কূর্টনৈতিক পাসপোর্ট জমাদিয়েছেন রেলপথ উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান
৩০ জানু ২০২৬, ১১:২৭ অপরাহ্ণ

আব্দুল কাদির তাপাদার:
নির্বাচনের আর মাত্র ১৩ দিন বাকি। এ অবস্থায় অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের অনেকেই কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দিয়ে রেগুলার বা সাধারণ পাসপোর্ট পেতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছেন। মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়,রেলপথ উপদেষ্টা মোহাম্মদ ফাওজুল কবির খান সহ আরো ২ উপদেষ্টা কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন তারা হলেন,স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.), পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রেলপথ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষের দিকে। সামনে নির্বাচন ঘনিয়ে আসছে। ফলে উপদেষ্টাসহ কূটনৈতিক পাসপোর্ট গ্রহণকারীদের পাসপোর্ট জমা দিয়ে দেওয়ার ঘটনা ইতিবাচক মনে করছি। অনেকে হয়তো ঝামেলা এড়াতে আগেই জমা দিয়ে দিচ্ছেন। তিনি বলেন, এ পাসপোর্ট কেবল দায়িত্বকালীন সময়ের জন্যই বৈধ। দায়িত্ব শেষ হলে নিয়ম অনুযায়ী এটি ফেরত দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা রেলনিউজকে বলেন, যোগ্য ও প্রয়োজনীয় ব্যক্তিদের সরকার সাধারণত কূটনৈতিক পাসপোর্ট দিয়ে থাকে। বিদেশে দ্বিপাক্ষিক কোনো বৈঠক, রাষ্ট্রীয় সফরসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কূটনৈতিক পাসপোর্ট ব্যবহার করলে বিশেষ সুবিধা পাওয়া যায়। এখন যেহেতু সামনে নির্বাচন, অন্তর্বর্তী সরকারের অনেক দায়িত্বশীল উপদেষ্টা ও চুক্তিভিত্তিক কর্মকর্তাদের তাদের পূর্বের অবস্থানে ফিরে যেতে হবে। তাই কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দিয়ে রেগুলার পাসপোর্টের জন্য আবেদন করছেন।সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যমতে, গত মঙ্গলবার নিজের লাল কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দিয়ে রেগুলোর পাসপোর্ট পেতে আবেদন করেছেন রেলপথ উপদেষ্টা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে রেলপথ উপদেষ্টা গণমাধ্যমকে বলেন, কূটনৈতিক পাসপোর্ট মূলত রাষ্ট্রীয় কাজের জন্য গ্রহণ করেছিলাম। সামনে নির্বাচন। নির্বাচনের আগে আমার বিদেশ সফরের আর কোনো শিডিউল নেই। ফলে আমি জমা দিয়ে দিয়েছি। সরকারের অন্যান্য উপদেষ্টা বা অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নিয়ে যারা কূটনৈতিক পাসপোর্ট গ্রহণ করেছেন, তাদের সবাই জমা দেবেন কিনা? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, সেটা আমি বলতে পারি না। তবে সামনে নির্বাচন। কারও আর কূটনৈতিক পাসপোর্ট প্রয়োজন না হলে সেটা জমা দিয়ে রেগুলার পাসপোর্টই গ্রহণ করা উচিত।
প্রসঙ্গত, বর্তমানে বাংলাদেশ সরকার তিন ধরনের পাসপোর্ট ইস্যু করে। এগুলো হলো কূটনৈতিক, দাপ্তরিক ও নিয়মিত বা সাধারণ পাসপোর্ট। সাধারণ পাসপোর্ট সবুজ রঙের হয়। এটা আন্তর্জাতিক ভ্রমণের জন্য বাংলাদেশের সাধারণ নাগরিকদের প্রদান করা হয়। দাপ্তরিক পাসপোর্ট নীল রঙের। সরকারি কর্মচারী, সরকারি কর্মকর্তা ও সরকারি ব্যবসায়ের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারকে প্রতিনিধিত্বকারী ব্যক্তিদের সরকারের অনাপত্তি সাপেক্ষে এ ধরনের পাসপোর্ট প্রদান করা হয়। কূটনৈতিক পাসপোর্ট লাল রঙের হয়। এ পাসপোর্ট গ্রহীতারা অনেক দেশে ভিসা সুবিধা, দ্রুত ইমিগ্রেশন ক্লিয়ারেন্স এবং কূটনৈতিক মর্যাদা পেয়ে থাকেন।
উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে একটি লিখিত নির্দেশনা পাঠায়। সেখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়, অতীতে যারা কূটনৈতিক পাসপোর্ট গ্রহণ করেছিলেন, দায়িত্বকাল শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের সবার লাল পাসপোর্ট প্রত্যাহার করতে হবে। একই সঙ্গে বলা হয়, যারা সাধারণ পাসপোর্টের জন্য আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই দুটি তদন্ত সংস্থার রিপোর্ট জমা দিতে হবে।
বাংলাদেশ সরকারের নিয়ম অনুযায়ী কূটনৈতিক পাসপোর্ট পেয়ে থাকেন রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, জাতীয় সংসদের স্পিকার, প্রধান বিচারপতি, সাবেক রাষ্ট্রপতি, মন্ত্রী, চিফ হুইপ, জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার, জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা, মন্ত্রিসভার সদস্য নন কিন্তু মন্ত্রীর পদমর্যাদায় সরকারি দায়িত্বে নিযুক্ত ব্যক্তি; মেয়র, ঢাকা সিটি করপোরেশন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার, জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা, সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতিরা (আপিল বিভাগ), প্রতিমন্ত্রী, নির্বাচন কমিশনার, সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতি (হাইকোর্ট), প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় সরকারি দায়িত্বে নিযুক্ত ব্যক্তি, মেয়র, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল সিটি করপোরেশন, উপমন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, তিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, জাতীয় সংসদের সদস্য, অ্যাটর্নি জেনারেল, মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, চেয়ারম্যান, সরকারি কর্মকমিশন, চেয়ারম্যান, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন, গভর্নর, বাংলাদেশ ব্যাংক, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য, সরকারের সচিব, মহাপুলিশ পরিদর্শক, সেনাবাহিনীর মেজর জেনারেল এবং নৌ ও বিমানবাহিনীর সমপদমর্যাদার অফিসার, রেক্টর, বাংলাদেশ লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, সাভার, ঢাকা; মহাপরিচালক, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা অধিদপ্তর, সরকারের সচিব পদমর্যাদাসম্পন্ন কর্মকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপাচার্য, বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশনের সদস্য, মহাপরিচালক-প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর, মহাপরিচালক-বিজিবি, বিদেশে বাংলাদেশ মিশন ও উপমিশন প্রধান, বিসিএস (পররাষ্ট্র) ক্যাডারভুক্ত কর্মকর্তা (যখন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে কর্মরত থাকেন), বাংলাদেশের দূতাবাস, উপদূতাবাসে প্রেষণে কূটনৈতিক দায়িত্বে নিয়োগকৃত প্রতিরক্ষা বাহিনীর কর্মকর্তাসহ সব সরকারি কর্মকর্তা।
এই সংবাদটি পড়া হয়েছে : 991 বার