এডভোকেট মোঃ আমান উদ্দিন:
ভূমিকাঃ প্রত্যেক ভোটারগণ নিশ্চয়ই সচেতন। প্রত্যেক সুস্থ পিতা-মাতা,ভাই-বোন, চাচা-চাচি, মামা-মামি, দাদা-দাদি, নানা-নানি সহ সকল সম্পর্কীয় ভোটারগণ নিজ দায়িত্বে ভোট কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে কাহার ও মিথ্যা প্রলোভনে উদ্ভোদ্ধ না হয়ে ভোট প্রদান আপনার আমার ঈমানী দায়িত্ব। হয়ত: ১টি ভোট বেশী পেয়ে আপনার আমার গাড়ে ৫টি বছর নির্বাচিত প্রতিনিধি দুঃশাসন চালাতে পারে। নির্যাতিত হবে গোটা জাতি। এই দুঃশাসন ও অপশাসন থেকে বাঁচাতে ভোট প্রদান আপনার নৈতিক দায়িত্ব। ভোটের পূর্বে অনেক মানুষরূপি দানব জনদরদী নাম দিয়ে নগদ আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে সহজ সরল মানুষকে প্রভাবিত করে ভোটর পবিত্রতা নষ্ট করতে চাইবে। মানুষরূপি শয়তানের নিকট থেকে প্রয়োজন মনে করিলে টাকা নিবেন কিন্তু ভোট দিবেন না। কারণ সে শয়তান। শয়তান কখনও ভালো শাসন উপহার দিতে পারে না। পরবর্তীতে সেই শয়তানই সবচেয়ে বেশি আপনাকে নির্যাতিত করিবে। সুতরাং শয়তানের নিকট থেকে টাকা গ্রহন আপনার কোন অপরাধ নহে। কারণ কেন না সে নিজ দায়িত্ব ঘরে উপস্থিত হয়ে টাকা দিয়েছে। শয়তান কে তো আর দৃশ্যত: দেখা যায় না। প্রতিকী হিসাবে ধরে নিতে পাবেন সে-ই শয়তান।
ধর্মীয় মূল্যবোধঃ আমরা এমনিতেই গর্বিত কারণ বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ৯২ ভাগই মুসলমান। মুসলমান হতে হলে ঈমান, নামাজ, রোজা, হজ্জ, যাকাত এইমূল ৫টি স্তম্বের উপর দৃঢ়তার সাথে বিশ্বাসী হতে হবে । এই ৫টি স্তম্ব যাহারা যথাযথভাবে লালন এবং পালন করিয়া থাকেন তাহারা -ই প্রকৃত মুসলমান। মুসলমান কখনও মিথ্যা, গিবত, পরনিন্দা, কুৎসা, খুন, ধর্ষন, চাদাবাজী, অন্যায়, অত্যাচার, ভ্যাবিচার, ঘোষ, দুর্নীতি, জুলুম, নির্যাতন, মিথ্যা আশ্বাস ইত্যাদি করিতে পারে না। প্রকৃত মুসলমান বিশ্বাস করে থাকেন দুইজন ফেরেশতা তাহার কাধে বিনা বেতনে সয়ং আল্লাহ নিয়োগ দিয়েছেন। একজন ফেরেশতা আপনার দৈনন্দিন ভালো কাজগুলো সাথে সাথে লিখেন এবং মন্দ কাজগুলো লিখার দায়িত্বপ্রাপ্ত ফেরেশতা অপেক্ষা করেন যদি আমার বান্দা শেষ পর্যন্ত দিনশেষে ক্ষমা প্রার্থনা করে মাফ করে দেওয়ার সুপারিশ লিখে রাখেন। যদি দিনশেষে ক্ষমা প্রার্থনা না করে অপকর্মচালিয়ে যায় তাহার জন্য কঠোর শাস্তির সুপারিশ লিপিবদ্ধ থাকবে। সেই বিচার পরকালে হবে।
যেহেতু আপনি ইসলাম ধর্মে বিশ্বাাসী সেহেতু প্রত্যেক মুসলমানের ডানে বামে ২ জন ফেরেশতা আছেন এই কথাটি বিশ্বাস করিতে-ই হইবে। সুতরাং কোন বিশেষ ব্যক্তিকে শুধু দাড়ি টুপি পায়জামা বা মুখরোচ্ক কথাবার্ত্য শুনে কাউকে ভালো মানুষ সত্যায়িত করতে যাবেন না। কারণ তাহার প্রতিটি কর্মের সাথে আপনি থাকেন না । খৃষ্টান বা ইহুদী বা হিন্দু ধর্মের অনেকই আছেন লম্বা লম্বা দাড়ি আছে কিন্তু মুসলমান নহে। আমার নামের সাথে শুধু ইসলাম লিখে দিলেই আমি বেহেশতে চলে যাব এটা ডাহা মিথ্যা। কারণ ইসলাম ধর্মে কোন ব্যক্তিবিশেষের নাম ইসলাম হলে-ই সে কিন্তু বেহেশতে যাবে না। এমনকি কোন দল বা গোষ্ঠি এর নামের সাথে ইসলাম কথাটি লিপিবদ্ধ থাকলে-ই খাটি মুসলিম না হতেও পারেন। কারণ সেই দল বা গোষ্ঠি ইসলামি অনুশাসন মেনে চলেতে ব্যর্থ হইয়াছেন। কারণ আল্লাহ কতৃক তাহাদের উপর কোন ভার্তি দায়িত্ব প্রদান করা হয় নাই। ইসলামের অপব্যাখ্যা করে সহজ সরল মানুষকে ধোকা না দেওয়া-ই উত্তম।
ভোট প্রদানের গুরুত্বঃ সিলেট জেলা আইনজীবি সমিতিতে ভোট প্রদান করে আসিতেছি প্রায় ২৬ বছর যাবত। একটি বছর কোন কারণে ভোটে না যাওয়ার সিদ্ধন্ত নিয়েছিলাম। ভোটের দিন মনে হল ভোটটি দেওয়া জরুরী। এ কথা ভেবে জরুরী ভিত্তিতে ভোট প্রদান কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে ভোট প্রদান করিলাম। পরদিন পত্রিকা মাধ্যমেই জানিতে পারিলাম সাধারণ সম্পাদক পদে ২জন-ই সমান সংখ্যক ভোট পেয়েছেন। সিলেট জেলা আইনজীবি সমিতিতে প্রায় ২২শত ভোটার। এই ২২শত ভোটারের সিদ্ধন্ত কি আমার ১টি ভোটে ফলাফল পাল্টিয়ে দিলো ? সুতরাং প্রত্যেক ভোটারকে বিনয়ের সাথে আবারও অনুরোধ করিতেছি ভোট কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে শান্তিপূূর্ণ ভাবে ভোট প্রদানের জন্য। প্রার্থী আপনার পছন্দ, ভোট কেন্দ্রে যাওয়া আমার অনুরোধ।
লেখকঃ সভাপতি-সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন), বিয়ানীবাজার উপজেলা শাখা, সিলেট। মোবাইল নংঃ ০১৮১৯১৭৬২১৭
সম্পাদক ও প্রকাশক: আব্দুল খালিক
আইন-উপদেষ্টা: ব্যারিস্টার ফয়সাল দস্তগীর, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।
উপ-সম্পাদকঃ ফুজেল আহমদ
প্রকাশক কর্তৃক উত্তরা অফসেট প্রিন্টার্স কলেজ রোড, বিয়ানীবাজার, সিলেট থেকে মুদ্রিত ও শরীফা বিবি হাউজ, মেওয়া থেকে প্রকাশিত।
বানিজ্যিক কার্যালয় : উত্তর বাজার মেইন রোড বিয়ানীবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: dailyajkersylhet24@gmail.com মোবাইল: ০১৮১৯-৫৬৪৮৮১, ০১৭৩৮১১৬৫১২।
শাফিয়া শরীফা মিডিয়া বাড়ীর একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান দৈনিক আজকের সিলেট, রেজি নং: সিল/১৫৩