ভারতে গো য়ে ন্দা নজরদারিতে ছিলেন সিলেটের মাহদি, কী হয়েছিল সেদিন?
২১ ফেব্রু ২০২৬, ১০:৩০ অপরাহ্ণ

স্টাফ রিপোর্টার:
সম্প্রতি পর্তুগালের ভিসা আবেদন করতে ভারতের দিল্লিতে যান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাহদী হাসান। মাসখানেক আগে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওর কারণে আলোচনায় আসা এই নেতাকে সেখানে কেউ একজন চিনে ফেলেন এবং একটা ভিডিও রেকর্ড করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। এরপরেই সক্রিয় হয়ে ওঠেন ভারতের গোয়েন্দা কর্মকর্তারা।মাহদী হাসানের দাবি, দিল্লিতে অবস্থানকালে ভারতীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তারা তার ওপর নজরদারি চালান এবং পরে বিমানবন্দরে তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দেশে ফিরে বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ অভিযোগ করেন।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বিবিসি বাংলায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উঠে আসে এমন তথ্য।
এদিকে মাসখানেক আগে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, শায়েস্তাগঞ্জ থানায় বসে মাহদী হাসান ওসি আবুল কালামকে হুমকি দিচ্ছেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, তারা বানিয়াচং থানা পুড়িয়ে দিয়েছেন এবং এসআই সন্তোষ চৌধুরীকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করেছেন। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক সমালোচনার মুখে জানুয়ারিতে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে সমর্থকদের বিক্ষোভের মুখে তিনি মুক্তি পান।
বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পর্তুগালের ভিসা নিতে মাহদী হাসান দিল্লিতে যান। বাংলাদেশের নাগরিকদের পর্তুগালের ভিসার আবেদন করতে দিল্লিতে যেতে হয়, এজন্য প্রয়োজন ভারতীয় ভিসা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, তিনি বৈধ ভারতীয় ভিসা নিয়েই সেখানে গিয়েছিলেন।
মঙ্গলবার সকালে দিল্লির প্রাণকেন্দ্র কনট প্লেসে একটি বেসরকারি ভিসা প্রক্রিয়াকরণ প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে তাকে দেখা যায়। তার সঙ্গে এক নারীও ছিলেন। তারা পর্তুগালের ভিসার আবেদন করতে সেখানে যান বলে জানা গেছে। পরে নিউ দিল্লি রেলস্টেশনের কাছাকাছি পাহাড়গঞ্জ এলাকার একটি হোটেলে ওঠেন। সেখানেই কেউ তার ভিডিও ধারণ করেন বলে সূত্র জানায়।
এরপর বেলা ১১টার দিকে তার ফোনে ভারত ও বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন অচেনা নম্বর থেকে কল আসতে শুরু করে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, তখনই তিনি পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। একই সময়ে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তার ওপর নজরদারি শুরু করে।
পরে ভিসা প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র থেকে বের হয়ে মাহদী হাসান পুরান দিল্লির জামা মসজিদ এলাকায় যান। দুপুরে বাংলাদেশ থেকে কেউ তাকে জানান, তিনি শনাক্ত হয়েছেন। এরপর দিল্লির কয়েকটি স্থানে আশ্রয়ের চেষ্টা করলেও কেউ তাকে থাকতে রাজি হয়নি বলে সূত্র জানায়।
ভারতীয় গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, ভারতবিরোধী বক্তব্য এবং একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে হত্যার প্রকাশ্য দাবি করার অভিযোগের কারণে তাকে সন্দেহের তালিকায় রাখা হয়। যদিও তাদের বক্তব্য, মাহদী বাংলাদেশে কোনো অপরাধ করে থাকলে তা সে দেশের বিষয়।
আরেকটি সূত্র জানায়, তার ভারতীয় ভিসা রাতেই বাতিল করা হয়। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। অন্যদিকে বুধবার সকালে ইন্ডিগোর ফ্লাইটে দেশে ফেরার উদ্দেশ্যে দিল্লি বিমানবন্দরে যান মাহদী হাসান। চেক-ইন সম্পন্ন করে নিরাপত্তা তল্লাশির লাইনে দাঁড়ানোর পর তাকে আলাদা করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় বলে জানা গেছে। প্রায় আধঘণ্টা বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
বুধবার বিকেলে দেশে ফিরে বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আমাকে বৈষম্যবিরোধী নেতা হিসেবে আটক করা হয়েছিল। প্রচণ্ড হয়রানির শিকার হয়েছি। আমি জীবনঝুঁকিতে ছিলাম। ক্রিপ্টোকারেন্সিসংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ ধরনের তথ্য ‘গুজব’।
বাংলাদেশে ফেরার পর বিমানবন্দরেও তাকে জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়তে হয়েছে বলে দাবি করেন মাহদী হাসান। তার ভাষ্য, আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। পরে ক্লিয়ারেন্স দেওয়া হয়।
ভারতের বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যের বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
এই সংবাদটি পড়া হয়েছে : 985 বার