বিয়ানীবাজার সংবাদদাতা:
আসন্ন নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না ছাত্র-জনতার রক্তাক্ত গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত ও কার্যক্রমনিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ। তবে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের ন্যায় সিলেট-৬ বিয়ানীবাজার-গোলাপগঞ্জ নির্বাচনী আসনে দলটির আছে বিপুল সংখ্যক রিজার্ভ ভোট। এই ভোটারদের নানা কৌশলে কাছে টানছে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী। জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে কার্যক্রমনিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ কর্মী, সমর্থক, ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন বিএনপি-জামায়াত প্রার্থীরা।
একই সঙ্গে পর্দার অন্তরালে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন তারা। মামলা, গ্রেফতার থেকে বাঁচানোর আশ্বাস দিচ্ছেন অনেক প্রার্থী। দেশের বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় অনেক নেতা সাধারণ কর্মী যোগ দিচ্ছেন বিএনপি-জামায়াতে।
সূত্র জানায়, নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হলে বিপুল সংখ্যক আওয়ামীলীগ ও জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা বিএনপি-জামায়াতে যোগ দিতে পারে। তলেতলে সেই প্রস্তুতি চলছে। রাজনৈতিক সূত্রগুলো মনে করছে, আওয়ামী লীগের ভোট কারা পাবে, সেটি নির্ভর করছে কয়েকটি বিষয়ের ওপর। প্রথমত, দলটির আদর্শের কাছাকাছি যদি কোনো প্রার্থী থাকে, তাঁদের ভোট দিতে পারে। দ্বিতীয়ত, নির্দিষ্ট আসনে ভোটারদের সঙ্গে নির্দিষ্ট প্রার্থীর সম্পর্কের ওপর নির্ভর করবে। তৃতীয়ত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের পর প্রার্থী বা তাঁদের কর্মীরা আওয়ামী লীগের কর্মীদের ওপর কতটা বৈরী আচরণ করেছেন, সেটাও বিবেচনা থাকবে। এর বাইরে কেন্দ্রীয়ভাবে যদি কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়, সেটা বড় ভূমিকা রাখবে।
ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার প্রায় দেড় বছর পরেও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের অধিকাংশ নেতাকর্মীকেই আত্মগোপনে থাকতে হচ্ছে। বাড়ি ঘরে যেতে পারছেন না, জীবন জীবিকার জন্য কাজকর্ম, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ স্বাভাবিক জীবন যাপন থেকে তাদেরকে দূরে থাকতে হচ্ছে। এই প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে থেকে বেরিয়ে আসতে নির্বাচনকে কিছুটা কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে দলটির নেতাকর্মী, সমর্থকরা। বিএনপি, জামায়াতের প্রার্থীরা আওয়ামী লীগের নেতা কর্মী সমর্থকদের ভোট যখন নিজেদের পক্ষে টানার চেষ্টা করছে বিভিন্ন কৌশলে তখন আওয়ামী লীগের কর্মী সমর্থক ভোটাররাও সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তাদের সমর্থন দিয়ে প্রকাশ্যে আসার চেষ্টা করছে। আর এই সুযোগে বিএনপি ও জামায়াত আওয়ামী লীগের ভোট নিজেদের বক্সে আনার জন্য নানা কৌশলে কাজ করছেন। নানাভাবে তাদের আশ্বস্ত করছেন। দু’দলই এসব মামলায় নিরাপরাধ আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকদের গ্রেফতার বা হয়রানি না করতে প্রশাসনকে অনুরোধ করেছেন।
আওয়ামী লীগের পতনের পর ‘পরিশুদ্ধ’ বা ‘রিফাইন্ড’ আওয়ামী লীগের ধারণা নিয়ে আলোচনা হয়। তবে তা আর এগোয়নি। মনে করা হয়েছিল আওয়ামী লীগের অপেক্ষাকৃত পরিচ্ছন্ন নেতারা স্বতন্ত্র নির্বাচন করবেন। তা–ও খুব একটা হয়নি। ফলে ভোটে অংশ নেওয়া দলগুলো নিজেদের মতো করে আওয়ামী লীগের ভোটারদের পক্ষে টানার চেষ্টা করছে। এতে সফল হলে একদিকে ভোটের হার বাড়বে; অন্যদিকে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অবস্থান আরও দুর্বল হতে পারে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিয়ানীবাজার উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর প্রথমসারির এক নেতা বলেন, সামনে নির্বাচন, আওয়ামী লীগ নির্বাচন করতে পারছে না। কিন্তু আওয়ামী লীগের তো ভোট আছে। এই ভোটগুলো পাওয়ার টার্গেট বিএনপি, জামায়াত সবারই। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা অনেকেই ভোট দিতে যাবে না। কিন্তু আওয়ামী লীগের সাধারণ ভোটাররা যাতে ভোট দিতে যায় এবং সেই ভোটগুলো যাতে পাওয়া যায় বিএনপি ও জামাতের প্রার্থীরা প্রত্যেকেই সে চেষ্টা করছে।
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সরওয়ার হোসেন বলেন, আমরা হিন্দু মুসলিম সবার কাছেই যাচ্ছি। আওয়ামী লীগের অনেক ভোটার আমাদের সাথে যোগাযোগ করছে তারা ভোট দিবে বলেও জানিয়েছেন। আমরা দলীয় আদর্শ দিয়ে ভোট টানার চেষ্টা করছি। আওয়ামীলীগসহ সাধারণ মানুষ এবার বিএনপিকে ভোট দিবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: আব্দুল খালিক
আইন-উপদেষ্টা: ব্যারিস্টার ফয়সাল দস্তগীর, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।
উপ-সম্পাদকঃ ফুজেল আহমদ
প্রকাশক কর্তৃক উত্তরা অফসেট প্রিন্টার্স কলেজ রোড, বিয়ানীবাজার, সিলেট থেকে মুদ্রিত ও শরীফা বিবি হাউজ, মেওয়া থেকে প্রকাশিত।
বানিজ্যিক কার্যালয় : উত্তর বাজার মেইন রোড বিয়ানীবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: dailyajkersylhet24@gmail.com মোবাইল: ০১৮১৯-৫৬৪৮৮১, ০১৭৩৮১১৬৫১২।
শাফিয়া শরীফা মিডিয়া বাড়ীর একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান দৈনিক আজকের সিলেট, রেজি নং: সিল/১৫৩