তারেক রহমানের সিলেট সফর : মিনিস্টার বাড়িতে ১২ হাজার মানুষের খাবার প্রস্তুত
২১ জানু ২০২৬, ০৯:০৬ অপরাহ্ণ

স্টাফ রিপোর্টার:
দীর্ঘ ২২ বছর পর শ্বশুর বাড়িতে স্ত্রী জুবাইদা রহমানকে নিয়ে যাবেন বিএনপির চেয়ারপারসন তারেক রহমান। এজন্য শ্বশুর বাড়ি থেকে নেয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিকেলে সিলেটের দক্ষিণ সুরমার সিলাম ইউনিয়নের বিরাইমপুর গ্রামের ‘মিনিস্টার’ বাড়িতে দেখা সারি বেঁধে চুলায় বড় বড় ডেগে (পাতিল) রান্না হচ্ছে। নামানো হচ্ছে একটির পর একটি। একে একে সাজিয়ে রাখা হচ্ছে ডেগগুলো। রান্না হয়ে গেলে এগুলোর ঢাকনা খুলে নাড়াচাড়া করে দেখছিলেন বাবুর্চি। তারেক রহমানের শ্বশুর ছিলেন নৌবাহিনীর সাবেক প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খান। পরে তিনি ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রীও ছিলেন। এ জন্য বাড়িটিকে মিনিস্টার বাড়ি হিসেবে সবাই চেনেন।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাত ৭টা ৫৬ মিনিটে সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরে স্ত্রী জুবাইদাকে নিয়ে সিলেটে এসে পৌঁছেছেন তারেক রহমান। রাতেই সিলেটের শাহজালাল (রহ.) ও শাহপরান (রহ.)–এর মাজার জিয়ারত শেষে তাঁর স্ত্রী জুবাইদা রহমানের পৈতৃক বাড়ি দক্ষিণ সুরমা উপজেলার বিরাইমপুর গ্রামে যাওয়ার কথা রয়েছে।
তিনি জুবাইদার পরিবারের প্রয়াত সদস্যদের কবর জিয়ারত করবেন। পরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও জুবাইদার পরিবারের প্রয়াত সদস্যদের স্মরণে মিলাদ মাহফিল শেষে তারেক রহমান এবং তাঁর সফরসঙ্গীসহ দলীয় নেতা-কর্মী ও এলাকার লোকজনের জন্য খাবার পরিবেশন করা হবে। এটি বিতরণ করা হবে ‘শিরনি’ হিসেবে।
রান্নার দায়িত্বে থাকা প্রধান বাবুর্চি মো. হাসু মিয়া বলেন, ‘প্রায় ১২ হাজার মানুষের জন্য ৪০ ডেগ আখনি রান্না করা হচ্ছে। আটটি গরু, ৩৪ বস্তা চালের আখনি রান্না হচ্ছে। এতে ৫০ জন বাবুর্চি অংশ নিচ্ছেন। আজ সকাল থেকে রান্নার আয়োজন শুরু হয়েছে। আশা করা যায়, রান্না খেয়ে প্রশংসা করবেন এলাকার জামাই তারেক রহমান।’
তারেক রহমানের স্ত্রী জুবাইদা রহমানের চাচাতো ভাই নাসির আলী খান রান্নাসহ বাড়িতে আসা লোকজনের তদারক করছিলেন। তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর আপা, দুলাভাই আসবেন। তাদের বরণ করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।’
মিনিস্টার বাড়িতে পৌঁছানোর পথে তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে বিভিন্ন বিলবোর্ড ও তোরণ বানানো হয়েছে। স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ–সহযোগী সংগঠনের নেতা–কর্মীরা এসব বানিয়েছেন। কোনো কোনো বিলবোর্ড ও তোরণে ‘দুলাভাইকে পুণ্যভূমিতে স্বাগতম’, ‘বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে স্বাগতম’ ইত্যাদি লেখা দেখা যায়।
সরেজমিনে দেখা যায়, জুবাইদা রহমানের বাড়িতে প্রবেশের আগে সড়কে লাগানো হয়েছে পাশাপাশি ছয়টি তোরণ। বাড়ির প্রবেশ ফটকের মুখে পরিবারের সদস্যদের সৌজন্যে লাগানো হয়েছে আরও একটি তোরণ। তোরণ পেরিয়ে লাল ফটক। ফটক পেরোনোর পর বড় পুকুর। পুকুরপাড় ঘেঁষে যেতে হয় জুবাইদা রহমানের বাড়ি। এর মধ্যে পুকুরপাড়ে প্রথমে একটি এবং ভেতরে আরও দুটি বাড়ি।
তিনটি বাড়ি ঘিরেই ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা লাগানো দেখা গেছে। বাড়িগুলোর প্রবেশপথে আলোকিত করার জন্য লাগানো হয়েছে বাতি। বাড়িগুলোর মধ্যে পুকুরপাড়ের বাড়ির পাশে শামিয়ানা টাঙিয়ে বেশ কয়েকটি চেয়ার পেতে রাখা হয়েছে। বাড়ির পাশেই রান্নার আয়োজন চলছে।
এই সংবাদটি পড়া হয়েছে : 1K বার