবার ভোট নিয়ে বিভেদ দৃশ্যমান দেখা দিছে। এ আসনে বিএনপির দলীয় প্রার্থী কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মুজিবুর রহমান ভোট চেয়ে মাঠে ঘাঠে ঘুরছেন। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের মাঠে আছেন জেলা বিএনপির সদস্য মহসিন মিয়া মধু। স্থানীয় নেতাকর্মীরার মতে বিএনপি প্রার্থীর সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বি বিএনপির বহিশকৃত নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী মহসিন মিয়া মধুর।ত্রয়োদশ নির্বাচনে বড় একটি দল আওয়ামী লীগ না থাকায় হিসাব নিকাশ মেলানো কঠিন মনে করছেন সচেতন ভোটাররা। এ আসন থেকে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী (ধানের শীষ), বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী শ্রীমঙ্গল পৌরসভার সাবেক মেয়র মহসিন মিয়া মধু (ফুটবল), এনসিপি প্রার্থী প্রীতম দাশ (শাপলা কলি), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মনোনীত প্রার্থী শেখ নূরে আলম হামিদী (রিকশা), জাতীয় পাটির মোহাম্মদ জরিফ হোসেন (লাঙল), বাসদের মো. আবুল হাসান (মই) মার্কা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে লড়ছেন।
বিএনপির মনোনিত মুজিবুর রহমান ও স্থানীয় নেতা মহসিন মিয়া মধুর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস আওতাধীন এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। দুই নেতার অনুসারীরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ সামর্থ্য দিয়ে নিজ নেতার প্রচারে ব্যস্ত। পরিস্থিতি বিবেচনায় দেখা যায় সাধারণ মানুষ ও চা শ্রমিকদের মন জয় করার ওপর মিভর করছে প্রার্থীদের জয়-পরাজয়ের হিসাবনিকাশ। সমাজ উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড এবং গরিব-অসহায় মানুষের জন্য কাজ করার মধ্য দিয়ে এরই মধ্যে স্থানীয়দের কাছাকাছি থাকার চেষ্টা করছেন বিএনপি প্রার্থী মুজিবুর রহমান। তাঁর ফাউন্ডেশন এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ার কাজ তাঁকে স্থানীয় মানুষের মধ্যে জনপ্রিয় করেছে।
অন্যদিকে, বর্তমান অবস্থায় উঠে আসা দলটির স্থানীয় নেতা মধু বরাবরই এলাকার মানুষের নাগালে অবস্থান করছেন। আন্দোলন-সংগ্রামে নেতাকর্মীদের সান্নিধ্যে থাকা মধু মিয়া বিশেষ কারণেই সবার নজরে রয়েছেন। তবে এই দুই প্রার্থীর কারণে দলের মধ্যে সৃষ্ট বিভেদ এবং একে অপরের বিরুদ্ধে নির্বাচনী কৌশল হিসেবে সমালোচনামূলক কথাবার্তা ভোটারদের মনোভাবকে প্রভাবিত করতে পারে।
নির্বাচনী প্রচারণা ঘিরে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সেজন্য জেলা ও পুলিশ প্রশাসন তৎপর রয়েছে। নিয়মিত টহল ও তদারকির মাধ্যমে নির্বাচনী আচরণবিধি বজায় রাখার চেষ্টা চলছে। মৌলভীবাজার-৪ আসনে প্রার্থীদের এই জমজমাট প্রচারণা জানান দিচ্ছে, আগামী নির্বাচনে এখানে একটি হাড্ডা-হাড্ডি লড়াই হতে যাচ্ছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেখার বিষয়, শেষ পর্যন্ত কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গণের ভোটাররা কার গলায় জয়ের মালা পরিয়ে দেন।
ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও চা শ্রমিক অধ্যুষিত সংসদীয় আসনটি কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল দুই উপজেলার দুইটি পৌরসভা ও আঠারটি ইউনিয়ন নিয়ে ২৮৩ তম সংসদীয় আসন। এ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৮৭ হাজার ৮৮৮ জন। তন্মধ্যে পুরুষ ভোটার-২ লাখ ৪৬ হাজার ১৯৭ জনও মহিলা ভোটার ২ লাখ ৪১ হাজার ৬৮৯ জন, তৃতীয় লিঙ্গের (হিজরা) ২ জন এবং পোষ্টাল ভোটার ২ হাজার ৩১৮ জন। দুই উপজেলায় ১৬৩টি স্থায়ী ভোট কেন্দ্রের ৯৩৯টি কক্ষে ভোট গ্রহণ অনুষ্টিত হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: আব্দুল খালিক
আইন-উপদেষ্টা: ব্যারিস্টার ফয়সাল দস্তগীর, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।
উপ-সম্পাদকঃ ফুজেল আহমদ
প্রকাশক কর্তৃক উত্তরা অফসেট প্রিন্টার্স কলেজ রোড, বিয়ানীবাজার, সিলেট থেকে মুদ্রিত ও শরীফা বিবি হাউজ, মেওয়া থেকে প্রকাশিত।
বানিজ্যিক কার্যালয় : উত্তর বাজার মেইন রোড বিয়ানীবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: dailyajkersylhet24@gmail.com মোবাইল: ০১৮১৯-৫৬৪৮৮১, ০১৭৩৮১১৬৫১২।
শাফিয়া শরীফা মিডিয়া বাড়ীর একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান দৈনিক আজকের সিলেট, রেজি নং: সিল/১৫৩