বিয়ের আসর থেকে পালিয়ে থানায় আশ্রয় নিলেন কনে
২৮ জানু ২০২৬, ১১:০৭ অপরাহ্ণ

স্টাফ রিপোর্টার:
অপ্রাপ্ত বয়স্ক মেয়ের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়ের আয়োজন করে পরিবার। স্বাভাবিক নিয়মেই কনের বাড়িতে যায় বরযাত্রী, খাওয়া-দাওয়ার আয়োজনও শেষের পথে। এমন সময় হঠাৎ খবর আসে, কনে বিয়ের আসর থেকে পালিয়ে থানায় গিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুর ২টার দিকে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে ঘটে এই ঘটনা। কনের বাড়ি লৌহজং উপজেলায়। কনে স্থানীয় একটি কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।
সিরাজদিখান থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের এক যুবকের পারিবারিকভাবে বিয়ে ঠিক হয়। সেই অনুযায়ী বুধবার দুপুরে কনের বাড়িতে বরযাত্রীরা গিয়ে খাওয়া-দাওয়া করেন। এর মধ্যেই জানা যায়, কনে বিয়েতে অনিচ্ছুক হয়ে আগেই বাড়ি থেকে বের হয়ে থানায় গিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। পরে কনের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়ের আয়োজন করায় অভিবাবকদের ডাকা হয় থানায়। পুলিশ অভিবাবকদের বুঝিয়ে ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়ে দিতে বারণ করে এবং কনেকে অভিবাবকদের জিম্মায় দেন। কনেপক্ষ পরে এই বিবাহ ভেঙে দেন বলে জানান সিরাজদিখান থানার ওসি।
এ ব্যাপরে কনের মা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে সাংবাদিকদের বলেন, মেয়ে রাজি না থাকায় বিয়ে হয়নি। মেয়ে এখন বাড়িতেই আছে।
সিরাজদিখান থানার এএসআই কামরুল ইসলাম ওই কনের বরাত দিয়ে বলেন, পরিবারের সিদ্ধান্তে অনিচ্ছাসত্ত্বেও তার বিয়ে দেওয়া হচ্ছিল। পাশাপাশি বিয়ের জন্য পরিবারের ঠিক করা ছেলেটিকে তিনি পছন্দ করেন না এবং আইনগতভাবে তার নিজের বিয়ের বয়সও হয়নি। এ কারণে তিনি থানার সহযোগিতা নিয়েছেন।এ ব্যাপারে সিরাজদিখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম এ হান্নান বলেন, ওই মেয়ের মতামত উপেক্ষা করে পরিবার জোরপূর্বক বিয়ের আয়োজন করেছিল। বাল্যবিবাহ ও অনিচ্ছাকৃত বিয়ে এড়াতে তিনি থানায় আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। পরে আমরা মেয়ের অভিবাবকদের ডেকে থানায় এনে মেয়ের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়ে দিতে বারণ করি এবং মেয়েটিকে অভিবাবকদের সঙ্গে বাড়িতে পাঠিয়ে দিই। পরে আমরা জেনেছি অভিবাবকরা ওই বিয়ে ভেঙে দিয়েছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে কনের অভিভাবকদের কথা বলেই বিয়েটা বন্ধ করা হয়েছে।
এই সংবাদটি পড়া হয়েছে : 992 বার