পরকীয়ার অভিযোগে যুবক-যুবতীকে মধ্যযুগীয় কায়দায় অমানবিক নির্যাতন
১৬ জানু ২০২৬, ১১:৩২ পূর্বাহ্ণ

স্টাফ রিপোর্টার:
চুয়াডাঙ্গায় পরকীয়ার অভিযোগ তুলে এক যুবক ও এক নারীকে প্রকাশ্যে নির্মমভাবে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় তাদের মাথার চুল কেটে ফেলা হয় এবং গলায় জুতার মালা ঝুলিয়ে গাছের সঙ্গে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা হয় বলে জানা গেছে।বুধবার (১৪ জানুয়ারি) গভীর রাত থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত সদর উপজেলার কুন্দিপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুজনকে উদ্ধার করে দর্শনা থানায় নিয়ে যায়। তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অভিযুক্তরা পালিয়ে যাওয়ায় এখনো কাউকে আটক করা যায়নি এবং কোনো মামলা দায়ের হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুন্দিপুর গ্রামের আহমদ আলীর ছেলে স্বপন আলীর সঙ্গে একই গ্রামের বাসিন্দা আরিফ মিয়ার স্ত্রী আসমা খাতুনের দীর্ঘদিনের পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। বুধবার রাতে স্বপন আলী ওই নারীর সঙ্গে দেখা করতে গেলে বিষয়টি টের পেয়ে তাদের ধরে ফেলেন আরিফ মিয়া।
এরপর স্বপন আলী ও আসমা খাতুনকে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয় এবং অপমানসূচকভাবে তাদের গলায় জুতার মালা পরানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, উত্তেজিত হয়ে আরিফ মিয়া স্বপন আলীর মাথার চুল কেটে দেন। পুরো ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
ভিডিওটি পুলিশের নজরে এলে দর্শনা থানা পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে দুজনকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রামবাসীরা জানান, যারা এই বর্বর নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা জরুরি। কেউ অপরাধ করলে বিচার হবে আইনের মাধ্যমে, এভাবে প্রকাশ্যে নির্যাতন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
চুয়াডাঙ্গা জজ কোর্টের আইনজীবী আহসান আলী বলেন, আইন হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ কারও নেই। অপরাধ প্রমাণ হলে তা বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নিষ্পত্তি হওয়া উচিত।
দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান জানান, এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ না দেওয়ায় মামলা হয়নি। উভয় পরিবারের সদস্যরা থানায় এলে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই সংবাদটি পড়া হয়েছে : 1K বার