অপরাধীর কাছে পুলিশের ওয়াকিটকি, বেঁচে গেলেন কামরুল
২৫ ফেব্রু ২০২৬, ১০:১৬ পূর্বাহ্ণ

স্টাফ রিপোর্টার:
ভোলাগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই কামরুল আলম। তার ওয়াকিটকি ও প্রাইভেটকার সবসময় নিজের কাজে ব্যবহার করতেন পুলিশ কামরুল আলমের বন্ধু গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক লিটন মিয়া ও তার সহযোগীরা। ওয়াকিটকি আর প্রাইভেট কার নিয়ে তারা চোরাচালানের মালামাল ধরার জন্য রাতের বেলা নেমে পড়তেন রাস্তায়। পরিচয় দিতেন তারা পুলিশের লোক। রফাদফা না করলে চোরাচালানের মালামালসহ ধরে নিয়ে যেতেন এসআই কামরুল আলম। মোটা অংকের টাকার বিনীময়ে সড়কেই রফাদফা হয়ে গেলে চোরাচালানের মালামাল তারা নিরাপদে পৌঁছানোর ব্যবস্থাও করে দিতেন।
অপরাধীদের হাতে পুলিশের ওয়াকিটকি ও প্রাইভেট কার এসআই কামরুল আলমের হলেও তাকে মামলার আসামী করা হয়নি রহস্যজনক কারণে। তবে তাকে কোম্পানীগঞ্জ থানা থেকে জেলা পুলিশের উধ্বর্তন কর্মকর্তার মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) নির্দেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে।
অপরদিকে, এসআই কামরুল আলমের বন্ধু গণঅধিকার পরিষদ কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার আহ্বায়ক লিটন মিয়া ও কোম্পানীগঞ্জের জুনায়েদ আহমদকে মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায় পুলিশ।
তবে একটি সূত্র জানায়, এয়ারপোর্ট থানার এসআই মনির হোসাইন বাদী হয়ে লিটন ও জুনায়েদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। তবে রহস্যজনক কারণে পুলিশের দায়েরকৃত মামলায় প্রত্যাহারকৃত এসআই কামরুল আলমকে আসামি করা হয়নি। জেলা পুলিশ কামরুল আলমের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখছে। ইতোমধ্যে পুলিশ কাজও শুরু করেছে। তদন্তকালিন সময়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে কামরুল আলমকে। ডাকাতি সংগঠনের উদ্দেশ্যে সমবেত হওয়ার অভিযোগে মামলাটি দায়ের করা হয়।
মামলায় উদ্ধার দেখানো হয়েছে ওয়াকিটকি, চাইনিজ কুড়াল ও প্রাইভেট কার। একই সাথে মামলায় উল্লেখ করা হয়, ওয়াকিটকি পুলিশের সরঞ্জাম।
পুলিশ জানায়, সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে সিলেট সদর উপজেলার এয়ারপোর্ট এলাকার বাইপাস রোডে চেকপোস্ট বসায় থানা পুলিশ। চেকপোস্ট চলকালে এসআই কামরুল আলমের প্রাইভেট কারটি আটক করে পুলিশ। এসময় কার তল্লাশি চালিয়ে পুলিশের ওয়াকিটকি আর চাইনিজ কুড়ালসহ গণঅধিকার পরিষদ কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার আহ্বায়ক লিটন মিয়া ও জুনায়েদ আহমদ আটক করা হয়।
সূত্রে জানা গেছে, ভোলাগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই কামরুল আলমের ঘনিষ্ঠ বন্ধু লিটন মিয়া। অপরাধের জগত যেন তাদের একই। অপরদিকে জুনায়েদ আহমদ তাদের বন্ধু। তারা এলাকায় বালু, পাথর ও চোরাই মালামাল বহনকারী লাইনম্যান হিসেবে এলাকায় পরিচিত।
এয়ারপোর্ট থানার ওসি শাহ মো. মোবাশ্বির আলী বলেন, আমাদের চেকপোস্টে তল্লাশিকালে ভোলাগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ কামরুল আলমের ব্যবহৃত প্রাইভেটকার থেকে চায়নিজ কুড়াল ও একটি ওয়াকিটকিসহ দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। ওয়াকিটকি ও গাড়ির মালিকানা বিষয়ে তদন্ত চলছে। এসআইয়ের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভোলাগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই কামরুল আলম বলেন, ‘ওয়াকিটকি ও প্রাইভেটকার দুটিই আমার। এবং আটক লিটন মিয়া আমার বন্ধু। ওই গাড়িতে তিনিও তাদের সঙ্গে ছিলেন। হঠাৎ তিনি জানতে পারেন কোম্পানীগঞ্জের পাড়ুয়া এলাকায় সংঘর্ষের জন্য মানুষজন প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাই তারা পাড়ুয়া চলে যান। সেখানে গিয়ে তারা একটি দেশীয় কুড়াল পেলে সেটা গাড়িতে তুলে নেন। এরপর গাড়িতে গ্যাস নেওয়ার জন্য লিটন ও জুনায়েদ চলে আসেন। তখন ওয়াকিটকি ও কুড়াল গাড়িতেই ছিল। গ্যাস আনতে যাওয়ার সময় তাদের আটক করে পুলিশ।’
কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি শফিকুল ইসলাম খান জানান, ওয়াকিটকি এসআই কামরুলের হওয়ায় তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। সেই সাথে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই সংবাদটি পড়া হয়েছে : 999 বার