বিশেষ কারাগারে একসঙ্গে ঈদের নামাজ পড়বেন সাবেক মন্ত্রী-এমপিরা

Daily Ajker Sylhet

দৈনিক আজকের সিলেট

২০ মার্চ ২০২৬, ০৭:২৬ অপরাহ্ণ


বিশেষ কারাগারে একসঙ্গে ঈদের নামাজ পড়বেন সাবেক মন্ত্রী-এমপিরা

স্টাফ রিপোর্টার:

একসময় যারা রাজপথ কাঁপিয়েছেন কিংবা নীতিনির্ধারণী উচ্চপদে আসীন ছিলেন, তাদের অনেকেরই এবারের ঈদ কাটবে কারাগারের চার দেয়ালের ভেতরে। কেরানীগঞ্জের বিশেষ কারাগারে বন্দি সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য (এমপি) ও উচ্চপদস্থ আমলারা এবার একসঙ্গে ঈদের জামাতে অংশ নেবেন। এ উপলক্ষ্যে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ।

কারা সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট হত্যা মামলার আসামি প্রায় ১২৩ জন সাবেক মন্ত্রী, এমপি ও কর্মকর্তাকে এই বিশেষ কারাগারে রাখা হয়েছে। তাদের ঈদ উদযাপন হবে কারাগারের ভেতরেই।

কারাগারে থাকা উল্লেখযোগ্য সাবেক মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা হলেন- সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, সাবেক মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, সাবেক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরসহ অন্যান্যরা।ঈদ উপলক্ষ্যে বন্দিদের জন্য নতুন পোশাকের ব্যবস্থা করা হয়েছে। অনেক বন্দি পরিবারের পক্ষ থেকে পোশাক পেয়েছেন। এছাড়া দুস্থ বন্দিদের জন্য কারা অধিদপ্তর ও সমাজকল্যাণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে লুঙ্গি, গেঞ্জি ও পাঞ্জাবি বিতরণ করা হয়েছে।

কারা অধিদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি-উন্নয়ন ও গণমাধ্যম) মো. জান্নাতুল ফরহাদ জানান, ঈদ উপলক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন কারাগারে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, খেলাধুলা ও বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বন্দিরা স্বজনদের সঙ্গে সীমিত সময়ের জন্য মোবাইলে কথা বলার ও খাবার গ্রহণের সুযোগ পাবেন।

কেরানীগঞ্জের বিশেষ কারাগার সূত্রে জানা গেছে, সেখানে একটি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে ভিআইপি বন্দিরা একত্রে নামাজ আদায় করবেন। তবে রাজসাক্ষী হওয়ায় সাবেক আইজিপি আবদুল্লাহ আল মামুনকে পৃথক কক্ষে রাখা হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সাপেক্ষে তাকে জামাতে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

কারা অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজনস) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন বলেন, ‘দেশের সব কারাগারে ঈদের জামাত ও বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি কারা গোয়েন্দাদের নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।’

প্রতিবারের মতো এবারও ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে দেশের কারাগারগুলোতে বন্দিদের জন্য বিশেষ খাবারের আয়োজন করছে কারা অধিদপ্তর। এর পাশাপাশি থাকছে ফোনে স্বজনদের সঙ্গে কথা বলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগের সুযোগ।

কারা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকাসহ দেশের ৭৫টি কারাগারের মধ্যে ৭৩টিতে বন্দি রয়েছে। হাজতি ও কয়েদি মিলিয়ে বর্তমানে দেশের কারাগারগুলোতে প্রায় ৭৮ হাজার ৫০০ বন্দি অবস্থান করছেন।

ঈদের দিনের খাবার মেনু নিয়ে অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক মো. জাহাঙ্গীর কবির জানান, ঈদের সকালে বন্দিদের পরিবেশন করা হবে পায়েস, সেমাই ও মুড়ি। দুপুরে থাকবে বিশেষ আয়োজন– পোলাও, গরুর রেজালা (সনাতন ধর্মাবলম্বী ও যারা গরু খান না, তাদের জন্য খাসি), সেদ্ধ ডিম, মুরগির রোস্ট, মিষ্টি, সালাদ ও পান-সুপারি। রাতে পরিবেশন করা হবে সাদা ভাত, রুই মাছ ও আলুর দম।

সূত্রমতে, সরকারি বরাদ্দকৃত অর্থ দিয়ে কিছু কিছু কারাগার মেনুতে সামান্য পরিবর্তন বা অতিরিক্ত হিসেবে কোমল পানীয় সরবরাহ করতে পারে। এছাড়া ঈদের দিন স্বজনদের রান্না করা খাবার খাওয়ার সুযোগও পাবেন বন্দিরা।

কারাগার সূত্রে আরও জানা যায়, ঈদের দিন নামাজের পর বন্দিদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। বন্দিদের মধ্যে যারা শিল্পী, তারা সেখানে গান গাইবেন। ঈদের পরদিন অনুষ্ঠিত হবে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ। এছাড়া ঈদের তিন দিনের মধ্যে যেকোনো এক দিন স্বজনেরা বন্দিদের সঙ্গে সরাসরি দেখা করার সুযোগ পাবেন।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে : 987 বার