ইমনের মরদেহ নিতে সিলেটে স্ত্রী

Daily Ajker Sylhet

দৈনিক আজকের সিলেট

২৩ মে ২০২৬, ০১:৫৯ অপরাহ্ণ


ইমনের মরদেহ নিতে সিলেটে স্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার :
সিলেটে ছিনতাইকারী ধরতে গিয়ে নিহত হওয়া র‌্যাব-৯ এর সদস্য ইমন আচার্য পরিবারের আর্তনাদ যেন থামছে না। পুরো পরিবার বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। সেই সাথে হাসপাতালের মর্গের সামন বসে আহাজারি করছেন ইমনের ভাইয়েরাসহ স্বজনরা। এদিকে স্বামীর লাশ গ্রহণ করতে ইতোমধ্যে সিলেটে এসে পৌঁছেছেন নিহত ইমনের স্ত্রী।

হাসপাতালের মর্গের সামনে বসে সৃষ্টিকর্তার কাছে ভাইকে ফিরিয়ে দেয়ার আকুতি জানিয়ে বলেন, ‘ভগবান আমার ভাইকে আমার কাছে ফিরিয়ে দাও, ‘আমি কিভাবে থাকবো তাকে ছাড়া?’

নিহত ইমনের গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার ধলই ইউনিয়নের আশ্চর্য পাড়ায়।
​শনিবার (২৩ মে) দুপুরে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গের সামনে এই হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখা যায়।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ইমন আচার্য চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হোন। বিয়ের তিন মাসের মাথায় এমন ঘটনা কেউ মেনে নিতে পারছেন না। ঘটনার ১৫দিন পূর্বে তিনি তার গ্রাম থেকে সিলেটে কর্মস্থলে ফিরে আসেন। ২০১৮ সালে পুলিশ বাহিনীতে কনস্টেবল হিসেবে যোগদান করেন। পরে ২০২৫ সালে র‍্যাব-৯ এ সংযুক্ত হন।

তবে এই ঘটনায় এখনো মামলা দায়ের হয়নি বলে জানিয়েছেন র‍্যাব-৯ এর মিডিয়া অফিসার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ। তিনি বলেন, এ ঘটনায় মামলা দায়ের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার দুপুরে কোতোয়ালি থানা লাগোয়া কয়েকজন ছিনতাইকারী ও মাদকসেবী বসে মাদক সেবন করার সময় পুলিশের একটি দল তাদের ধাওয়া করে। পুলিশের তাড়া খেয়ে মাদকসেবীরা দৌড়ে পালাতে শুরু করলে ওই এলাকায় সাদা পোশাকে থাকা র‌্যাব সদস্য ইমন আচার্য পুলিশকে সহযোগিতা করতে এগিয়ে যান। তিনি ছিনতাইকারী আসাদুল আলম বাপ্পীকে জাপটে ধরেন। দুজনের তীব্র ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে বাপ্পী ধারালো ছুরি দিয়ে ইমনের বুকের বাম পাশে আঘাত করে। রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত অবস্থায় ইমনকে উদ্ধার করে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিসিইউ-২) চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুরে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, র‌্যাব সদস্যকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যাওয়ার সময় ঘাতক বাপ্পী তোপখানার একটি বাসায় ঢুকে পড়ে। বাঁচার শেষ চেষ্টা হিসাবে সে এক শিশুর গলায় ছুরি ধরে পরিবারকে জিম্মি করার চেষ্টা চালায়। পরবর্তীতে পুলিশ ও র‌্যাবের যৌথ দল অত্যন্ত নিখুঁত ও কৌশলী অভিযান চালিয়ে জিম্মি শিশুর প্রাণ রক্ষা করে। পরে ঘটনাস্থল থেকেই হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা ছুরিসহ আসাদুল আলম বাপ্পীকে পুলিশ গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

সিলেট মহানগর পুলিশের কোতোয়ালি থানার ওসি মাইনুল জাকির বলেন, র‌্যাব সদস্য ইমন হত্যার ঘটনায় থানায় সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে অভিযোগ দাখিল করবে তার পরিবার। যদি অভিযোগ দাখিলে বিলম্ব হয় তাহলে হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত বাপ্পীকে আগের মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হবে। পরে থানায় ইমন হত্যার অভিযোগ দাখিল করার পর তা হত্যা মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করার পর ছিতাইকারী বাপ্পীকে সেই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হবে।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে : 997 বার