রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পর এরশাদবিরোধী আন্দোলন জোরদার হতে থাকে এবং ১৯৮৭ সালের শুরুর দিকে রাজনৈতিক জোটগুলো একত্রভাবে এরশাদের পদত্যাগের দাবিতে সোচ্চার হয়। লাগাতার জনসভা, ধর্মঘট, অবরোধ, হরতাল চলতে থাকে। ১৯৮৭ সালের ২৭ নভেম্বর দেশে জরুরি অবস্থা জারি এবং ৬ ডিসেম্বর সংসদ ভেঙে দেওয়া হয়। ১৯৮৮ সালের ৩ মার্চ চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঘোষণা দেওয়া হয়।
বিএনপি, আওয়ামী লীগ, জামায়াতসহ প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচন বর্জন করে। জাতীয় পার্টি ছাড়াও ৭৬টি অখ্যাত রাজনৈতিক দলের জোট ‘সম্মিলিত বিরোধী দল’ এতে অংশ নেয়। এ ছাড়া জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (সিরাজ) ও ফ্রিডম পার্টিও এতে অংশ নেয়। ৩ মার্চ ভোটের দিন প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো সারা দেশে হরতাল ডাকে। ওই দিন রাস্তাঘাটে মানুষ ও যানবাহন খুবই কম ছিল। ভোটকেন্দ্রগুলো ছিল প্রায় ভোটারশূন্য। ফলে জাল ভোট ও কাল্পনিক ভোট গণনার সাক্ষী হয় দেশের মানুষ। নির্বাচন কমিশন বলেছিল, ৫৪ দশমিক ৯৩ শতাংশ ভোট পড়েছে, বিরোধী দলগুলো বলেছিল ১ শতাংশ ভোটারও ভোট দিতে যায়নি। (সেড; ১০২)
একটি গণভোট, একটি রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ও দুটি সংসদ নির্বাচন ছাড়াও এরশাদের শাসনামলে ১৯৮৫ সালে ও ১৯৯০ সালে দুটি উপজেলা নির্বাচন এবং ১৯৮৮ সালে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। গুন্ডামি, সংঘাত ও অন্যান্য নির্বাচনী অপরাধ এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে সাধারণ মানুষ মনে করতে থাকে, তাদের ভোটাধিকার বলতে কিছু অবশিষ্ট নেই। নির্বাচনব্যবস্থা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। (সেড; পৃ: ১০২)
মানবাধিকারকর্মী ও সোসাইটি ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড হিউম্যান ডেভেলপমেন্টের (সেড) পরিচালক ফিলিপ গাইন এরশাদের শাসনামলে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিলেন। নির্বাচনী ত্রুটির তালিকা তাঁর লেখায় পাওয়া যায়: ভোটার তালিকায় যোগ্য ভোটারের নাম না থাকা; একই ব্যক্তি একাধিক এলাকার ভোটার; ভোটারদের প্রভাবিত করতে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ; সরকারি কর্মকর্তার পরিবর্তে দলীয় লোক ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বে; নির্বাচনের আগে ভোটারদের ভয় দেখানো; ভোট কেনা; ভোটকেন্দ্র দখল; জাল ভোট দেওয়া; ব্যালট পেপারে আঙুলের ছাপ বা সই না দেওয়া; নির্ধারিত সময়ের আগে ভোট দেওয়া শুরু; নির্ধারিত সময়ের আগে ভোটকেন্দ্র বন্ধ করে দেওয়া; নির্ধারিত সময়ের পরও ভোটকেন্দ্র চালু রাখা; একের ভোট অন্যে দিয়ে দেওয়া; ভুতুড়ে ভোটার; ব্যালট বাক্স ছিনতাই; ব্যাটল পেপার ছিনতাই; ফলাফল পাল্টে দেওয়া ইত্যাদি। (সেড; পৃ: ১০৩)।
দড়ি ধরে মারো টান এবং বিচারপতি সাহাবুদ্দীন
এরশাদবিরোধী আন্দোলন ১৯৯০ সালের অক্টোবর থেকে তুঙ্গে ওঠে। রাজপথের বিক্ষোভে পাঁচজনের প্রাণহানি ঘটে। ২২টি প্রধান ছাত্রসংগঠন সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্য গঠন করে এরশাদের হাত থেকে দেশকে উদ্ধারের শপথ নেয়। অন্যদিকে বিএনপির নেতৃত্বাধীন সাতদলীয় জোট, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন আটদলীয় জোট এবং বামপন্থী পাঁচদলীয় জোট ১৯৯০ সালের ১৯ নভেম্বর গণতন্ত্রে উত্তরণের জন্য একটি যৌথ ঘোষণায় সই করে। এই ঘোষণায় ছিল চার দফা: শুধু নির্বাচন বয়কটই না, এরশাদের অধীন সব নির্বাচন প্রতিহত করা হবে; এরশাদকে পদত্যাগ করতে হবে এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে; নির্দলীয় সরকার নির্বাচনের ব্যাপারে জনমনে আস্থা ফিরিয়ে আনবে; এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনে নির্বাচিত সার্বভৌম সংসদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করবে। এর একটি দফায় গণমাধ্যমকে, বিশেষ করে রেডিও ও টেলিভিশনকে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করা এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দলগুলোকে প্রচার-প্রচারণার ক্ষেত্রে ন্যায্য সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়। (হাকিম; পৃ: ১৩০)।
আন্দোলনের মুখে বেসামাল এরশাদ ২৭ নভেম্বর দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন এবং তার আট দিন পর ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন অস্থায়ী সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন।
মানবাধিকার ও উন্নয়ন নিয়ে কাজ করে এমন ৩৬টি এনজিওর মোর্চা বাংলাদেশ মানবাধিকার সমন্বয় পরিষদ (বামাসপ) দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির ওপর নজর রাখার পাশাপাশি পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করার সিদ্ধান্ত নেয়। এই মোর্চা প্রায় চার হাজার কর্মীর সহায়তায় ৪০টি সংসদীয় আসনের দুই হাজার কেন্দ্রে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করে। এই প্রতিনিধি ওই পর্যবেক্ষণ প্রক্রিয়ার শুরু থেকে যুক্ত ছিলেন এবং নির্বাচন পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন তৈরিতেও সক্রিয় অংশ নেন।
নির্বাচনী আয়োজন
বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি করা হয়েছিল। তিনি তাঁর প্রথম বেতার ও টেলিভিশন ভাষণে বলেছিলেন, ১৯৪৭ সালের পর থেকে তখন পর্যন্ত সব সরকারের মধ্যে তাঁর সরকারই সত্যিকার অর্থে নিরপেক্ষ। তিনি সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে সহায়তা করার আহ্বান জানান। ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তারিখ ঠিক করা হয়। এক ভাষণে বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ বলেন, ‘আমি নির্ভীক, অনমনীয় এবং দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। নির্বাচন ২৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবেই।’ (বামাসপ; পৃ: ২৩)
এরশাদ সরকার পতনের পর রাজনৈতিক দলের চাপে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও কমিশনের সদস্যরা পদত্যাগ করেন। রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠনের কাছে গ্রহণযোগ্য সুপ্রিম কোর্টের তিনজন বিচারপতিকে নিয়ে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়। দায়িত্ব নেওয়ার পর নতুন প্রধান নির্বাচন কমিশনার বিচারপতি আবদুর রউফ বলেন, কমিশন স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে পারবে। (বামাসপ; পৃ: ২৮)
নির্বাচন কমিশনকে কঠোর আচরণ করার ক্ষেত্রে কিছু আইনগত ক্ষমতা দেওয়া হয়। নির্বাচন বিধিমালার কিছু পরিবর্তনও করা হয়। প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে আইনি কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়। গোলাবারুদ ও অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধারের জন্য কর্তৃপক্ষ কঠোর ভূমিকা রাখে।
ক্ষমতাচ্যুত এরশাদ এবং তাঁর মন্ত্রীরা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পেরেছিলেন। তাঁদের অনেকে পলাতক ছিলেন, অনেকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল, কেউ কেউ জেলেও ছিলেন। এরশাদ ও তাঁর মন্ত্রীদের মনোনয়নের বৈধতা নিয়ে কোর্টে চ্যালেঞ্জ করা হয়। সে চ্যালেঞ্জ টেকেনি। এরশাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে জনমনের একটি অংশে অসন্তোষ দেখা দেয়। তবে নিজের নিরপেক্ষ ভাবমূর্তি নষ্ট না করে নির্বাচন কমিশন পরিস্থিতি মোকাবিলা করে। (বামাসপ; পৃ: ৩২)।
জাতীয় সংসদের ৩০০টি আসনের জন্য ৩ হাজার ৮৩৮টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছিল। বাছাই ও প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর ২ হাজার ৭৭৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। বিএনপি ৩০০, আওয়ামী লীগ ২৬৪, জাতীয় পার্টি ২৭২ ও জামায়াতে ইসলামী ২৫১ আসনে প্রার্থী দেয়। খালেদা জিয়া, শেখ হাসিনাসহ মোট ৪৭ জন নারী প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। বেগম খালেদা জিয়া ও হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ পাঁচটি করে আসনে প্রার্থী হন এবং দুজনই সব আসনে বিজয়ী হন। শেখ হাসিনা তিনটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তিনি ঢাকার দুটি আসনে হারেন, গোপালগঞ্জের একটি আসনে জেতেন।
একটি গণ-আন্দোলন ও এরশাদের ক্ষমতাচ্যুতির পর জনমনে এমন সংশয় ছিল যে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংঘর্ষ হতে পারে। প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর মধ্যে কাদা-ছোড়াছুড়ি ও অসহিষ্ণুতা বাড়তে থাকে। নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে একাধিক বৈঠক করে ১৯৯১ সালের ২৬ জানুয়ারি ১৬ দফা আচরণবিধি ঘোষণা করে। এতে ভালো ফল দেয়। এর প্রমাণ আছে। নির্বাচনের দুই দিন আগে শেষ প্রচারের দিনে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ ঢাকা শহরের দুটি পৃথক স্থানে জনসমাবেশের আয়োজন করে। ওই দিন দল দুটির মিছিল একটি অন্যটিকে পাশে রেখে জনসমাবেশে গেছে, স্লোগান দিয়েছে। কিন্তু শহরের কোথাও সন্ত্রাসী বা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি, একে অন্যকে আক্রমণ করেনি।
নির্বাচন কমিশন বিদেশি পর্যবেক্ষকদের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করার আনুষ্ঠানিক অনুমতি দেয়। কিন্তু দেশি কয়েক হাজার পর্যবেক্ষক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করার আনুষ্ঠানিক অনুমতি পাননি। (বামাসপ; পৃ: ১৯)। তবে নির্বাচন পর্যবেক্ষণে তাঁদের বাধাও দেয়নি কমিশন। কমনওয়েলথ পর্যবেক্ষক দল ছাড়াও সার্ক, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ইনস্টিটিউট (এনডিআই) এই নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করে।
নির্বাচন কেমন ছিল
বাংলাদেশের নির্বাচন সংস্কৃতিতে সন্ত্রাস অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। পঞ্চম সংসদ নির্বাচনেও সহিংসতা হয়েছিল। নির্বাচনের দিন একজন মানুষ নিহত হয়েছিল। তবে বাংলাদেশ মানবাধিকার সমন্বয় পরিষদের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন বলছে, নির্বাচনের আগে ও পরে সারা দেশে ৪৮ জন নির্বাচনী সহিংসতায় প্রাণ হারান, আহত হন ১ হাজার ৯০ জন। নির্বাচনের দিন ২১টি কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ বাতিল হয়। নিজ নিজ দলকে ভোট না দেওয়ার কারণে পিটিয়ে হত্যা করার অভিযোগও ওঠে, বাড়িতে আগুন দেওয়ার অভিযোগ ছিল, সংখ্যালঘু ও তাদের সম্পত্তির ওপর আক্রমণের ঘটনাও ঘটে।
মাঠে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দল হিসেবে ছিল বিএনপি ও আওয়ামী লীগ। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া প্রায় দুই হাজার নির্বাচনী সভায় ভাষণ দিয়েছিলেন। তাঁর আক্রমণের প্রধান লক্ষ্য ছিল আওয়ামী লীগ। তিনি বলতে দ্বিধা করেননি: আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় গেলে দেশ বিক্রি হয়ে যাবে বা সংবিধান থেকে বিসমিল্লাহ উঠে যাবে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের প্রধান শেখ হাসিনার প্রধান লক্ষ্যবস্তু ছিল বিএনপি। তিনি জনসভায় বলেছিলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় গেলে গণতন্ত্র ক্যান্টনমেন্টে বন্দী হবে।’ বেগম খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনা দুজনই এরশাদের শাসনামল দীর্ঘায়িত হওয়ার জন্য একে অন্যকে অভিযুক্ত করেন।
নির্বাচন যে একটি উৎসবের বিষয়, পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় দেশের মানুষ তা উপভোগ করতে পেরেছিল। নির্বাচন সংস্কৃতিতে পরিবর্তন ধরা পড়েছিল পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে। তাতে দেখা যায়: কেন্দ্রে কেন্দ্রে বিভিন্ন দলের প্রার্থীদের নির্বাচনী এজেন্টরা নিজেদের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখেন, একে অন্যকে সাহায্যও করেন; ভোটকেন্দ্রের বাইরে চায়ের দোকান, পানের দোকান, হোটেলে বিভিন্ন দলের কর্মী ও সমর্থকেরা পাশাপাশি বসে আড্ডা দিয়েছেন, আলাপ-আলোচনা করে দিন কাটিয়েছেন; জাল ভোট বা চ্যালেঞ্জ ভোটের ক্ষেত্রে অহেতুক তর্ক-বিতর্কে না জড়িয়ে এজেন্টরা প্রমাণের ওপর বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন; মহিলা ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিয়েছেন; ভোটাররা গোপনীয়তা বজায় রাখার চেষ্টা করেছেন এবং নির্বাচনী কর্মকর্তারা নির্বিঘ্নে দায়িত্ব পালন করেছেন, রাজনৈতিক দলের কর্মীরা তাঁদের সহযোগিতা করেছেন। (বামাসপ; পৃ: ৪৪)।
১৯৯১ সালে নির্বাচনে জয়ী হলো বিএনপি; ‘ভি’ চিহ্নে তা প্রকাশে খালেদা জিয়াছবি কতৃজ্ঞতা: মো. লুৎফর রহমান বীনু
এই নির্বাচনে ৫৫ দশমিক ৩৫ শতাংশ ভোট পড়েছিল। নির্বাচনে বিএনপি ১৪০টি আসন ও প্রদত্ত ভোটের ৩০ দশমিক ৮১ শতাংশ ভোট পায়। আওয়ামী লীগ পায় ৮৮ আসন ও প্রদত্ত ভোটের ৩০ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ। জাতীয় পার্টি ৩৫টি আসন ও ১১ দশমিক ৯২ শতাংশ ভোট এবং জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ ১৮টি আসন ও ১২ দশমিক ১৩ শতাংশ ভোট পায়। অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা পেয়েছিলেন ১৯টি আসন।
প্রথম অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ইতিহাস সৃষ্টি করে। এই নির্বাচনে বড় অনিয়মের অভিযোগ কেউ তোলেনি। আগের নির্বাচনগুলোর সঙ্গে তুলনা করলে এই নির্বাচন ছিল অনেক ভালো। দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি ছিল গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথে অগ্রসরমাণ দেশগুলোর জন্য আদর্শ নির্বাচন (সেড; পৃ: ১০৫)। আওয়ামী লীগ নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তোলে। জামায়াতের সমর্থনে সরকার গঠন করে বিএনপি।
তথ্যসূত্র:
১. নির্বাচন পর্যবেক্ষণ রিপোর্ট: পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন, ১৯৯১; বাংলাদেশ মানবাধিকার সমন্বয় পরিষদ (বামাসপ); সেপ্টেম্বর ১৯৯১।
২. সাংবাদিক সহায়িকা: তথ্যপঞ্জি নির্বাচনী রিপোর্টিং; সোসাইটি ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট (সেড); ১৯৯৬।
৩. হাকিম, এ মুহাম্মদ; বাংলাদেশ পলিটিকস: দ্য সাহাবুদ্দীন ইনট্রেগনাম; দ্য ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড; ১৯৯৩।