‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ অধ্যাদেশের খসড়া অনুমোদন’
২৩ জানু ২০২৬, ১২:৩০ অপরাহ্ণ

স্টাফ রিপোর্টার:
দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক অচলাবস্থা, শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এবং নানা বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে ঢাকার সাতটি সরকারি কলেজের জন্য আলাদা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। প্রস্তাবিত ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে অধ্যাদেশের খসড়া অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ।এক বছরের বেশি সময় ধরে আলোচনা, সমালোচনা ও আন্দোলনের পর ঢাকার সাতটি বড় সরকারি কলেজ নিয়ে নতুন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। এ লক্ষ্যে প্রস্তাবিত ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’র অধ্যাদেশের খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে অধ্যাদেশের খসড়াটি অনুমোদিত হয়।
আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়া শেষে অধ্যাদেশ জারি হলে ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, সরকারি বাঙলা কলেজ ও সরকারি তিতুমীর কলেজ নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ‘সংযুক্ত কলেজ’ হিসেবে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করবে। একই সঙ্গে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির নিজস্ব একাডেমিক কার্যক্রমও চালু থাকবে। এতদিন এসব কলেজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ছিল।
বৈঠক শেষে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সিদ্ধান্তের কথা জানান প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় পৃথক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করেছে।
ঢাকার সাত কলেজকে ঘিরে সংকট নতুন নয়। ২০১৭ সালে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছাড়াই কলেজগুলো জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করা হয়। এতে প্রশাসনিক ও একাডেমিক জটিলতা বাড়তে থাকে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে গত বছরের জানুয়ারিতে কলেজগুলোকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আলাদা করার ঘোষণা দেওয়া হয়। পরে সরকার এসব কলেজ একীভূত করে নতুন বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের উদ্যোগ নেয়। তবে প্রস্তাবিত কাঠামো নিয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিলে আন্দোলন শুরু হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় অধ্যাদেশের খসড়া পুনরায় পরিমার্জন করে, যা এবার অনুমোদন পেল।
প্রেস উইং জানায়, অনুমোদিত অধ্যাদেশের মূল উদ্দেশ্য হলো সাতটি কলেজকে একই একাডেমিক কাঠামোর আওতায় এনে উচ্চশিক্ষার মান উন্নয়ন এবং দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক জটিলতার অবসান ঘটানো। কলেজগুলোর নিজস্ব পরিচয়, অবকাঠামো এবং স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির ওপর তাদের অধিকার অক্ষুণ্ন থাকবে।
আগের খসড়ায় প্রতিটি কলেজে স্কুলভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনা থাকলেও নতুন খসড়ায় সেই ব্যবস্থা বাতিল করা হয়েছে।
নতুন অধ্যাদেশ অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ে আচার্য, উপাচার্য, সিনেট, সিন্ডিকেট ও একাডেমিক কাউন্সিলসহ পূর্ণাঙ্গ প্রশাসনিক কাঠামো থাকবে। আচার্য হিসেবে রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব পালন করবেন এবং সিনেট মনোনীত প্যানেল থেকে উপাচার্য নিয়োগ দেবেন। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) শিক্ষা, গবেষণা, পরীক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম তদারকি করবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে কলা, বিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা, আইন ও চারুকলা বিভাগসহ পৃথক ‘স্কুল’ থাকবে, যার নেতৃত্ব দেবেন ‘হেড অব স্কুল’। সংযুক্ত কলেজগুলোয় স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষা কার্যক্রম বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিন্ন সময়সূচি ও মূল্যায়ন কাঠামো অনুযায়ী পরিচালিত হবে।
এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল এবং কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষার ভিত্তিতে শিক্ষার্থীরা মূল ক্যাম্পাস বা সংযুক্ত কলেজে ভর্তি হতে পারবেন। পাশাপাশি এমফিল ও পিএইচডি প্রোগ্রাম, শিক্ষক উন্নয়ন ও উচ্চতর প্রশিক্ষণের সুযোগ রাখা হয়েছে। জাতি, ধর্ম, লিঙ্গ বা বিশেষ চাহিদার ভিত্তিতে কোনো বৈষম্য ছাড়াই দেশি-বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভর্তি ও ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ নিশ্চিত করা হয়েছে।
অধ্যাদেশের খসড়ায় আবাসিক হল সুবিধা, ছাত্র সংসদ নির্বাচন এবং সহপাঠ্যক্রমিক কার্যক্রম চালুর বিধানও যুক্ত করা হয়েছে। স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত সাময়িক ব্যবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ রাখা হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ মনে করছে, এই সিদ্ধান্ত সাত কলেজের দীর্ঘমেয়াদি সংকট নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে এবং রাজধানীতে একটি সমন্বিত, আধুনিক ও গবেষণাসমৃদ্ধ উচ্চশিক্ষা পরিবেশ গড়ে তুলবে।
এই সংবাদটি পড়া হয়েছে : 1K বার