ত্যাগের পুরস্কার পেলেন কাইয়ূম চৌধুরী
২৪ ফেব্রু ২০২৬, ১০:৩৩ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:
চেয়েছিলেন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের টিকেট। দল তাকে মনোনয়ন না দিয়ে দায়িত্ব দিল পুরো জেলার নির্বাচন দেখভালের। জেলার এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্তে ছুটে বেড়ান তিনি। দলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করার পাশাপাশি ধানের শীষ প্রতীকে গণজোয়ার তৈরিতে রাখেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। নির্বাচন শেষে সরকার গঠনের পর তিনি টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হবেন এমন আলোচনাও ছিল জেলাজুড়ে। কিন্তু মন্ত্রীসভায় ঠাঁই হয়নি। তবে দল ভুলে যায়নি তাঁর অবদান।
ত্যাগ আর শ্রমের পুরস্কার হিসেবে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক হিসেবে। বলছিলাম, সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ূম চৌধুরী। সিসিকের প্রশাসক হিসেবে তাঁর নিয়োগ পাওয়ার বিষয়টি বিস্মিত করেছে নগরবাসীকে। কারণ এর আগে কাইয়ূম চৌধুরী সিলেট-৩ আসন থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী হলেও কখনো সিসিকের দায়িত্ব নেওয়ার আগ্রহ দেখাননি।
সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির অর্ধডজনের বেশি নেতা মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী। বিএনপি সরকার গঠনের পর মেয়র হতে আগ্রহীদের তালিকা প্রতিদিনই দীর্ঘ হচ্ছিল। কিন্তু সেই তালিকার কোথাও ছিল না কাইয়ূম চৌধুরীর নাম।
গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কাইয়ূম চৌধুরী সিলেট-৩ আসন থেকে মনোনয়ন চেয়েছিলেন। কিন্তু দল তাকে না দিয়ে মনোনয়ন দেয় যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সভাপতি এমএ মালিককে। মান-অভিমান ও মনোনয়নবঞ্চনার কথা ভুলে কাইয়ূম চৌধুরী তাঁর আসনে ধানের শীষ প্রতীক বিজয়ী করতে কাজ করেন।
এরই মধ্যে দল থেকে তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয় সিলেট জেলার সবকটি আসনের নির্বাচন দেখভালের। জেলার সমন্বয়কের দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনি ঘুরে বেড়ান প্রতিটি আসন। যেসব আসনে মনোনয়ন নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভক্তি ছিল সেসব আসনে জোর দেন তিনি। এক টেবিলে বসিয়ে দলের মধ্যে ঐক্য গড়েন।
সিলেট থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করতে এসে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান ইঙ্গিত দিয়ে গিয়েছিলেন, কাইয়ূম চৌধুরীকে মূল্যায়নের। বলেছিলেন, দল সরকার গঠন করলে তাকে কাজে লাগাবেন। নির্বাচনে সিলেটে ভূমিধস জয়ের পর অনেকেই ভাবছিলেন এবার হয়তো কাইয়ূম চৌধুরীকে মন্ত্রীসভায় ঠাঁই দেওয়া হবে। কিন্তু মন্ত্রীসভার নাম ঘোষণার পর হতাশ হন কাইয়ূম চৌধুরী নেতাকর্মী ও অনুসারীরা। তবে সেই হতাশা কাটিয়ে এবার উজ্জীবিত হয়ে ওঠেছেন তারা।
সোমবার সকালে ঘোষণা আসে কাইয়ূম চৌধুরীকে সিসিকের প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সিসিকের কোন আলোচনায় না থেকেই প্রশাসকের দায়িত্ব পাওয়ার বিষয়টিকে কাইয়ূম চৌধুরীর ত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবেই দেখছেন সিলেটবাসী। আগামী সিটি নির্বাচনে কাইয়ূম চৌধুরীই বিএনপির মেয়র পদপ্রার্থী হবেন এমনটাও এখন আলোচনায় স্থান পেয়েছে।
এ প্রসঙ্গে, আবদুল কাইয়ূম চৌধুরী বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘দল যখন যে দায়িত্ব দিয়েছে বিশ্বস্থতার সাথে পালন করেছি। জাতীয় নির্বাচনে মনোয়ন না পেলেও প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছি। সমন্বয়কের দায়িত্ব পাওয়ার পর পুরো জেলার নেতাকর্মীদের এক ছাতার নিচে রাখার চেষ্টা করেছি। এখন দলের চেয়ারম্যান সিসিকের প্রশাসকের দায়িত্ব দিয়েছেন। আশাকরি সততা, মেধা ও শ্রম দিয়ে দলের চেয়ারম্যানের আস্থা ও নগরবাসীর প্রত্যাশার প্রতিদান দিতে পারবো।’
এই সংবাদটি পড়া হয়েছে : 987 বার