মিলাদ জয়নুল:
নানা কারনে বিয়ানীবাজার উপজেলায় জন্মহার বৃদ্ধি পেয়েছে। গত অর্থ বছরে মায়েদের গড় সন্তান সংখ্যা কিছু বেড়েছে। পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরে মাঠ জনবল সংকট, সরকারিভাবে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর সরবরাহে অপ্রতুলতায় এমন অবস্থা বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এই সংকট বিশেষভাবে প্রকট হয়েছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ দিক থেকে নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলজুড়ে। এখনো সংকটগুলো দূর করা হচ্ছে না। বিয়ানীবাজার উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের দেওয়া তথ্য অনুয়ায়ী, এই মুহূর্তে মাঠপর্যায়ে জনবলের স্বল্পতা, জন্মনিয়ন্ত্রণসামগ্রীসহ ওষুধপত্রের স্বল্পতা আছে। এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মাঠ কর্মী জানান, তার কর্মস্থল ইউনিয়নে পরিবার আছে ৪ হাজার ১০০-এর বেশি। আজ এক পরিবারে গেলে সেই পরিবারে আবার যেতে ৯ মাসের আগে সম্ভব হয় না। তিনি বলেন, ওই ইউনিয়নে পরিবার কল্যান সহকারির পদ আছে পাঁচটি। কাজ করছেন তিনি একা। বাকি চারজনের কাজও তাকে করতে হয়। তার মতো পরিবারকল্যাণ সহকারীরা বাড়ি পরিদর্শন, উঠান বৈঠকের পাশাপাশি স্যাটেলাইট ক্লিনিক ও কমিউনিটি ক্লিনিকে সেবা দেন। বাড়ি পরিদর্শনের সময় তাঁরা দম্পতি নিবন্ধন (সেবার আওতায় আনার জন্য) ও জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন করেন। তারা নতুন দম্পতিকে পরামর্শ সেবা বা কাউন্সেলিং দেন। এর মধ্যে আছে পরিকল্পিত পরিবার গঠন, জন্মনিয়ন্ত্রণের বিভিন্ন পদ্ধতি, গর্ভবতী মা ও শিশুর স্বাস্থ্য, পুষ্টি, কিশোর-কিশোরীদের প্রজনন স্বাস্থ্য, কৈশোরকালীন গর্ভধারণ রোধ, স্বাস্থ্য শিক্ষা, বাল্যবিবাহ রোধবিষয়ক পরামর্শ। এ ছাড়া তাঁরা পরিবার পরিকল্পনার অস্থায়ী পদ্ধতি বিতরণ (বড়ি ও কনডম) করেন। মাঠপর্যায়ে আরও কাজ করেন পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক, পরিবারকল্যাণ পরিদর্শিকা ও উপসহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার (সাকমো)। প্রত্যেকেরই নির্দিষ্ট কাজ আছে। বিয়ানীবাজারে বহু পদ শূন্য থাকায় তাদের সেসব কাজে ঘাটতি থাকছে।
বর্তমানে পরামর্শ কিছুটা মিললেও পাওয়া যায় না জন্মনিয়ন্ত্রণ উপকরণ। ফলে বিয়ানীবাজারে খুড়িয়ে চলছে পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচি। দুই বছরে পাঁচ ধরনের জন্মনিয়ন্ত্রণ উপকরণের সরবরাহ কমেছে প্রায় ৮৪ শতাংশ। মাঠ পর্যায়ে এই স্থবিরতার ভয়াবহ প্রভাব পড়েছে অনাকাঙ্খিত গর্ভধারণ, গর্ভপাত ও মাতৃমৃত্যু হারে। উপজেলার সীমান্তবর্তী দুবাগ ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের ভেতরে যেন এক পরিত্যক্ত, ভুতুড়ে নীরবতা। অকেজো হয়ে পড়ে আছে যন্ত্রাংশ, নেই প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র। গত এক সপ্তাহে সেবা নিতে এসেছেন হাতেগোনা কয়েকজনই। বিয়ানীবাজার পৌরশহরের কসবা চালিকোনা কমিউনিটি ক্লিনিকে সেবাগ্রহীতাদের মধ্যে একজন বলেন, ‘আমরা পরিবার পরিকল্পনা অফিসে এসে সেবা পাচ্ছি, কিন্তু আমাদের যে মেডিসিনগুলো পাওয়ার কথা সেগুলো আমরা পাচ্ছি না।’
কমিউনিটি ক্লিনিকের কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গ্রামপর্যায়ে মা ও শিশুসহ সব বয়সী লোকজনের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার কাজ করে আসছে কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো। এখান থেকে ২৭ ধরনের ওষুধ বিনামূল্যে দেওয়া হয় রোগীদের। অসুখ-বিসুখে ক্লিনিকগুলোর ওপর ভরসা করে গ্রামের দরিদ্র লোকজন। ক্লিনিকের মূল দায়িত্ব পালন করেন একজন কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার বা সিএইচসিপি। দীর্ঘদিন থেকে বেতন-ভাতা বন্ধ থাকায় প্রভাব পড়েছে তাদের কাজেও। ফলে ক্লিনিকগুলো অনেকটা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। বর্তমানে সরকার কমিউনিটি ক্লিনিকের আর্থিক যোগানের জন্য একটি ট্রাস্ট করে দিয়েছেন। ফলে এই সংকট ধীরে-ধীরে হ্রাস পাচ্ছে।
বিয়ানীবাজার উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবু মনসুর আসজাদ বলেন, গত অর্থ বছরে জন্মহার কিছুটা বেড়েছে। বিভিন্ন সংকটের কারনে মাঠকর্মীরা বাড়ি-বাড়ি যেতে পারেননি। সম্প্রতি জন্মনিয়ন্ত্রণ পন্য সামগ্রীর সরবরাহ বাড়ানো হয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: আব্দুল খালিক
আইন-উপদেষ্টা: ব্যারিস্টার ফয়সাল দস্তগীর, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।
উপ-সম্পাদকঃ ফুজেল আহমদ
প্রকাশক কর্তৃক উত্তরা অফসেট প্রিন্টার্স কলেজ রোড, বিয়ানীবাজার, সিলেট থেকে মুদ্রিত ও শরীফা বিবি হাউজ, মেওয়া থেকে প্রকাশিত।
বানিজ্যিক কার্যালয় : উত্তর বাজার মেইন রোড বিয়ানীবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: dailyajkersylhet24@gmail.com মোবাইল: ০১৮১৯-৫৬৪৮৮১, ০১৭৩৮১১৬৫১২।
শাফিয়া শরীফা মিডিয়া বাড়ীর একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান দৈনিক আজকের সিলেট, রেজি নং: সিল/১৫৩