স্টাফ রিপোর্টার:
মৌলভীবাজার-১ (বড়লেখা-জুড়ী) আসনে জমে ওঠেছে প্রচার-প্রচারণা। এ আসনে বিএনপি আর জামায়াত জোটের প্রার্থল মধ্যেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এবারের নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ। প্রায় তিন লক্ষ একত্রিশ হাজার ভোটারের চা -বাগান অধ্যুষিত এ আসনটি আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। তবে এ বারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ না থাকার কারনে তাদের ভোটারদের কাছে টানতে চেষ্টা চালাচ্ছে বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা।
এ আসনে মোট জন ৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দিতা করার জন্য মাঠে নেমেছেন। তারা হলেন বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী নাসির উদ্দিন আহমদ মিঠু, জামায়াত মনোনীত ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী আমিনুল ইসলাম, জাতীয় পার্টি মনোনীত আহমেদ রিয়াজ, ইসলামী আন্দোলন মনোনীত, স্বতন্ত্র প্রার্থী বেলাল আহমদ, গণঅধিকার পরিষদের ট্রাক মার্কার আব্দুন নুর তালুকদার ও গণফ্রন্টের মাছ মার্কার শরিফুল ইসলাম।
তাদের মধ্যে নাসির উদ্দিন আহমদ মিঠু বিগত ২০১৮ সালের নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থী ছিলেন। এর আগেও জুড়ী উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থী ছিলেন। জুড়ী - বড়লেখায় পূর্ব থেকেই তার পরিচিতি রয়েছে। জামায়াত মনোনীত দাড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী আমিনুল ইসলাম এলাকায় দেড় বছর থেকে মাঠ চষে বেড়িয়েছেন। মাঠে তার ভালো অবস্থান রয়েছে বলে জানা গেছে।
জাতীয় পার্টির লাঙল প্রতীকের প্রার্থী আহমেদ রিয়াজ এরআগেও একাধিকবার সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন। স্থানীয় রাজনীতিতে জনপ্রিয় সংগঠন আল ইসলাহ মনোনীত স্বতন্ত্র কাপ পিরিচ মার্কার প্রার্থী বেলাল আহমদ রাজনীতির মাঠে একবারেই নতুন।
অন্যান্য প্রার্থীদের চেয়ে এই চার প্রার্থী জোরেসোরে প্রচারণা চালালেও মূলত প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি ও জামায়াত মনোনীত প্রার্থীর মধ্যে।
আওয়ামী লীগের ভোট, চা বাগানের ভোট ও আঞ্চলিকতা এসব এবারের নির্বাচনে ফ্যাক্টর হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জামায়াত, জাতীয় প্রার্থী, গণঅধিকার, গণফ্রন্ট এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীর বাড়ি বড়লেখায় এবং ধানের শীষের প্রার্থীর বাড়ি জুড়ী উপজেলায়।
জুড়ী থেকে প্রায় নব্বই হাজার ভোটার বেশী উপজেলা বড়লেখা হলেও জুড়ীতে চা বাগানের ভোট বেশি। সব প্রার্থীরা চা বাগানে প্রচারনার দিক দিয়ে এগিয়ে রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ভোট নিজেদের বাক্সে নিতে গোপনে আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথে যোগাযোগ রেখে চলেছেন প্রার্থী ও তাদের কর্মীরা। আবার অনেকে প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগ নেতাদের কাছে ধরনা দিচ্ছেন। নির্বাচনকে ইস্যু করে দুই উপজেলার প্রায় দুই শতাধিক আওয়ামী লীগের স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীরা বিএনপি ও জামায়াতে যোগদান করেছেন।জায়ফর নগর ইউনিয়নের সাবেক সদস্য ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল জব্বার কিছুদিন পূর্বে ২০-৩০ জন অনুসারী নিয়ে বিএনপিতে যোগদান করেন।এরআগে দক্ষিণভাগ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি আব্দুস সালাম সোনামনি, নজরুল ইসলাম টেক্কার নেতৃত্বে ২৫ জন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী বিএনপিতে যোগদান করেন।অপর দিকে উপজেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক আরমান আলী ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক মাসুক আহমদের ভাই, ফুলতলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি আব্দুল কুদ্দুছের বাড়িতে গিয়ে কুশলাদি বিনিময় করেছেন জামায়াত মনোনীত প্রার্থী আমিনুল ইসলাম।এর আগে বড়লেখার পৌরসভার সাবেক মেয়র প্রার্থী সাইদুল ইসলাম জেল থেকে বেরিয়ে বিশাল আয়োজন করে জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেছেন।আওয়ামী লীগ বিহীন নির্বাচন হলেও এই আসনে আওয়ামী লীগের একটা রিজার্ভ ভোট রয়েছে। সেই ভোট যার দিকে যাবে তিনিই হতে পারেন এই আসনের এমপি।এ কারনেই উভয় প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা আওয়ামী লীগের স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মী ও ভোটারদের কাছে টানতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন।উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আজিম উদ্দিন বলেন, চাদাঁবাজ, দূর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গঠনের অঙ্গিকার নিয়ে আমরা কাজ করছি। ইনশাআল্লাহ সকল পেশার মানুষ দাড়িপাল্লায় ভোট দিবেন। কোন দল নয়,আমাদের অঙ্গিকার সকলের জন্য।জুড়ী উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাজী মাছুম রেজা জানান, যারা ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ যারা ধারণ করেন তারা বিএনপির ধানের শীষে ভোট দিবেন। আওয়ামী লীগ হোক কিংবা যেকোন সংগঠন হোক যারাই ভোটে যাবেন আমাদের বিশ্বাস তাদের ভোট আমাদের পক্ষে হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: আব্দুল খালিক
আইন-উপদেষ্টা: ব্যারিস্টার ফয়সাল দস্তগীর, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।
উপ-সম্পাদকঃ ফুজেল আহমদ
প্রকাশক কর্তৃক উত্তরা অফসেট প্রিন্টার্স কলেজ রোড, বিয়ানীবাজার, সিলেট থেকে মুদ্রিত ও শরীফা বিবি হাউজ, মেওয়া থেকে প্রকাশিত।
বানিজ্যিক কার্যালয় : উত্তর বাজার মেইন রোড বিয়ানীবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: dailyajkersylhet24@gmail.com মোবাইল: ০১৮১৯-৫৬৪৮৮১, ০১৭৩৮১১৬৫১২।
শাফিয়া শরীফা মিডিয়া বাড়ীর একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান দৈনিক আজকের সিলেট, রেজি নং: সিল/১৫৩