ভবিষ্যৎ নিয়ে ‘চিন্তা হচ্ছে’ শান্তর
২৪ জানু ২০২৬, ০১:১৫ অপরাহ্ণ

স্টাফ রিপোর্টার:
বিপিএল শেষ হওয়ার পর সামনে বিশ্বকাপ—এই প্রসঙ্গ তুলতেই পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত, ‘বিশ্বকাপে খেলা হচ্ছে না?’ কথার ভঙ্গিতে কৌতুক থাকলেও বাস্তবতার চাপ এড়িয়ে যাওয়ার উপায় নেই। বাংলাদেশের বিশ্বকাপ খেলার সম্ভাবনা এখনও পুরোপুরি শেষ না হলেও বাস্তবতা বলছে, কেবল আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের অপেক্ষা।
প্রশ্নের জবাবে হাসির রেশ ছড়িয়ে পড়লেও শান্তর কথায় স্পষ্ট হয়ে ওঠে অস্বস্তি ও অনিশ্চয়তা। বাংলাদেশ বিশ্বকাপে না গেলে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি ক্রিকেটীয় নানা জটিলতার মুখে পড়তে হবে—এটা ক্রিকেটাররা ভালোভাবেই বোঝেন। তবে আচরণবিধির কারণে প্রকাশ্যে কথা বলার সুযোগ সীমিত।
এই সীমাবদ্ধতার মধ্যেই বিপিএল ফাইনাল শেষে সংবাদ সম্মেলনে কিছুটা খোলামেলা হন রাজশাহী ওয়ারিয়র্স অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। বিশ্বকাপে না গেলে ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা কাজ করছে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘চিন্তা তো একটু হয়। অবশ্যই চিন্তা হয়। ভবিষ্যতে তো আমরা কেউই জানি না। অস্বীকার করার এখানে কিছুই নেই, ক্রিকেটার হিসেবে চিন্তা হচ্ছে।’
‘কেমন চিন্তা?’—এই প্রশ্নে আর বিস্তারিত না গিয়ে বিষয়টি হালকা করে কাটিয়ে দিতে চান শান্ত। বলেন, ‘বলতে গেলে অনেক রাত হয়ে যাবে…।’
ক্রিকেটারদের এই উদ্বেগ খুব একটা গুরুত্ব পাচ্ছে না নীতি-নির্ধারকদের কাছে—এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। গত ৪ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল-কে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড জানায়, বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত। অথচ সেই সিদ্ধান্তের আগে বা পরে দুই সপ্তাহের বেশি সময়েও ক্রিকেটারদের মতামত নেওয়া হয়নি। সিদ্ধান্ত জানানোর ১৮ দিন পর বৃহস্পতিবার প্রথমবার ক্রিকেটারদের সঙ্গে বৈঠকে বসে কর্তৃপক্ষ, যেখানে মূলত নিজেদের সিদ্ধান্তই জানানো হয়। ক্রিকেটারদের বক্তব্য শোনার সুযোগ ছিল সীমিত।
এর আগের দিন বিপিএলের ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে শান্ত স্পষ্ট করে বলেছিলেন, ক্রিকেটারদের চাওয়া বিশ্বকাপে খেলা। তিনি বলেন, ‘ক্রিকেটার হিসেবে আমরা সবসময় চাই ক্রিকেট খেলতে। আর বিশ্বকাপের মতো ইভেন্ট হলে তো অবশ্যই… কেন নয়? এই ধরনের ইভেন্ট দুই বছর পর পর আসে, আর ৫০ ওভারের বিশ্বকাপ চার বছর পর পর। আমাদের জন্য এটা বড় সুযোগ।’
তিনি আরও বলেন, ‘এখানে অনেক ইস্যু আছে, যেগুলো আমি ব্যক্তিগতভাবে শতভাগ জানি না। বিষয়গুলো সুন্দরভাবে সমাধান হলে যদি সুযোগ হয়, ক্রিকেটাররা বিশ্বকাপে যেতে পারলে ভালো হবে। ভেতরে কী হচ্ছে না হচ্ছে, সেটা না জানায় মন্তব্য করাও কঠিন।’
সবশেষে বাংলাদেশের ক্রিকেটের বর্তমান অনিশ্চয়তার চিত্র ফুটে ওঠে আরেকটি সংক্ষিপ্ত উত্তরে। সংবাদ সম্মেলনের শেষ দিকে প্রশ্ন আসে—পরের টুর্নামেন্ট বা পরবর্তী ম্যাচ কবে খেলবেন, জানা আছে কি? শান্তর জবাব ছিল এক কথায়, ‘না।’
বিশ্বকাপ ছাড়াই টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার সম্ভাবনা যখন প্রবল, তখন সেই ‘না’ শব্দটিই যেন বাংলাদেশের ক্রিকেটের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎকে সবচেয়ে স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে।
এই সংবাদটি পড়া হয়েছে : 999 বার