“ডাঃ কামরুল ইসলাম ও কনকচাপা জাতীয় সম্পদ”
১৩ এপ্রি ২০২৬, ০৪:০৩ অপরাহ্ণ

এডভোকেট মোঃ আমান উদ্দিন:
জ্ঞানীর কলমের কালি শহীদের রক্তের চেয়ে ও পবিত্র। ডাঃ কামরুল বা কনক চাপা স্ব-স্ব গুনে গুনাম্বিত। তাহাদের পৃষ্টপোষকতা জাতীয়ভাবে করা উচিত। জাতির গর্বিত সন্তানদের কতিপয় দুবৃত্ত দলের কথা বলে প্রকাশ্যে তাহাদেরকে লাঞ্চিত ও অপমানিত করার অধিকার কে দিয়েছে ? যদি দল তাহাদের আচরনে ক্ষুব্ধ হয়ে থাকেন তাহলে প্রকাশ্যে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। দলীয় প্রধান জাতির উদ্দেশ্যে প্রকাশ্য ঘোষনা দিন, যাহারা এসব অপকর্মে লিপ্ত তাহাদের তালিকা দল কর্তৃক নির্দিষ্ট ব্যাক্তির নিকট জমা দেওয়ার জন্য। তথ্য দাতার পরিচয় গোপন রাখা হবে। এসব কুরুচিপূর্ণ বিএনপি নামধারী সন্ত্রাসীদের দলীয় কার্যক্রমে অংশগ্রহনে নিষিদ্ধ করতে হবে। কোন সভ্য সমাজে ডাঃ কামরুল ও কনকচাপাদের সাথে নির্লজ্জের মতো আচরনকারীদের সকল মহল থেকে প্রতিবাদ করা উচিত। বেহায়া, চোর, ডাকাত, খদ্দরদের কোন দলীয় পরিচয় থাকার কথা নহে। আন্দোলন সংগ্রাম করতে গিয়ে এতটা মামলা খেয়েছি, এতবার জেল খেটেছি এসব কি তাহাদের দলীয় পুজি ? সুন্দর সুন্দর বক্তব্য দিয়ে প্রশাসনের নজর কাড়াই তাহাদের মূল পুজি। এসব পুজিকে ধারন করে কি সংসদ সদস্য হওয়ার সপ্ন দেখে? এদের নিকট দলীয় নেতৃত্বকে বলব, কোন অবস্থাতেই দলীয় নমিনেশন ফরম না দেওয়া বা দলীয় পদ পদবী থেকে অবিলম্বে বহিষ্কার করে, গোটা জাতির কাছে বার্তা দিন, দলে এসব অপরাধীদের কোন প্রয়োজন নেই। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা পবিত্র সংসদকে “মমতাজ গংদের” দ্বারা যেভাবে অপবিত্র করে গিয়েছেন, হালের মমতাজ গংদের হাত থেকে পবিত্র সংসদকে কঠোর হস্তে রক্ষা করুন। ভাল লোকদের জায়গা করে দিন। লক্ষ কোটি জনতা বিএনপি এর দলীয় আদর্শকে পছন্দ করেন। কিন্তু কতিপয় দুবৃত্তদের কারনে দলীয় কার্যক্রম থেকে ভদ্র লোকেরা অনেক দূরে থাকেন। যদিও তাহারা সময় মতো ভোটাধিকার প্রয়োগ করে থাকেন বিএনপি কে। স্মরন করিয়ে দিতে চাই, ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের আমলে কতিপয় দুবৃত্তরা পদ পদবী ব্যবহার করে গোটা জাতিকে লুন্টন করে তাহাদের আখের গোছিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন এবং দলীয় সাধারন নেতা কর্মীদের পদে পদে নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে। সমস্ত অপকর্মের দায় কিন্তু আওয়ামীলীগকে নিতে হচ্ছে। ডাঃ কামরুল ও কনকচাপাদের সাথে দুবৃত্তদের আচরন দেখে মনে হচ্ছে বিএনপি সে পথে হাটছে ? সাবধান! অত্যন্ত দৃঢ়তার সােেথ কঠিন পদক্ষেপ নিতে হবে দলীয় নেতৃত্বকে। কারন অপকর্মকারীদের কোন দলীয় পরিচয় থাকতে পারে না । মিছিল মিটিং এ এসব চোর, ডাকাত, চাদাঁবাজ, ধান্দাবাজ ইত্যাদি অপকর্মে লিপ্ত ব্যাক্তিদের মিছিলে নেতৃত্ব দিতে দেখে সাধারন ভদ্র বিএনপি এর নেতা কর্মীরা হাসেন। বিএনপি গণমানুষের দল। ভাল মানুষের আস্থার শেষ ঠিকানা বিএনপি। প্রফেসর ডঃ এমাজ উদ্দিন আহমদ, প্রফেসর ডঃ মনিরুজ্জামান, মাহফুজ উল্লাহ প্রমুখ বরেন্য ব্যাক্তিদের লেখনীর মাধ্যমে গণমানুষের দলে রুপান্তরিত করিতে সক্ষম হইয়াছেন বিএনপি। এসব বুদ্ধিজীবিদের স্মৃতিচারন ও উদীয়মান দলীয় ভাবাদর্শ সম্পূর্ণ লোকদের রাষ্ট্রীয়ভাবে পৃষ্টপোষকতা করিলে দল-ই লাভবান হবে। এসব জ্ঞানী লোকদের চাওয়া সীমিত। কিন্তু দুবৃত্তদের যেহেতু লাজ-লজ্জা বলতে কিছু নেই, সেহেতু যতই অপকর্ম করিবে ততই হাসিমুখে প্রকাশ্যে ঘুড়ে বেড়াবে জনসম্মূখে। তাহাদের কোন লজ্জাবোধ নেই। সুতরাং দলীয় আদর্শ কে এসব অপকর্মকারীদের দলীয় কর্মকান্ড থেকে দূরে রাখুন। পরিশেষে বলতে চাই, বিএনপি বা অংগসংঠনের তৃনমুল থেকে সর্বোচ্ছ কমিটি গঠনের সময় সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষকে দেখতে হবে যিনি সাংগঠনিক যে কোন পদে দাড়ানোর পূর্বে তাহার অতীথ ইতিহাস যেমন: দলে কত সালে যোগদান, দলীয় গঠনতন্ত্র সম্পর্কে যথাযথ অভিজ্ঞতা, অতিথে কোন দলের সাথে সম্পৃক্ততা থাকিলে সে দল থেকে কত সালে ত্যাগ করিয়াছেন ইত্যাদি যাচাই বাছাই করে কমিটি গঠন হলে অপরাধীরা এমনিতেই কমিটি গঠনকালেই অযোগ্য হয়ে যাবে। ভদ্র পরিবারেরছেলে মেয়েরা কি বিএনপি এর রাজনীতি থেকে এমনিতে দূরে চলে যাবে এসব নোংরা, নর্থকী, চরিত্রহীন দালাল বাটপার খদ্দরদের কারনে ? স্মরন করিয়ে দিতে চাই, যে সব বিএনপি এর নেতা দলীয় পদ পদবী দেখিয়ে প্রশাসনের কর্থা ব্যক্তিদের সাথে একাকার হয়ে সমাজের বিত্তশালীদের নানা ভাবে হয়রানি করে থাকে তাহাদের থেকে সাবধান হতে হবে দলকে। কারন তাহারাই প্রকৃত চাঁদাবাজ, দান্দাবাজ, দুবৃত্ত। তৃনমূলের নেতা কর্মীদের প্রত্যক্ষ ভোটে নেতৃত্ব নির্বাচিত হলে এসব নেতারা কোন অপকর্মে জড়াতে পারবে না। কারন সেই তৃনমূলের নেতাদের নিকট নির্বাচিত নেতৃত্ব তাহাদের নিকট জবাবদিহি করিতে বাধ্য। কোন বিশেষ ব্যক্তির এজেন্ডা বাস্তবায়নে তাহার অনুসারীকে পুকুর পারে বা নর্দমা বা পরিত্যাক্ত কোন স্থান থেকে সভাপতি বা সাধারন সম্পাদক মনোনীত করে বিএনপি এর প্যাড সর্বস্ব নেতৃত্ব দিয়ে দিলেন তা কিন্তু সাধারন নেতা কর্মীরা কখনও গ্রহন করবে না। এভাবে মনোনীত ব্যাক্তিরা দলের মধ্যে গ্রæপিং তৈরী করে নানা অপরাধের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে যায়। ইহাতে দলীয় আদর্শ তথা দল ক্ষতিগ্রস্থ হয়। সুতরাং নেতৃত্ব নির্বাচন করতে হবে সম্মেলনের মাধ্যমে প্রত্যক্ষ ভোটে। তৃনমূল বিএনপিকে সুসংগটিত করতে হলে বিএনপি এর প্রান পুরুষ নিবেদিত, ত্যাগী জুলুম নির্যাতনের ¯ী^কার জনাব রুহুল কবির রীজভী, হাবিবুন নবী খান সুহেল, খায়রুল কবীর খুকন, ফজলুল হক মিলন প্রমুখ নেতাদের তদারকির দায়িত্ব দিতে হবে। অচিরেই দলের শুদ্ধি অভিযান শুরু করতে হবে। নতুবা এইসব ভুইপুর নেতাদের কারনে চাঁদাবাজ ট্যাগ লাগিয়ে বিরোধী দল সমূহ গণমুখী রাজনীতির মূল স্তম্ভ বিএনপিকে ক্ষতিগ্রস্থ করবে। সুতরাং অচিরেই মেয়াদ উত্তীর্ণ কমিটিকে বিলুপ্ত করে জনমূখী রাজনীতিবিদদের নেতৃত্বে আনা উচিত। জনাব কামরুল ইসলাম ও কনক চাপার মতো নীতিবান লোকদের নিকট ক্ষমা চেয়ে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।
লেখক, সভাপতি-সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুুজন), বিয়ানীবাজার, সিলেট। মোবাঃ ০১৮১৯-১৭৬২১৭
এই সংবাদটি পড়া হয়েছে : 997 বার