শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি :
দেশের উন্নয়ন ধারা অব্যাহত রাখতে এবং সাধারণ মানুষের অধিকার নিশ্চিত করতে সব ধরনের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে বৃষ্টি উপেক্ষা করে আয়োজিত এক বিশাল জনসভা ও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তাঁর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণের সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘আজ আল্লাহর কাছে আমি হাজারো শুকরিয়া যে আল্লাহ আমাকে সেই তৌফিক দিয়েছেন, আজ আমি আমার কথা রাখতে পেরেছি; যখন নির্বাচনের প্রথম প্রচার অভিযান শুরু হয় আমি সিলেটের পবিত্র মাটি থেকে সেই প্রচার অভিযান কাজ শুরু করেছিলাম এবং সেই দিনেই সিলেটের জনসভা শেষ করে আমি হবিগঞ্জের জনসভার মঞ্চ থেকে বলেছিলাম যে বিএনপি যদি সরকার গঠন করতে সক্ষম হয় ইনশাল্লাহ তাহলে আমরা আমাদের চাবাগান শ্রমিকে যে সকল মায়েরা কাজ করে তাদের জন্য আমরা ফ্যামিলি কার্ড দেব। হ্যাঁ আমরা হয়তো আজকে সবাইকে দিতে পারিনি কিন্তু ইনশাল্লাহ আগামী এক বছরের মধ্যে আমরা প্রায় সকল নারী শ্রমিকের কাছে চা বাগানের সকলের কাছে আমরা ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিব ইনশাল্লাহ।’
অনুষ্ঠানে চা শ্রমিকদের কষ্ট লাঘব করতে ২ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তা, সন্তানদের জন্য বিশেষ স্কলারশিপ এবং উপস্থিত প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চিকিৎসার্থে ১০ থেকে ৫০ হাজার টাকার চেক বিতরণ করা হয়।
সরকারের পক্ষে তারেক রহমান তাঁর দীর্ঘ বক্তব্যে নারীদের স্বাবলম্বী করার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “বিগত নির্বাচনে এই বাংলাদেশের মানুষ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে নির্বাচিত করেছিল। কেন? কারণ আমরা সেই সময় মানুষকে বলেছিলাম যে আপনারা যদি আমাদেরকে নির্বাচিত করেন আমরা জনগণের জন্য কাজ করব। প্রথম একটি কাজের কথা বলেছিলাম। সেটি হচ্ছে যে আমরা বিশ্বাস করি এই আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশকে যদি সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হয় তাহলে সকলকে একসাথে আমাদের সহ করতে হবে সকলকে একসাথে কাজ করতে হবে এবং সেজন্যই আমরা মনে করি যে পুরুষদের পাশাপাশি আমরা যদি নারীদেরকে সাহায্য করতে না পারি স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য তাহলে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। এবং সেই জন্যই নারীদেরকে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার জন্য আমরা এই ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলেছিলাম।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে প্রায় চার কোটির মতন পরিবার রয়েছে আমরা বলেছিলাম যে আমরা যদি সরকার গঠন করতে সক্ষম হই তাহলে পর্যায়ক্রমিকভাবে সকল পরিবারের কাছে আমরা ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেব। বিশেষ করে নারী প্রধানদের কাছে পরিবারের যে নারী প্রধান তার কাছে।’
তিনি নতুন বাজেটের বিভিন্ন কল্যাণমুখী বরাদ্দ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘প্রিয় ভাই বোনেরা নিশ্চয়ই আপনাদের মনে আছে এই কাজ আমরা এই দেশের কৃষকদের পাশেও দাঁড়াতে চাই এবং এই যে বর্তমান বাজেট যেটা আমরা কয়েকদিন আগে বাজেট সংসদে উপস্থাপন করেছি সেই বাজেটে আমরা অর্থ বরাদ্দ করেছি আগামী বছর এই যে সামনে এখন জুলাই মাস থেকে আগামী এক বছর পর্যন্ত আমরা বাংলাদেশের ৪০ লক্ষ কৃষক ভাইয়ের হাতে আমরা কৃষক কার্ড তুলে দিব। ঠিক একইভাবে আগামী এক বছরে ৪০ লক্ষ পরিবারের কাছে যেমন ফ্যামিলি কার্ড তুলে দিব। ৪০ লক্ষ কৃষকের কাছে আমরা কৃষক কার্ড তুলে দিব। যেভাবে আমরা মায়েদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দিচ্ছি ধীরে ধীরে যেভাবে আমরা কৃষক ভাইদের কাছে কৃষক কার্ড তুলে দেওয়ার চেষ্টা করছি ধীরে ধীরে আমরা একইভাবে ইমাম মুয়াজ্জেম খতিব সহ অন্যান্য ধর্মের যারা ধর্মীয় গুরু আছেন তাদের হাতেও সম্মানের ব্যবস্থা তুলে দিচ্ছি। সরকার মানুষের পাশে দাঁড়াতে চায় মানুষকে সহযোগিতা করতে চায়।
তিনি বলেন, এটাই হচ্ছে বিএনপির রাজনীতি। আমরা দেশকে এগিয়ে নিতে চাই। দেশের ভাগ্য পরিবর্তন করতে চাই। মানুষকে মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে চাই। কিন্তু কয়েকদিন ধরে দেখুন পত্রপত্রিকাগুলো আমরা দেখছি আমরা যে বাজেট উপস্থাপন করেছি সেই বাজেটের মধ্যে আমরা এই ফ্যামিলি কার্ডের জন্য অর্থ বরাদ্দ রেখেছি। আমরা যে বাজেট উপস্থাপন করেছি সংসদে সেই বাজেটের মধ্যে আমরা কৃষক কার্ডের জন্য অর্থ বরাদ্দ রেখেছি। আমরা যেই ফ্যামিলি বাজেট উপস্থাপন করেছি সেই বাজেটে আমরা আমাদের দেশের ছেলেমেয়েরা স্টুডেন্টরা যাতে স্কুল কলেজে ভালো করে লেখাপড়া করতে পারে যাতে খেলাধুলা করতে পারে তার জন্য অর্থ বরাদ্দ রেখেছি। আমরা যেই বাজেট পেশ করেছি জাতীয় সংসদে সেখানে এই যে হাজার হাজার আপনারা মানুষ সারা বাংলাদেশে যে কোটি কোটি মানুষ তারা যাতে সঠিকভাবে চিকিৎসা পেতে পারে সেইজন্যই প্রত্যেক উপজেলা পর্যায়ে যে ৫০ বেডের হসপিটাল আছে সেটিকে ইনশাল্লাহ আগামী পাঁচ বছর আমরা ১০০ বেড করব তার জন্য আমরা অর্থ বরাদ্দ রেখেছি যাতে করে এলাকার মানুষ উপজেলার মানুষ গ্রামের মানুষ স্বাস্থ্য সেবা পেতে পারে মিনিমাম সেবা পেতে পারে অন্তত। কিন্তু বাজেটের পরে নিশ্চয়ই আপনারা দেখেছেন যেই বাজেটে আমরা সাধারণ মানুষ খেটে খাওয়া মানুষের জন্য অর্থ বরাদ্দ রেখেছি অনেকে বলেছে সেই বাজেট বলে তারা মানে না দেখেছেন না পত্রিকায় সংবাদে? আবার অনেকে বলেছে যেই আমরা মায়েদের জন্য ফ্যামিলি কার্ডের অর্থ বরাদ্দ রেখেছি কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ডের বরাদ্দ রেখেছি প্রতিবন্ধী মানুষ শিক্ষার্থীদের জন্য অর্থ বরাদ্দ রেখেছি যেই বাজেটে আমরা মানুষের স্বাস্থ্য সুবিধার জন্য অর্থ বরাদ্দ রেখেছি সেই বাজেট নাকি চানাচুরের মতন শুনেছেন এই কথা? যেই বাজেট জনগণের বাজেট যেই বাজেটের মাধ্যমে অর্থবরাদ্দের মাধ্যমে আমরা জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে চাই সেই বাজেটকে যারা চানাচুরের সাথে তুলনা করে, সেই বাজেটকে যারা গণবিরোধী বলে তারা কি কখনো জনগণের বন্ধু হতে পারে? তারা কখনো জনগণের বন্ধু হতে পারে না।’
তিনি জনগণকে বিভ্রান্তকারীদের বিরুদ্ধে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘যারা জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চায় প্রিয় ভাই বোনেরা সেটি সংসদের ভেতরেই হোক সেটি সংসদের বাইরেই হোক তাদের ব্যাপারে আপনাদেরকে সচেতন থাকতে হবে এই সকল লোকেরা এই সকল দলগুলো দেশে যদি অশান্তি করার সুযোগ পায় তাহলে আমরা ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন করতে পারব না। আজ যে সকল কর্মসূচী উদ্ধোধন করা হলো তা বাস্তবায়ন আটকে যাবে। কাজেই যারা এসব কাজে বাধা দিবে কি ব্যবস্থা করা উচিত তাদের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকতে হবে তাদের এবং জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘বিএনপি হচ্ছে জনগণের দল যতবারই এই দেশে নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়েছে যতবারই এই বাংলাদেশে মানুষ স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পেরেছে প্রত্যেকবার মানুষ ধানের শীষকে বিজয় করেছে। এবং এই যে মৌলভীবাজারের যতগুলো বড় বড় রাস্তাঘাট স্কুল কলেজ দেখেছেন খোঁজ করে দেখুন এগুলো সব বিএনপি মরহুম সাইফুর রহমান সাহেবের সময় এই কাজগুলো হয়েছিল। সাফ কথা যদি দেশের উন্নয়নকে অব্যাহত রাখতে হয় যদি মা বোনদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে হয় কৃষক ভাইদের হাতে যদি কৃষক কার্ড পৌঁছে দিতে হয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স যেটি আছে সেটিকে ৫০ বেড থেকে যদি ১০০ বেডে করতে হয় যদি আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদের সন্তানদের শিক্ষার ব্যবস্থা ঠিক রাখতে হয় তাহলে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘জনগণ যদি ঐক্যবদ্ধ থাকে তাহলে কোন ষড়যন্ত্র সফল হতে পারবে না। জনগণ যদি ঐক্যবদ্ধ থাকে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে কেউ নষ্ট করতে পারবে না। বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে কারা নষ্ট করে আমরা সেটি ভালো করে জানি। আমরা দেখেছি দেশ স্বাধীনের সময় দেশ স্বাধীনের আগে এবং পরবর্তী সময় গণতন্ত্র বিনষ্টকারী গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারী সবগুলো একসাথে ছিল মুখে মুখে বলত আমরা একসাথে নাই কিন্তু ভেতরে ভেতরে এরা সবসময় একসাথে কাজ করেছে এবং সকল সময় প্রতিটি সময় বিএনপি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল সবসময় জনগণের কাতারে ছিল। সেজন্যই বিএনপির সবচেয়ে বড় শক্তি জনগণের শক্তি সেইজন্য বিএনপি সকল সময় বলে থাকে বাংলাদেশ হচ্ছে আমাদের আমার শেষ ঠিকানা। আমাদের একটাই কাজ। বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন। কাজেই আসুন এই দেশ আমাদেরকেই গড়তে হবে। দেশ আমাদের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে শ্রমিকের হাতে রূপান্তরিত করে। জনগণের অর্থ জনগণকে না দিয়ে একটি দল বিদেশে পাচার করে দিয়েছিল প্রিয় ভাই বোনেরা। যারা বলে কোত্থেকে আসবে ফ্যামিলি কার্ডের টাকা কোত্থেকে আসবে কৃষক কার্ডের টাকা কোত্থেকে আসবে তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই এই জনগণের টাকা আর পাচার হতে দেব না আমরা। জনগণের টাকা দিয়ে জনগণের জন্য কাজ করা হবে। জনগণের অর্থ দিয়ে দেশের জন্য কাজ করা হবে। দেশের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য কাজ করা হবে। জনগণের জন্য কাজ করা হবে। যারা এই দেশ থেকে টাকা পাচার করেছে যারা এই দেশে টাকা বাইরে পাঠাতে চায় জনগণের অর্থ টাকা বিদেশে পাঠাতে চায় আমরা আজ থেকে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করব। আমরা যদি সকলে চোখ কান খোলা রাখি তাহলে এই দেশের মানুষের অর্থ সম্পদ কেউ বিদেশে পাচার করতে পারবে না এবং সেই টাকা দিয়ে আমরা সকলে মিলে পরিশ্রম করব এবং সেই অর্থ দিয়ে আমরা দেশ এবং দেশের মানুষের ভাগ্য কে পরিবর্তন করব।’
অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় আরও বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী মিজ্ ফারজানা শারমীন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফয়জুল করিম ময়ুন এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী, যেখানে উপকারভোগী নারী চা শ্রমিক ওয়াজেদা বেগম ও শিউলি রানী দাস প্রান্তিক অসহায় মানুষের জন্য নেওয়া এই মহৎ উদ্যোগের প্রশংসা করে গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানটি সফল করেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: আব্দুল খালিক
আইন-উপদেষ্টা: ব্যারিস্টার ফয়সাল দস্তগীর, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।
উপ-সম্পাদকঃ ফুজেল আহমদ
প্রকাশক কর্তৃক উত্তরা অফসেট প্রিন্টার্স কলেজ রোড, বিয়ানীবাজার, সিলেট থেকে মুদ্রিত ও শরীফা বিবি হাউজ, মেওয়া থেকে প্রকাশিত।
বানিজ্যিক কার্যালয় : উত্তর বাজার মেইন রোড বিয়ানীবাজার, সিলেট।
ই-মেইল: dailyajkersylhet24@gmail.com মোবাইল: ০১৮১৯-৫৬৪৮৮১, ০১৭৩৮১১৬৫১২।
শাফিয়া শরীফা মিডিয়া বাড়ীর একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান দৈনিক আজকের সিলেট, রেজি নং: সিল/১৫৩