ডেভিল’ ধরার নামে চলছে নির্বিচারে গ্রেপ্তার

Daily Ajker Sylhet

দৈনিক আজকের সিলেট

০৬ জানু ২০২৬, ১১:১৪ পূর্বাহ্ণ


ডেভিল’ ধরার নামে চলছে নির্বিচারে গ্রেপ্তার

স্টাফ রিপোর্টার:

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সারা দেশে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ নামে নির্বিচারে গ্রেপ্তার করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ ও ‘ডেভিল হান্ট ফেজ-২’ নামে দুই দফায় চালানো এই অভিযানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী ২৭ হাজার ৬৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিশেষ এই অভিযানের পাশাপাশি জুলাই-আগস্ট আন্দোলন পরবর্তীতে দায়ের করা বিভিন্ন মামলা, ওয়ারেন্ট ও অভিযোগের মূলে গ্রেপ্তার হয় ৬০ হাজার। সব মিলিয়ে ৫ আগস্ট পরবর্তী এ পর্যন্ত ৫২০ দিনে রাজনৈতিক বিবেচনায় ৮৭ হাজার জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর পাশাপাশি বিভিন্ন মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠন ছাড়াও অন্য দলের কর্মী-সমর্থকদের গ্রেপ্তারের অভিযোগ রয়েছে।

এসব বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক বলেন, যারা ডেভিল বা যারা প্রকৃত অর্থে অপরাধী তাদের গ্রেপ্তার করা হোক। দুই দফার ডেভিল হান্ট অভিযানে ২৭ হাজার গ্রেপ্তারের পরও এখনো আমরা খুন, চাঁদাবাজি, দখলবাজি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারিনি। ডেভিল হান্টের নামে সাধারণ মানুষ বা অন্যান্য রাজনৈতিক দলের কর্মী, সমর্থকদের গ্রেপ্তার করা হলে সেটা তো যথাযথ প্রক্রিয়ার মধ্যে সম্পন্ন হবে না। সাধারণ মানুষকে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে বা মামলা বাণিজ্যের জন্য যদি গ্রেপ্তার করা হয়, সেটা তো সরকারকে একবার ভেবে দেখতে হবে। এটা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গ্রেপ্তার অভিযান একটি চলমান প্রক্রিয়া। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১ মার্চ পর্যন্ত ২২ দিন সারা দেশে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ নামে বিশেষ অভিযানে নামে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পুলিশ সদর দপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী এই ২২ দিনে অপারেশন ডেভিল হান্টে সারা দেশে ১২ হাজার ৫০০ জনকে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে এই অভিযান চলমান থাকে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের জন্য দুই দফায় অপারেশন ডেভিল হান্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের ‘ফ্যাসিস্ট’ পরিচয় ছাড়াও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করে হয়রানি করা হচ্ছে। অনেককে গ্রেপ্তার করে তাকে ‘ফ্যাসিস্ট’ হিসাবে চিহ্নিত করে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সুবিধা করিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে কেউ কেউ পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছেন।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে : 1K বার